হিরোশিমা – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

# হিরোশিমা #

প্রকৃতির রোষে ঘটে সুনামি
কিংবা কয়েক সেকেন্ড এর কম্পনে
নড়ে ওঠে গুজরাট।
প্রানের সমাধির বেদির উপর,
গড়ে ওঠে আশার সভ্যতা।
তবু ও সৃষ্টিরা থেমে থাকে না।
সৃষ্টিরা থমকে যায় পৈশাচিক উল্লাসের কাছে,
ঠান্ডা ঘরের মধ্যে আলো আঁধারির পরিবেশে
বাতাসে ওড়ে শ্যাম্পনের ফোয়ারা।
খেলা চলে যুদ্ধ যুদ্ধ।
মনুষ্যত্বের ফেরিওয়ালারা
ক্ষমতার জয়গান গেয়ে আলিঙ্গনে লিপ্ত হয়।
আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের লাশ
শুয়ে আছে, বিশ্ব মানবতার হৃদয়ে।
বুকের পাড়ায় হামাগুড়ি দিয়ে
উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ক্ষুদ্র মানবতা।
দানবের রোষে যদি ঘটে কোন
ধ্বংসের খেলা।
সেখানে নতুন করে জেগে ওঠে না
আর কোন প্রানের সভ্যতা।
ইতিহাস তৈরি হয় নির্মমতার।
আর তার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
ওলিয়েন্ডার ফুল।

– পার্থসারথি দত্ত

তোমায় দিলাম – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

পাখি তোমায় আকাশ দিলাম আমি
নরম আলোয় ভিজিয়ে এসো গা,
পাখি, তোমায় মুক্তি দিয়েছি যে
নীল সাগর এ ডুবিয়ে নিও পা।
চাঁদ কে যদি হঠাৎ ছুঁতে চাস
ইচ্ছে হলেই মেলতে পারিস ডানা
শুনেছি তোর বৃষ্টি ভালো লাগে
মেঘের বাড়ি তাই কি আনাগোনা?
আমার আবার পাহাড় ভালো লাগে
বৃষ্টি হয়ে ঝরিস যদি তুই,
তুই তো আবার আকাশ হতে চাস
ইচ্ছে করে একটু তোকে ছুঁই।

–পার্থসারথি দত্ত

অনাহারে রাজধানীর বুকে শিশু মৃত্যু – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

খোদ রাজধানীর বুকে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু অবাক করে দেয়। মনে করিয়ে দেয় আমলাসোলের ঘটনা। ভাবতে খুব অবাক লাগে স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা পারিনি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে। আজও অপুষ্টির শিকার বহু মানুষ। পথশিশুদের খাবার খেতে হয় কুকুরের সাথে লড়াই করে। ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টে ভাগ বসাতে হয় তাদের। মুষ্টিমেয় শিল্পপতিদের ঘরে জমছে কালো টাকার পাহাড়। যে দেশে রাজনীতিবিদদের দেশ চালাতে হয় না। দেশ চলে শিল্পপতিদের অঙ্গুলিহেলনে সেই দেশে এর চেয়ে বেশি আর কিই বা আশা করা যায়? তাতে করে কয়েক টা নর্দমার কীট মারা গেলে কার কি যায় আসে?
মনুষ্যত্ব বিক্রি করেছি,
বিবেক গিয়েছি ভুলে
পিঠের চামড়া খুলে দিতে রাজি,
জুতো বানানোর হলে।
কিবা যায় আসে, পথশিশু ম’লে?
ওরা তো আবর্জনা,
হাজার মরলে সরকারি মতে
হবে সেটা হাতে গোনা।
দেশ ডিজিটাল করতেই হবে,
আটা নয় দাও ডেটা।
হাসি মুখে এসে গিন্নী কে বলি ,
ভালো কাজ করে বেটা।
খাদ্যে যা টুকু ভুর্তকি দেয়,
অর্ধেক যায় চুরি।
গরীবের ভাগে কানাকড়ি জোটে,
রাজাদের বাড়ে ভূঁড়ি।
আমি তো আবার বিদ্রোহ করি
ফেসবুকে করি চিৎকার,
লাইক, কমেন্ট, হাততালি দিয়ে
কেউ বলে ধিক্ ধিক্কার।
কাজের কাজ তো কিছুই করি না
দু কলম লেখা ছাড়া।
কি করে করব? দুর্বল মোরা
নুয়ে গেছে শিরদাঁড়া।
ছাপোষা মানুষ বিদ্রোহ করে
শুধু শুধু জেল ঘোরা
ভীরু কাপুরুষ তকমা লাগুক
তবু সুখী আছি মোরা।

– পার্থসারথি দত্ত

যদি চলে যায় – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

যদি চলে যায় কোনদিন
পৃথিবীর এই ধুলোমাটি পথ ছেড়ে,
যদি মরন আসে কভু,
তোর কাছ থেকে আমাকেই নিতে কেড়ে।

পারবি সেদিন আগলে রাখতে মোরে?
পারবি, সেদিন বাঁধতে সে ফুলডোরে?
যে ফুল দিয়ে মালা গেঁথেছিনু ওরে
আজ সেই মালা ধুলায় লুটাই যেরে।

সে মালায় ছিল হাজার তারার আলো
রামধনু রং ভিড় করেছিল তাতে।
আর ছিল তাতে অনেক স্বপ্ন আঁকা
যে স্বপ্ন মোরা দেখেছিনু একই সাথে।

আজ তা মলিন, সবই হোল শেষ যে রে,
পারবি কি আর বাঁধতে সে ফুলডোরে?

– পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – তৃতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

➡ ➡ (…“অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

বড় গেট পেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দুপাশে সুন্দর করে সাজানো বাগান। ফুল গাছ গুলি সুন্দর সুন্দর ফুলে ভরে আছে। আমারা যখন বাড়িতে ঢুকি কাকাবাবু তখন গাছগুলি তে জল দিচ্ছিলেন। গাছেদের পরিচর্যা ছেড়ে উনি চলে এলেন আমার কাছে। যেন কতদিনের চেনা। কত আপন সবাই। আমাদের উপরের ঘরে বসতে বলে আবার বাগানের দিকে গেলেন। আমি আর রাজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। একটা সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসছে।রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য আছে। যতবারই শুনি ততবার সেই মানুষটার প্রেমে পড়ে যায়। “সে চলে গেল, বলে গেল না। সে কোথায় গেল, ফিরে এলো না।” বাহ্, বেশ সুন্দর গান টা। কে চালিয়েছে রে? হঠাৎ একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম রাজার চোখে মুখে। এতক্ষণের প্রাণবন্ত উচ্ছল মানুষ টা হঠাৎ করে শামুকের মতো গুটিয়ে গেল কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম কি রে ঠিক আছিস তো? শরীর খারাপ লাগছে? না বলে প্রত্যুত্তর দিয়ে উপরে উঠতে লাগল। অগত্যা আমি ও আর কথা না বাড়িয়ে ওর পিছনে পিছনে উঠতে শুরু করলাম। উপরে উঠে রাজা একজন কে দেখিয়ে বললো এ আমার বোন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ওর রুমের ভেতর থেকেই আসছে গানের আওয়াজ টা। দেখে মনে হল বদ্ধ উন্মাদ। উসকো খুসকো চুল। শরীরে আলুথালু বেশ। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাড়ির সিলিং এর দিকে। যেন এক চাতকির দৃষ্টি। আকাশের বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সিলিং এ একটা ছোট্ট মাকড়সা তার জালের মধ্যে আপন মনে খেলা শুরু করেছে। হয়তো সেটাই দেখছে সে। চোখের কোনে কালি পড়েছে।মুখ দেখে সত্যিই খুব মায়া লাগছে।বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। রাজা আমার কাঁধে হাত রাখল। আমি চমকে উঠলাম। পরক্ষণেই পিছন ফিরে দেখি রাজার চোখ দুটো জলে ভিজে গেছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছি না। অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছি।ভাষা পাচ্ছি না। ঠিক বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করবো। কিই বা জিজ্ঞেস করব। ও ইশারাই ডেকে ফাঁকা ছাদের উপর গিয়ে দাঁড়ালো। আমি ও এলাম। সূর্যের শেষ আলো আস্তে আস্তে গিলে ফেলছে অন্ধকার। পশ্চিমাকাশ তখন ও আবীরে রাঙা। বিষন্নতায় ভরা সাঁঝের বাতাস। এখনও দুএকটা ঘুড়ি পতপত করে উড়ছে আকাশে। আমি নির্বাক চলচ্চিত্রের মতো দাঁড়িয়ে আছি।
কিছু বলবো ভাবছি। কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে ওই শুরু করলো। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের কথা। তখন ও মাধ্যমিক পাশ করে ইলেভেন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনাই খুব ভালো ছিল পৃথা। আর সাথে গানের গলা ছিল অসাধারণ। এখানকার হাই স্কুলেই পড়াশোনা করত।সরস্বতী পুজোর দিন ও আর জয়ন্ত একই সঙ্গে “কোলাজ” নাটকে অভিনয় করে। ওর মুখ থেকে শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে ছায়াছবির মতো ভেসে উঠল দিন গুলি।
মাসি- “আচ্ছা আদিত্য তোর সিরাজের অভিনয় টা মনে আছে?
আদিত্য – হ্যাঁ মাসি, মনে আছে। আচ্ছা মাসি তোমার স্টার থিয়েটারের অভিনয় টা মনে পড়ে? কি যেন, কি যেন রোলটা ছিল?
মাসি – সুভাষ বোস।
আদিত্য – হ্যাঁ। হ্যাঁ মাসি আমি সেই সুভাষ বলছি,” তোমারা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো ”
সুপ্রিয়া – আদিত্য দা?
আদিত্য – কে? গলাটা চেনা চেনা লাগছে।
সুপ্রিয়া – আমি সুপ্রিয়া
আদিত্য – এসো এসো সুপ্রিয়া
সুপ্রিয়া – এখন আমি পথের ভিখারিনী, খেতে পাইনি।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, শিল্পীর কদর এ বাংলা দিতে পারলো কৈ।
সুপ্রিয়া – অভিনয় করে সারা জীবন কাটালাম। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায় এসে, একটু শান্তি পেলাম না। উঃ বড় কষ্ট হয়।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, ঐ দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর। ”
” ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু। পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়ে পড়ি কভু। ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।”

✍️✍️ চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো ভালোবাসি
শুধু একবার বলো কাছে চাও
শুধু একবার বলো প্রিয়তম
কাছে এসে দু হাত বাড়াও।
আমারে জড়িয়ে ধরে বল
হৃদয়ের সব কথা আজ,
আমি শুধু চোখে চোখ রেখে
দেখে নেব মুখে রাঙা লাজ।
বাতাস কে বলি থেমে যাও
এসেছে আমার কাছে প্রিয়া
চাঁদ কে বলবো ডুবে যাও
জুড়াক এ ব্যাকুল হিয়া।
আজকে মোদের গোপন অভিসার
সেকথা জানব শুধু তুমি আর আমি,
আজকে খুশির বাঁধ ভেঙে যেতে দাও
বেরিয়ে আসুক আমাদের পাগলামি।
আজকে শুধুই কথা হবে দুজনার
চোখে চোখ রেখে হারাতে চাইছে মন
যত ঢেউই আজ উঠুক সাগর জলে
তীরেতে সাজানো প্রেমের বৃন্দাবন।
ডুবে যেতে দাও আকাশের যত তারা
উঠুক জ্বলে তোমার নয়ন দুটি
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অধিকার বুঝে নেব
আজকে কিন্তু চাইলে পাবে না ছুটি।
প্রেম যদি আজ ঢেউ তুলে নদী বুকে
ডুবে যেতে দাও আমাদের ছোট তরী
তার চেয়ে চলো আমরা দুজন মিলে
পৃথিবীর কোনে আজ খেলা ঘর গড়ি।

–পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

দ্বিতীয় পর্ব:
রাজা অনেক বার আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি সময় করে উঠতে পারিনি। বারবার না বলতে কোথাও যেন নিজের বিবেকে বাধে। তাই আজ ঠিক করেই রেখেছি ওদের বাড়ি যাব। ওদের বাড়ি সিরকাবাদ গ্রামে। অযোধ্যা পাহাড়ের ঠিক উল্টো দিকে। পাহাড় ডিঙিয়ে পৌঁছতে হয় ওদের গ্রামে।
বর্ষা শেষ হয়ে শরতের আকাশ মেঘমুক্ত। স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ আলোয় ধৌত প্রকৃতি।পথের দু’ধারে কাশফুল গুলি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতের উপর লুটিয়ে পড়ছে হাওয়া। একটা পাখির মিষ্টি ডাক শুনে হঠাৎ গাড়ি থেকে নামলাম। রাজা কে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা পিউকাহা পাখির ডাক। নাম না জানা আরও কিছু পাখির আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে বিকেলের পরিবেশে । হলুদ সবুজ প্রজাপতির ইচ্ছে হাওয়ায় গা ভাসানো। গ্রামের মহিলারা মাথায় ভারি ভারি কাঠের বোঝা নিয়ে নামছে পাহাড়ের গা বেয়ে। ছাগলের পাল নিয়ে পাহাড়ের পথ ধরে নামছে মাঝ বয়সি একজন মানুষ ও মহিলা। মানুষটি বেঁটে হাইট, কালো ছিপছিপে গড়ন, শরীরে লুঙ্গি ও বড় হাতওয়ালা গেঞ্জি। ছোট বড় ছিদ্র দিয়ে ভেতরের বুকের কিছু অংশ চোখে পড়ছে । কাঁধের উপর মস্ত কাঠের ছাতা আর মাথার উপর গামছা জড়ানো। রাজা কে দেখে একগাল হেসে বললেন, “খুঁড়া ঘর চললে ন কি ব?” মুখে কাঁচা পাকা দাঁড়ি, হলদে হয়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকে শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদের হাসির রেখা। রাজা উত্তর দিল হ্যাঁ বলে। “আর তোর সাথে ইটা কে বঠে”? রাজা পরিচয় করিয়ে দেয় আমার সাথে বলে এটা আমাদের হাসপাতালের নতুন ডাক্তার বাবু। কোলকাতা থেকে এসেছে। ভদ্রলোক হাত দুটো জড়ো করে পননাম ডাকতার বাবু বলে উঠলেন । আমি প্রতি নমস্কার জানালাম। কিন্তু নিজের ই খারাপ লাগছিল।আসলে প্রণাম শব্দ টা খুব অপরাধী করে তোলে আমাকে। আমি ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলাম।
পাক খেতে খেতে আমাদের গাড়ি উঠছে অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে। অযোধ্যা পাহাড়ের গায়ে দুটো ড্যাম। একটা পাহাড়ের মাঝ বরাবর যেটা লোয়ার ড্যাম আর একটা সবার উপরে যেটা আপার ড্যাম। যেদিকে তাকাই এক অদ্ভুত মোহময়তা আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। নাম না জানা ফুল গুলো সুন্দরী অযোধ্যার শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই আপার ড্যাম পেরিয়ে পাহাড়ের উপর গ্রাম গুলো দেখতে দেখতে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। পাহাড়ের থেকে নীচে নামতে নামতে দেখছি ভুট্টা আর আঁখের ক্ষেত। সবুজের হিল্লোলে চোখ জুড়িয়ে ওদের বাড়িতে পৌঁছলাম।

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

খুঁজে দেখো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

খুঁজে দেখো
জানি তুমি চলে গেছো দূরে
স্মৃতিটুকু ফেলেছো কি মুছে?
তোমার ও ভাঙাচোরা মনে
হয়তো বা দাগ রয়েগেছে
খুঁজে দেখ।
এখনও কি বৃষ্টিরা এলে
ছুটে গিয়ে উঠোনে তে ভেজ?
এখনও কি চাঁদের কপালে
আমার এ মুখ খানি খোঁজ?
বৃষ্টির জল হয়ে লেগে থাকি
জানালার কাঁচে,
এখনও তো মন পুড়ে
তোমার ঐ সোহাগের আঁচে।
অভিমানে ঝরে গেছি পলাশের ই মত।
খুঁজে দেখ।

‌– পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – ১ম পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
Story by পার্থসারথি দত্ত

প্রেম হোল ঐশ্বরিক সম্পদ। বাংলা বর্ণমালায় এমন কোন শব্দ নেই যা দিয়ে এর যথাযথ মানে বের করা সম্ভব। তাই তা বর্ণনা করার দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা আমি করিনি। শুধু চেষ্টা করেছি এক অব্যক্ত, অন্তহীন প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী মনের প্রেমটাকে আপনাদের চোখের সামনে তুলে ধরার।
রাজা আমার বন্ধু। সহপাঠী নয়। একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করার সুবাদে। আমি কোলকাতার ছেলে। মেদিনীপুর থেকে ডাক্তারী পাশ করে, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে এসেছি পোস্টিং নিয়ে। অবশ্যই ইচ্ছে করে।রড় হয়ে ডাক্তার হবো ও গ্রামের মানুষ দের সেবা করব এটাই ছিল স্বপ্ন। বাড়িতে যখন শুনেছিল আমার পোস্টিং পুরুলিয়া, রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল মা। বাবা যদিও খুব বেশি আপত্তি তোলেন নি। মা’র ধারনা, পুরুলিয়া মানেই মাওবাদীদের মুক্তাঙ্গন। আর আমার যে কোন মুহূর্তে কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই বারবার আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমি যেদিন প্রথম পুরুলিয়ায় আসি মা’ই ছাড়তে এসেছিল।বাড়ির জিনিস পত্র তখন কিছুই আনিনি।
এর আগে একবার আমি এসেছিলাম পুরুলিয়া C. M. O. H অফিসে জয়েনিং লেটার নিয়ে, সেখান থেকে বাঘমুন্ডির পাথরডি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পোস্টিং এ পাঠানো হয়েছে। হাওড়া থেকে আমি আর মা ট্রেনে করে বরাভূম স্টেশনে নামি। এবং সেখান থেকে বাই বাস বাঘমুন্ডি। দুপাশে দুর্ভেদ্য জঙ্গল, আর তার মাঝে ছুটে চলেছে আমাদের বাস।শাল, পিয়াল, পলাশ-মহুয়ায় সাজানো বনানী। রাস্তার পাশে অযোধ্যা পাহাড়ের রেঞ্জ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এতো সুন্দর, এতো সবুজের সমারোহ আমি আগে কখনোই দেখিনি। এখানকার মানুষের ভাষা আদিবাসীদের মতো। আমরা যখন বাঘমুন্ডিতে গিয়ে নামলাম তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পথে। আকাশের বুকে বাদামী রঙের আলো। পাখিদের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা, আর তাদের কাকলিতে মুখরিত প্রকৃতি। জন জীবনে এখানে ব্যস্ততা বা ছুটে চলার প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে।
নেমেই একটা রিক্সো ডাকলাম। কোথায় যাবেন বাবু? বলেই রিক্সাওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন মায়া লাগলো দেখে। অস্তমিত সূর্যের মতোই তার চোখ যেন ডুবতে বসেছে মুখমণ্ডলের অতল গ্বহরে। আমি যখন বললাম, আমি এই গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছি, বুঝতে পারেন নি। ডাক্তার কথাটা শোনার পর বললেন ও, ঐ হাঁসপাতালটার ডক্টর। আমি বললাম হ্যাঁ। খুব খুশি হয়ে বললেন আরে আসুন আসুন। রিক্সোর শিটের ধূলো হাত দিয়ে ঝেড়ে বসতে বললেন। জিজ্ঞেস করলেন আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমি বললাম কোলকাতা। উনি এমন ভাবে তাকালেন যেন অবাক হওয়ার মতো। কইলকাতার ডক্টর হামদের গাঁয়ে? হামদের কি সৌভাগ্য ডক্টর বাবু। কেন? সৌভাগ্য কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম। ডাক্তার জিনিস টা যেন একখানা দেখার জিনিস। উনি সকলকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলেন, আমি কোলকাতার ডাক্তার, ওনাদের এখানের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে এসেছি ।এই অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হোল, আতিথেয়তায় অকৃপণ এখানের মানুষ জন। সরলতা এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মুখের অকৃত্রিম হাসি যেন পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত মা’র মনে যে ভয়, যে সংশয় বাসা বেঁধে ছিল সব যেন একটা পলকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। শুধু আমার মনে একটা প্রশ্ন গেঁথে গেছে। এতো রুক্ষ মাটিতে এত কোমল, হৃদয়বান মানুষের জন্ম হয় কি করে?

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

প্রেমের নৌকাডুবি – শেষাংশ – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

#শেষাংশ#

অনেক খুঁজে যখন তাকে পাওয়া গেল তখন সে ডুবতে শুরু করেছে মদের নেশাই। গ্রাম থেকে বহু দূরে শশ্মানের পোড়ো বাড়িটার মধ্যে। পাশে মরা নদীতে ফুটে আছে কচুরিপানার ফুল। আকাশের বেহায়া চাঁদের নির্লজ্জ হাসিতে তারাও হাসছে। রাত তখন গভীরে ডুবে যাওয়ার প্রতিক্ষায়। বুজে যাওয়া নদীটার ক্ষীণ বহমান জল, পাথরের খাঁজে ঢুকে
মৃদু আওয়াজে নিজের অস্তিত্ব ব্যক্ত করছে। জোনাকির আলোক মালায় গাছেদের বৈভব সাজ। ঝিঁঝিঁ আর ব্যাঙেদের ডাক। এই সব কিছুই একটা অদ্ভুত মোহময়তা রচনা করেছে। মৃনালের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অজিত যখন তার কাঁধে হাত রেখে বসেপড়ল তখন মৃণাল বলে উঠল, হেরে গেলাম। আমি হেরে গেলাম। অজিত, কেন হেরে যাওয়ার আগে আমার মৃত্যু হলো না? জীবনে তো আমি কখনো হারতে শিখিনি। তবে কেন আজ আমাকে এভাবে হারতে হল? জীবন ঘড়ির কাঁটা গুলো বড় ক্লান্ত অজিত। তাই এবার থেকে তারা বড় ধীর গতিতে চলবে। জীবনের সুদীর্ঘ পথ পরাজিত সৈনিকের মত মাথা নিচু করে বাঁচতে হবে। না মৃনাল না। তুই তো হেরে যাওয়ার মানুষ নোস । তোর না আর্মির চাকরি? একটা না পাওয়া জীবনের পরাজয় হতে পারে না রে। জীবনের না পাওয়া গুলো কখনো কখনো অনেক বেশি কিছু পাইয়ে দেয়। এটা বলেই পকেট থেকে একটা চিঠি বার করল অজিত। চিঠিটা অপুর লেখা।
“প্রিয় মৃণাল…
জানি না কেমন আছো? মৃত্যুর ওঁৎ পেতে থাকা রাস্তা আর প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধের হাতছানির মাঝে আশা করি ভালোই আছো। ঘামে ভিজে যাওয়া খাঁকি পোশাকটা, অবসরের হাওয়ায় শুকোতে শুকোতে তোমার যে আমার কথা মনে পড়বে, সে তুমি না বললেও আমি ঠিক বুঝতে পারি। জ্যোৎস্নার আলোয় ভিজে যাওয়া তোমার বরফে ঢাকা কাশ্মীরের পাহাড় থেকে, মুখপুড়ি চাঁদটাকে দেখে আমার কথা নিশ্চয়ই ভাবো তা আমি জানি। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না কত নারী মনের নিঃশব্দ মৃত্যু ঘটে প্রতিনিয়ত। ইচ্ছে অনিচ্ছের দোলায় চড়িয়ে বহুদূরে তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়। রাস্তার বয়ে যাওয়া জলে কাগজের নৌকো যখন আমরা ভাসাতাম, তখন ছিল আমাদের ছেলেবেলা। কিন্তু কেবলমাত্র মেয়ে বলেই কেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাগজের নৌকোর মত ভাসিয়ে দেওয়া হয় আমাদের তা আমি বুঝতে পারি নি। আমার ইচ্ছে কখনো জানতে চাই নি কেউ। মা যখন বাবাকে বলেছিলেন মেয়েটার মতামত নিতে, বাবা তখন ধমক দিয়ে বলেছিলেন মেয়েদের আবার মতামত কি? যেদিন বলব, যার সঙ্গে বলব, তাকেই বিয়ে করতে হবে।ব্যস। সত্যি মৃণাল আজকের দিনেও মেয়েদের মতামতের কোন মূল্য নেই। মূল্য তো শুধু তাঁদের ফাঁকা অহংকারের। মনের ভেতর দিন দিন সযত্নে লালন পালন করা বস্তাপচা পারিবারিক ঐতিহ্যের। ছেলেটা পি এইচ ডি করেছে। অক্সফোর্ড এ কর্মরত। কিন্তু বিশ্বাস কর মৃণাল আমি এসব কিছুই চাই নি।শুধু চেয়েছিলাম তোমার সঙ্গে সুখের ঘর বাঁধতে। সমুদ্রের তীরে একটু একটু করে যে খেলা ঘর আমি বাঁধতে শুরু করেছিলাম, হঠাৎ একটা ঢেউ এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। সবচেয়ে দুঃখ কি জানো মৃণাল? আমি যখন তোমার কথা বললাম, তখন আমার ফোনটাও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। আমার কলেজ বন্ধ করে দিল। কত বিনিদ্র রাত আমি তোমার কথা ভেবে কাটিয়েছি। জানি না কিসের টান যা বারবার আমাকে তোমার কাছে টেনে নিয়ে যায়। বহু পথ ঘুরে হারাতে চাওয়া মন তোমার সীমানায় এসে পথ হারায়। আমার অবাধ্য পালক গুলো বারবার ডানা ঝাপটে তোমার কাছে যেতে চাই, একটু যত্ন পাওয়ার আশায় ।তোমাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা টা, আমার আমি টাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।আমি কোনদিন সুন্দরী ছিলাম কি না জানি না। তবে ছেলের বাড়ি আমার মধ্যে সৌন্দর্য্য টাই দেখেছে। আমার সৌন্দর্যের আড়ালে থাকা মনের খবর নেই নি ওরা। আজ আমার আর দামী আসবাবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ওরা আমাকে বৌ করে নিয়ে যাচ্ছে না মৃণাল। ওরা আমার সৌন্দর্য টা বাড়ি সাজাতে ব্যবহার করবে। ওদের সৌখিন অট্টালিকায় আমি কেবল ঘর সাজানোর ফুলদানি। এখন মনে হয়, সুন্দরী হয়ে না জন্মালেই হয়তো ভালো হতো। তুমি কিছু মনে করো না মৃণাল। ভেবোনা ফাঁকি দিয়েছি তোমায়। হৃদয়ের অন্তরতম অন্তস্থলে চীর সবুজ হয়ে তুমি ছিলে, আছো, থাকবে। তোমায় শব্দ দিয়ে নাই বা সাজালাম। গহীন মনের রাজপ্রাসাদে তুমিই রাজা।রাজ মুকুট শুধু তোমারই জন্য। তোমার সেই কবিতাটা খেয়াল আছে মৃণাল? পূর্ণেন্দু পাত্রীর ” সেই গল্প টা ”
“ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
-ওঠ্ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে।

এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।”
ভালো থেকো মৃণাল। খুব ভালো থেকো। ”
ইতি তোমার
অপরাজিতা।

এমনি করেই কাটছিল মৃনালের দিন। হঠাৎ মিলিটারি বসের ফোন। খুব তাড়াতাড়ি ডিউটি তে যোগ দিতে হবে তাকে। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, কিছু পাক চর (আতঙ্কবাদী) ঢুকে পড়েছে সীমান্তে। কাশ্মীরের জঙ্গলে তারা লুকিয়ে আছে। যে কোন মুহূর্তে শুরু হতে পারে গুলির বিনিময়। আর তাই তাদের তাড়াতাড়ির মধ্যে যোগদিতে হবে।
প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কে কোন পজিশনে থাকবে।
হ্যালিকাপ্টারে করেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে সকলের হাতে। একটা একটা করে গাড়ি বেরিয়ে পড়ছে আর্মি ক্যাম্প এর ভেতর থেকে।
মৃণালের গাড়ির কাছে এসে দেখা করল তার মিলিটারি বস। মৃনাল কে সে একটু বেশি ভালোবাসে। অস্ত্র চালানোর ট্রেনিং এ সেই ছিল সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র। তাদের সুটিং কম্পিডিশনে সেই ছিল প্রথম। আজ মৃনালের পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো, তোমার ওপর আমার অনেক প্রত্যাশা। আমি জানি তুমি বীর যোদ্ধা। তুমি জয়ী হয়েই ফিরবে। তোমার ললাটে জয়ের তিলক এঁকে দিতে আমি অপেক্ষা করবো। মুহূর্তে শক্ত হয়ে ওঠে মৃনালের চোয়াল। গর্বে ফুলে ওঠে তার বুক। চোখে তার জয়ের নেশা। মুখে প্রশস্ত হাসি। কোন পিছু টান নেই। দেশ বাঁচাতে বদ্ধপরিকর এক বীর যোদ্ধা।
হঠাৎ কিছু একটা আওয়াজে চমকে উঠল সবাই। গাড়ি থেকে নেমে যে যার মতো পজিশন নিয়ে নিয়েছে। কেউ পাহাড়ের কোলে, কেউ গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে শুরু হলো দু’পক্ষের গুলির লড়াই। ভারত মাতা কি? জয়। ধ্বনি দিতে দিতে চলছে শত্রু নিধন যগ্ঞ। মাঝে মাঝে দু একটা বোমার আওয়াজে কেঁপে উঠছে কাশ্মীরের মাটি। আকাশে বাতাসে ভেসে যাচ্ছে বারুদ এর গন্ধ। এভাবে অনেক ক্ষন চলতে থাকে। মৃনালের নিপুণ লক্ষ্যে ব্যহত হয় পাক বাহিনীর চক্রান্ত। তার পর এক সময় শান্ত হয় বিপক্ষের প্রতিঘাত। আবারও ভারত মাতা কি? জয়, ধ্বনিতে চলে যুদ্ধ জয়ের উল্লাস। এবার শুধু লাশ গুলো উদ্ধার করার পালা। মৃনাল এগিয়ে আসছে, হঠাৎ ছুটে আসে একটা বুলেট। মৃনালের বুকের মাঝ বরাবর গেঁথে গেছে। মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃনাল। আবার গুলি চালাতে শুরু করে ভারতীয় সেনা। ওরা যে দু এক জন বেঁচে ছিল তারা পিছনে পালিয়ে যাচ্ছে । মৃনাল যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এক মূহুর্ত দেরী না করে সকলেই ছুটে আসে, তার মিলিটারি বস ও ততক্ষণে ছুটে এসেছেন তার কাছে। মৃনাল তোমার কিচ্ছু হয় নি। কিচ্ছু হয় নি তোমার। তোমাকে বাঁচতে হবে। না স্যার। আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে। আপনি শুধু কথা দিন আপনি ওদের শেষ করবেন, ওদের চক্রান্ত বানচাল করে যুদ্ধ জয়ের শেষ হাসি টা আপনিই হাসবেন স্যার। কথাদিন। কথাদিন। আমি তো আর দেখে যেতে পারলাম না স্যার। কিন্তু আপনি ওদের শেষ করে আমার মৃত আত্মার শান্তি কামনা করবেন। আমার মৃতদেহ টা কে গান স্যালুট দিয়ে সন্মান জানানোর আগে, আমার লাশের পাশে ওদের লাশ গুলো শুয়িয়ে রাখবেন। আর তা না হলে আমি মরেও শান্তি পাবনা স্যার। বলুন না স্যার, বলুন না। আর তা যদি না হয়, বলতে বলতে গলার স্বর বুজে এলো তার। চোখের পাতা গুলোও জড়িয়ে যাচ্ছে । হাঁপিয়ে উঠছে সে। বিন্দু বিন্দু ঘামে ভিজে গেছে তার মুখমণ্ডল। সেই একই কথা যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল তার বসের মুখ থেকে, “তা যদি না হয়? ” মৃত্যু পথযাত্রি মানুষ টা হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে উঠল,
“তা যদি না হয় জানবো তুমি তো মানুষ নও,
গোপনে গোপনে দেশদ্রোহীর পতাকা বও।
ভারতবর্ষ মাটি দেয় নি কো? দেয় নি জল?
দেয়নি তোমার মুখেতে অন্ন? বুকেতে বল?
পূর্ব পুরুষ অনুপস্থিত রক্তে তাই,
ভারতবর্ষে আজকে তোমার নেইকো ঠাঁই।”

–পার্থসারথি দত্ত