আর ও একটা – দেবযানী দত্ত

Devjani Dutta
দেবযানী দত্ত

আকাশ আবার মেঘলা,
আবার একটা কবিতা হবে সৃষ্টি’
আবার একটা পাতায় পড়বে আঁচড়
মনের উপর উঠবে আবার ঝড়,
পড়বে স্মৃতির পাতায় দৃষ্টি ।
একটু পরেই ঝড় থেমে—
পড়বে শুধুই অবিরাম বৃষ্টি॥

–দেবযানী দত্ত

পি এন পি সি – দেবযানী দত্ত

পি এন পি সি
দেবযানী দত্ত
পি এন পি সি
পি এন পি সি

[পদী পিসির বাইরের দরজা সামনে বিকাল হলেই বসেন পাড়ার বয়স্কা মহিলার . তাদেরই কথা বার্তা ]
বাড়ুজ্যে গিন্নি — হা গো হারু র মা শুনেছিস কথা !!! ছি ছি অধিকারী দের বউটা কি দজ্জাল লো,!!!

হারুর মা : —-কেনো কি হলো খুরি ??

বারুজ্যে গিন্নি :— ওলো পুলিশ এসেছিলো এক্ষুনি .. বলি ওদের বউটা বাপের বাড়ী যাওয়ার নাম করে থানায় নালিশ করে দিয়েছে..!!!

হারু র মা : —তা ওদের বাড়ীতে দিনরাত ঝামেলা কাক -চিল বসতে পায়না বাছা—–

দাস গিন্নি : তবু বাড়ির বউ থানায় যাবে গা !!!!

বা ড়ুজ্যে গিন্নি : —শুনছি নাকি কাল একটু মারধোর বেশি করেছিলো … তা বাপু আমরা ও তো মার খেয়েছি এককালে ,তা থানায় আবার কবে গেলুম !!!!! বলো তোমরা !! কে গেছো থানায় ???

হারুর মা : একদিনে কি সুখ আসে গা !!!
!
বারুজ্যে গিন্নি :
আমার নাত বউ কে তো দিন রাত মদ খেয়ে পেটায় নাতি টা .. একটা মুখ ফুটে রা বের করুক দেখি !!!!

দাস গিন্নি : আমার বউ মা কে আমার ছেলে টাইট করে রেখেছে, একটু বেচাল দেখলেই বউ র বুড়ো দাদু কে ডেকে কড়কে দেয়, সে ছাড়া তো বউ র কেও নায় ..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : তা তোমার বউ লক্ষ্মী মেয়ে, সারাদিন কতো কাজ করে, মুখে টু -শব্দটি নেয় ..

দাস গিন্নি : হ্যাঁ. মুখে হাসি ও নায় , মর গা আমি অত হেদায় না . ছেলে ও আমার অত বউ নেওটা নয়, তাতেই একটু রেগে গেলেই বউ কে পেটায়, ..


হারুর মা : তা ও দাস দি ,–তোমার মেয়েটা কেমন আছে গো ???

দাস গিন্নি : —(এক গাল হেসে ) তা বাপু আমার মেয়ের ভাগ্য বলতে হবে, জামাই মেয়ে কে নিয়ে গিয়ে বাসায় রেখেছে…

বাড়ুজ্যে গিন্নি : বলো কি গো !! (গালে হাত ) বুড়ো মা টা একা থাকে ভিটে আগলে !!!

দাস গিন্নি : –কেনো তোমার মেয়ে ও তো তার শাশুড়ি কে দেখেনি গো !!! শুনেছি সে বুড়ি তার মেয়ের ঘরে গিয়ে মরেছে !!!

বাড়ুজ্যে গিন্নি : —নে নে তোর মেয়ের কথা বল্, আমার মেয়ের কেচ্ছা তোকে আর গায়তে হবেনা ..

দাস গিন্নি : হ্যাঁ. শুধু কি তায় !!! মেয়ে কে আমার কুটো টি ভেঙ্গে দুটো করতে হয়না .. ।কাজের মেয়ে আছে, জামাই রাতে বাসায় ফিরে হয় নিজে রান্না করে.না হয় হোটেলে র খাবার আনায়, চুড়িদার পরে, যখন তখন ঘুরতে যায় !! জামাই আমার খুউব ভালো,.. (মুখে এক মুখ হাসি )

টুকু (কাজের মেয়ে পদী পিসির ঘর থেকে বেরুবার পথে ): —-
চলো গো সব গিন্নি মা রা .ছোঁয়া পরে যাবে ..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : টুকু পদী নায় নাকি রে !!

টুকু : না গো, পিসি মেয়ের বাড়ী গেছে , নাতিকে দেখতে..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : তা তুই তো অধিকারী বাড়িতে ও কাজ করিস !!! কি হয়েছিলো রে ?

টুকু : —দেকো বাপু,তোমাদের সব কূট কাচালিতে আমি নাই, গরীব মানুষ খেটে খায় আমরা .. আমাদের ঘরে বৌ -মেয়ে -ছেলে – পুলে দুবেলা গায়ে গতরে খেটে সংসার চালায়, অত ঘরের বৌ র পিছনে লাগিনা। তোমাদের সব নিজের মেয়ে ভালো থাকলে খুশি আর পরের মেয়ে ঘরে এনে নির্যাতন, .. আমার কাজ আছে গো … যাই …(প্রস্থান )..

বাড়ুজ্যে গিন্নি :–মাগী র মুখ দেখ !!বলি খাস তো পরের বাড়ীর ঝি গিরি করে !! একটা কথা শুধালাম ,তো আমাদেরই নিন্দে করে গেলো গা !

দাস গিন্নি : তাও আবার মুখের সামনে, বলি আমাদের মেয়ের মরমো তোরা কি বুঝবি !!!কতো খরচ করে আর আদরে তাদের মানুষ করেছি !

বাড়ুজ্যে গিন্নি : –না গো চলো। সন্ধ্যে নেমে এলো, প্রদীপ দেখায় গে । নাত বউ , সে মহারানী তো আবার এখন পুকুর ঘাটে গেলেন গা ধুতে, ধান সিদ্ধ করে উদ্ধার করেছেন আমায় ..॥

–দেবযানী দত্ত

মা হারা – দেবযানী দত্ত

দেবযানী দত্ত

দুগ্গা মা আসছো নাকি তুমি ,
সবাই দেখছি হাসি খুশি ,
আমার মন শুধুই কেনো
করছে পাগলামী !!!

মনে পড়ছে পুজো এলেই
যেতাম মার কাছে ছুটে ,
তাঁর কোলের ‘পরে
পড়তাম আমি লুটে ।

আজ আর কেনো
লাগছে না মা তবে
কোন আনন্দ মনে ,
ঢাকের সুরে বাজছে
যেন বিষাদ সুর
মনের নিভৃত কোণে ।

শান্ত হতাম
মা র ছোঁয়ায় সেদিন
শান্তি পেতাম
গাঁয়ের শীতল ছায়ে ,
বুঝতে পারি
হারিয়েছি আমি
মায়ের সাথে গাঁয়ে ॥

–দেবযানী দত্ত

শৈশব – দেবযানী দত্ত

Devjani Dutta

দেবযানী দত্ত

শৈশব মানে
মায়ের কোল ,
বাবার ধমক ,
ঠাকুমার আঁচার ,
পিসির সাজের জিনিস
লুকিয়ে নিয়ে
ভূতের মতো সাজা।
দুপুর বেলা না ঘুমিয়ে
পাশের বাড়ীর
গোয়াল ঘরে —
পুতুলের বিয়ে ।
আর ও আছে শৈশবে —
একটা ভাঙ্গা ব্লেড দিয়ে
রান্না বাটির আনাজ
কাটতে হবে …
শীতের দিনে
ক্ষেতে গিয়ে
ছোলা গাছে
হামলা দিয়ে
তারপরেতে
আখের ভূঁয়ে
আখ ভেঙ্গে খাওয়া ।
আর ও তো
অনেক কিছু
আছে শৈশবে ,
যখন ই থাকবো একা
রানু ,মিতা , নূপুর —
তোদের জন্য
দু ফোঁটা চোখের জল
ঠিক গড়াবেই ॥

–দেবযানী দত্ত

ছল করিসনে – দেবযানী দত্ত

woman

দেবযানী দত্ত

ও পুরুষ ! ! তুই মরদ হবি মোর ! ! !
সঙ্গে মোরে রাখতে চাস তোর ? ? ?
কি বলছিস্? ? ঘর বান্ধবি ! !
নদীর ধারের ভুই এ .—
বেশ তাহলে সন্ধ্যা বেলা
থাকবো মোরা ডিঙ্গা র ‘পরে শুয়ে ।
ও পুরুষ তুই আনবি গেঁন্দাফুল ,
গলায় শুধু নয় রে পুরুষ —
ওই মালায় তুই বেঁধে দিস
আমার এলো চুল ।
কি বলছিস ??
আমায় তুই ভালোবাসি স !!!!
যখন তখন তুই
তাই কি কাছে আসিস,
হাতের ‘পরে হাতটি রেখে
তাই কি পাশে বসিস্ ? ?
ভালোবাসার ছল তুই
করিসনে মোর সনে —-
তোর চোখের ওই আয়নায়
দেখে লিবো মুই
কি আছে তুর মনে ॥

–দেবযানী দত্ত

বৃষ্টি ভেজা – দেবযানী দত্ত

Rainy Morning

দেবযানী দত্ত

@@@@@@
একটা বৃষ্টি ভেজা
মেঘলা সকাল ,
গাছগুলো সব
ভিজেই চলেছে অবিরাম —–
মনে হচ্ছে ,–
গাঝাড়া দিয়ে এখুনি বলবে তারা ,
‘ভিজে কাজ নেই আর ,
আমরা চললাম ।
বিরহিণী বধূ
বসে আছে জানালায় ,
আনমনা সে
হাত দিয়ে তার গালে ।
বৃষ্টি হয়তো
তারও টানছে মন—
স্বামী র সাথে
ভিজবে সে কোন কালে …..!!!
শুধু আমাকে
ভিজতে পারছেনা
তোমার আবেগ ভরা
কোনো আমন্ত্রণ ।
মনের মধ্যে দিয়েছো যে ব্যথা—
অশ্রুজলে সিক্ত সেথা হতে
উঠে আসছে গন্ধ সোঁদা সোঁদা ॥

–দেবযানী দত্ত

মেঘ জমেছে – দেবযানী দত্ত

মেঘ

দেবযানী দত্ত

আকাশ তুমি কইলে কি
আমার মনের কথা ????
মনে ও কি মোর মেঘ জমেছে!!!
জমে আছে কি ব্যথা ??

তুমি হয়তো ঝড়ে যাবে
বৃষ্টি হয়ে মাটির ‘পরে —
আমার ব্যথা অশ্রু হয়ে
হৃদয় মাঝেই ঝড়ে পড়ে ॥

–দেবযানী দত্ত

মায়ের বাড়ী

মা
Poem by Devjani Dutta
মা
মা

আমার জনম দায়ী মাকে আমি
পাবো কি মা !!তোমার বাড়ী গেলে ??
তা যদি মা পাই ,তবে ঠাঁই দিও মা
তোমার ওই রাঙ্গা চরণ তলে ॥

–দেবযানী দত্ত

নীরব আমি

Devjani Dutta

নাইবা হলো কথা
@@@@@@@@@

নাইবা হলো কোনো কথা
মুখে কিংবা কাগজ-কলমে,
মন জানে কি যে ব্যথা সঙ্গপনে
আছে তোর মনে মোর মনে ।।।
________:
দেবযানী দত্ত