রহস্যময়ী অযোধ্যা – ২য় পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
Subhrajit Mudi
শুভ্রজিত মুদি

➡ ➡ …”রহস্যময়ী অযোধ্যা – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
রহশ্যময়ী অযোধ্যা

রাস্তায় না হেটে আমি আর অভি পাহাড়ি ঢালু পথে শর্টকার্ট নিয়ে চললাম । অভি খুব ভয়ে ভয়ে পিছুপিছু হাঁটছে । শাল গাছের ঘন জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ি হাটা পথ, মাঝে মাঝে কাঁটা গাছ, কেদু পাতার গাছ, কত নাম না জানা লতা । এসবের মাঝে আমি আর অভি এগিয়ে যাচ্ছি । ওর পিঠে একটা ব্যাগে টিফিন আর জল। আমার ব্যাগে কিছু দরকারি জিনিস যেমন আতস কাচ, দুরবিন, ছুরি, দড়ি, ব্ল্যাক টেপ, টর্চ, গ্যাস লাইটার ইত্যাদি । কিছুটা পথ চলার পর অভির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও এখনও চিন্তামগ্ন । ওকে হালকা করার জন্য আমি ‘লালপাহাড়ির দেশে যা’ গানটা গুনগুন করে গাইতে লাগলাম, যদিও বলে রাখা ভালো আমি খুব খারাপ গান করি । আমার বেসুরো গলা শুনে অভির গলার ভেসে এলো ‘লাল পাহাড়ির দেশ’ । আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলাম । সকালে শাল বনের গাছের ফাঁকে রোদ ঠিকরে পড়ছে । শিশির ভেজা পাতাগুলো সোনালি রোদের আভায় আরও চকচক করছে । মাঝে মাঝে একটা দুটো বন মোরোগ দেখতে পাচ্ছি । আমরা হেটে চলেছি উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ দিয়ে ।

এবার অভি একটা দ্বীর্ঘশ্বাস নিয়ে  একটু স্পষ্টভাবে বলল ‘কোথায় যাচ্ছি আমরা ?’

আমি হেসে বললাম ভয় পাচ্ছে ? ভয় না, বাকিদের নিয়ে এলে ভালো হতো না ? এভাবে একা একা ! কিছু যদি হয়ে যায় ?

আমি কিছু জবাব না দিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম ।

কি এমন করতে যাচ্ছিস বলতো ! সবাই মিলে এলেই তো পারতিস ।

এসব কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছি সেই নিষিদ্ধ, দুর্গম পাহাড়ের দিকে । জঙ্গল ক্রমেই ঘন, আরও ঘন হয়ে যাচ্ছে । মঙ্গল মাঝি তো বলেইছিল এদিকে লোকজন আসে না । না আসারই কথা । জঙ্গল এতই ঘন যে দিনের আলোতেও গা ছমছম করছে । শীতের সকালেও  ঘাম দিচ্ছে । এবার দ্রুত হাটা যাচ্ছে না । লতাপাতা কেটে একটু একটু করে এগোচ্ছি । যে করেই হোক পৌঁছাতেই হবে কালকের সেই জায়গায় । কাল দুর থেকে যা  দেখেছিলাম সেগুলো কি জানতে হবেই আমাকে । এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলেছি হঠাৎ দুরের ঝোপটা নড়ে উঠলো । ভয়ে আমি আর অভি দুজনেই একটা শাল গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে পড়েছি । কিছুক্ষন সব স্থির । ভয়ে বুক দুরুদুরু করছে । আমি ধীরে ব্যাগ থেকে ছুরিটা বের করে শক্ত হাতে ধরলাম । অভি আরও ভয় পেয়ে গেছে আমাকে ছুরি বের করতে দেখে ।

কাপাকাপা গলায় বলল কি আছে ঝোপে ? তুই কি করতে এসেছিস ? কেই বা হারিয়ে গিয়েছিল এই জঙ্গলে ?

আমি ধীরে চাপা গলায় বললাম সব উত্তর পাবি কিন্তু এটা কি প্রশ্ন করার সময় ! আমি কি করে জানব ঝোপে কি আছে ! কিছুক্ষন সব চুপচাপ ।

অভি বলল একটা পাথর ছুড়ে দেখ না ।

আমি ধীরে ধীরে পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছি ঝোপের দিকে । অভি হাতের লাঠিটা শক্ত করে ধরে আমার পিছুপিছু আসছে ।

কই কিছুই নেই তো ! তাহলে ঝোপটা এত জোরে নড়ে উঠলো কেন ? কে ছিল এখানে ? কোথায় বা গেল ? অদৃশ্য হয়ে গেল নাকি ! আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভয়ে ভয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি । ঠিক তখনই অভি অস্থির ভাবে বলল, ‘আমার সব প্রশ্নের উত্তর চাই, নাহলে আমি আর এক পা এগোব না ।’ আমি কিছু না বলে ছুরিটা ব্যাগে ভরে এগোতে লাগলাম । অভি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আমার উত্তরের অপেক্ষা করল । আমি কোন উত্তর না দিয়ে হেটে চলেছি সেই উত্তরের ঘন জঙ্গলটার দিকে । হাটতে হাটতে বললাম, ‘তোর পেছনে কে দাঁড়িয়ে দেখ ।’ অভি কোনো কিছু না দেখে “ও মাগো” বলে ছুটতে লাগলো আমার দিকে । হাপাতে হাপাতে বলল, ‘আজ যদি জ্যান্ত ফিরে যাই দুজনেই, তাহলে তোর কপালে দুঃখ আছে ।’

কিন্তু এখন কেমন গা ছমছম করছে । মনে হচ্ছে কেউ যেন লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের দেখছে, কেউ যেন আমাদের সাথেই হাটছে ।

আমি বললাম, ‘ অভি এর পর সাথে সাথেই হাটবি, পিছিয়ে পড়বি না ।’

কোনো এক অজানা ভয় আমাকে কুড়ে খাচ্ছে । ভয়ে ভয়ে একটু একটু করে এগোচ্ছি । এভাবে মিনিট চল্লিশ হাঁটার পর সামনে কিছু দেখে  থমকে দাঁড়িয়ে দুজনেই হা করে তাকিয়ে আছি । এত ঘন জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গা ! মাঠের মতো পুরো সমতল বিশাল ফাঁকা জায়গা, অবাক করার মতো । বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই । কেও যেন রোজ পরিষ্কার করে । মাঠের মাঝের ঘাসটা যেন প্রচন্ড তাপে ঝলসে গেছে । আমি দৌড়ে গেলাম মাঠের মাঝখানে । সাথে অভিও ।

অভি বলল, মঙ্গল মাঝি তো বলেছিল এখানে কেউ আসেনা, তবে কি !

অভি আমাদের ছুটি বাড়িয়ে দিতে হবে । বেশ কয়েক দিন থাকতে হবে অযোধ্যায় । রহস্যময়ী অযোধ্যার অজানা রহস্য আমাকে জানতেই হবে । এখানে এমন কিছু চলছে যা সবার অজনা, সাধারণ মানুষের অলক্ষে । তুই সাথে থাকবি তো ?

বোতলের জল খেতে অভি বলল হুম ।

কিন্তু ভয় হচ্ছে, যাদের স্বাধীন প্রাঙ্গনে আমরা অনধিকার প্রবেশ করেছি তারা কি আমাদের ছেড়ে দেবে ? এতদিন তারা এই জঙ্গলকে দুর্ভেদ্য করে রেখেছিল । আজ হঠাৎ আমরা তাদের মুক্তাঙ্গনে । বিপদের সম্ভাবনা প্রবল । বেঁচে ফেরার আশা প্রায় নেই । অভি এসবের তোয়াক্কা না করে মাঠের ঘাসে শুয়ে হাত পা ছড়িয়ে আরাম করছে । ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখিন হতে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছি আমি । অপেক্ষা করছি তাদের ।

— শুভ্রজিত মুদি

GBS’এর ৩ বন্ধু… on the top of the hill – শুভ্রজিত মুদি

Amit, Subhrajit, Partha
Subhrajit Mudi
শুভ্রজিত মুদি
Amit, Subhrajit, Partha
Amit, Subhrajit, Partha

GBS শুধু একটা গ্রুপের নাম নয় আমার রোজের জীবনে আর পাঁচটি গুরুত্বপুর্ণ কাজের মতোই সমান গুরুত্বের অঙ্গ হয়ে গেছে । স্বজাতী প্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটা সহজ পাঠ পেয়েছি এই গ্রুপের হাত ধরেই । অনেক বন্ধু পেয়েছি, অনেক অভিভাবক পেয়েছি যারা তাদের মহানুভবতায় আমাকে আকৃষ্ট করেছে । এমনি ভাবেই হঠাৎ পরিচিত হয়েছি পার্থদার সাথেও । বহু আখাঙ্খিত সাক্ষাৎ ঘটল আজ তার সাথে । রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্বেও কেমন যেন আপন মনে হল । তার ছবি দেখেছি, আর সেই দেখার উপর বিশ্বাস করেই চলন্ত টোটো থেকে ভীড় বাজারে দাড়িয়ে থাকা কর্মব্যাস্ত পার্থদাকে চিনে নিতে অসুবিধে হয় নি । তার বাড়ি যাই, আতীথেয়তা আর সৌজন্য বোধের প্রতিমুর্তী সে এবং তার পরিবার । জ্যাঠিমা ছিলেন বাড়িতে । খুব ভালো মানুষ তিনি । তারপর পার্থদা তার কর্মচারিদের একা ছেড়ে সব ব্যস্ততা দুরে সরিয়ে আমাদের পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা ঝালদা (23.3283° N, 86.2336° E) শহরের সাথে পরিচয় করায় । খুব সুন্দর, গোছানো শহর । ধন্যবাদ পার্থদা । ধন্যবাদ GBS

–শুভ্রজিত মুদি

 

 

 

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি
Subhrajit Mudi
Story by শুভ্রজিত মুদি

২য় পর্ব, (…”লেবার_ট্রেন – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন)

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি
লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি

সবার সাথে হাটতে হাটতে আমিও শহরের জনস্রোতে মিশে গেলাম । শহরটা যেন প্রান ফিরে পায় লেবার ট্রেনের লোকগুলোর জন্য । শহরের অলি গলি এদের চেনে । ছোট, বড়ো সব বাড়ির প্রতিটি ইটে এদের স্পর্শ লুকিয়ে আছে । একটা না বলা অধিকারবোধ মালিকের অজান্তে এই গরিব খেটে খাওয়া লোক গুলোকে ছুঁতে চায় । কিন্তু বাবুদের মানবিকতা তাদের চৌকাঠ ঘেসতেও দেবে না । এসব কথা ভাবতে ভাবতে আমি আমার গন্তব্যে পৌচে গেলাম । সামনেই একটা নির্মেয়মান বহুতল । অনেক উচুতে নেট লাগিয়ে কাজে ব্যস্ত কিছু শ্রমিক । রাস্তায় নামামো ইট মাথায় করে তুলছে আমার বীরাঙ্গনারা । কাজের তাড়া অনেক । ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এসে বলে গেলেন আর বেশি সময় নেই । তাড়াতাড়ি কমপ্লিট দিতে হবে কাজ । সব ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি হয়ে গেছে, ক্লাইন্ডদের দেওয়া সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে কাজ । আজ ওভার চাইম করতে হবে কিন্তু তার জন্য কোনো বেশি টাকা তারা পাবে না কারণ তাদের কুড়েমির জন্যই কাজ পিছিয়ে আছে । বলেই গটগট করে চলে গেলেন ইঞ্জিনিয়ার । সকলেই একে অপরের মুখের দিকে চেয়ে দাড়িয়ে রইল অসহায়ের মতো । তারপর আবার শুরু হল কাজ, চলতে থাকল নিজের ছন্দে । সারা দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ফাঁকিবাজের তকমাটা পেয়ে তারা যে মর্মাহত এটা তাদের আলোচনা শুনে বোঝা যাচ্ছে । একজন বলে উঠল “বাড়তি টাকা না দিলে আমি এক মিনিটও বেশি কাজ করব না, রোজ রোজ মজা পেয়েছে নাকি ?” বাকিরা সবাই চুপ করে রইল । মৌনতা সমর্থনের লক্ষন আজ তা ভালো মতে টের পেলাম । কিছুক্ষন পর আমার ছুটি হয়ে গেল, আমি আবার বেরিয়ে পড়লাম শহরের গলিতে । রাস্তায় কোথাও না কোথাও এই অসভ্য, নোংরা লোকগুলো বাবুদের আঙুলের ঈশারায় ঘাম ঝরাচ্ছে ।

হাটতে হাটতে হঠাৎ পিছন থেকে ডাক শুনে দাড়িয়ে তাকালাম, দেখি পিছনে দাড়িয়ে আমার সফর সঙ্গী লেবার ট্রেনের এক অসভ্য যাত্রী । হাতে ময়লা একটা থলি, নোংরা জামা-প্যান্ট পরা শীর্ন শরীর, কর্মঠো এক লেবার হেটে এল আমার কাছে । একবুক কষ্ট নিয়ে হাসি মুখেই বলল, “আজ কাজ পাইনি ভাইপো ।” আমি কি বলল বুঝে ওঠার আগেই ও বলল “চল একটু বাজারটা ঘুরে নিই, এখন ট্রেনের সময় আছে” । আমি কিছু না বলে পিছু পিছু হাটতে লাগলাম । শাক সবজি নিয়ে যেতে হবে ঘরের জন্য, বাড়িতে দুই ছেলে, এক মেয়ে,বউ, বুড়ো মা আছে । পুরো বাজার মোটামুটি সব দোকানেই দাম জিজ্ঞেস করে একটা কোনের দোকানে গিয়ে একটু দাগ লাগা পটল গুলোর থেকে ভালো ভালো বাছতে লাগল, বুঝলাম দাম কম । ফলের দোকানগুলো ঘুরে ফিরে কমদামি, দাগ লাগা কলা আর লেবু নিল ছোট ছেলেটার জন্য । ছোটটা যেতে যেতে পায়ে পায়ে ঘুরবে । কিছু না নিয়ে গেলে ওর মুখটার দিকে তাকানো যায় না- বলে একটা দীর্ঘশ্বাস নিল অসভ্য লেবারটা । তারপর পকেটের থেকে একটা ছোট্ট পলিথিন ব্যাগের ভাঁজ খুলে তার থেকে টাকা বের করে দিল । তার অভাবের সংসারে ছেলে মেয়ে গুলোকে মানুষ করা, দু বেলা মুখে খাবার তুলে দেওয়া, বৃদ্ধা অসুস্থ মায়ের ঔষুধ এসব কিছু করার পর স্বামী স্ত্রীর ভাগ্যে আলাদা করে কিছু জুটে না । ওদের খুসি গুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে ওরাও বেশ সুখেই আছে । তাছাড়া ছেলেমেয়ে গুলোর  টিউশনের টাকা, বই খাতা চালানোর জন্য অনেক সমস্যার মুখোমুখি রোজই হতে হয় । তাদের দাম্পত্ব জীবনের ছোটবড়ো সব সুখ বিসর্জন দিয়েও তাদের সব চাহিদা মেটানো যায় না । কাল বাড়ি ফেরার পর মেয়ে জড়িয়ে ধরে বলেছে বাবা মিনতি দিদির বিয়েতে যাওয়ার আগে একটা নতুন সালোয়ার কিনে দেবে ? সেই দুর্গাপুজায় একটা নতুন জামা দিয়েছো । ওটা সব জায়গায় পরে যেতে আর ভালো লাগে না । এসব বলতে বলতে নিজের অজান্তের সেই দায়দায়িত্বহীন অসভ্য লেবারটার চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে এল । কেউ টের পাওয়ার আগেই নিমেষে চোখ মুছে নিল । আমি বাকরুদ্ধ হয়ে সব শুনছি । কোনো কথা বেরোচ্ছে না । কথা বলার ভাষা হারিয়েছি । গল্পের ফাঁকে স্টেশনে পৌছে গেলাম । বসে আছি ট্রেনের অপেক্ষায় । মনে মনে ভাবছিলাম অসভ্য লেবাররটির রোজের অভাবের জীবনের সংঘর্সের কথা । সবার চাহিদা মিটিয়ে কি বা থাকে তার নিজের জন্য । রোজ সকালের লেবার ট্রেন, কয়েক বছর ধরে পরে আশা সেই নোংরা, ময়লা জামাকাপড়, ছিড়ে যাওয়া চটি জোড়া এই তার পাওয়া । তার অসুখ করে না, তার ছুটি নেই, তার বিশ্রাম নেই । আছে শুধু ক্ষুধার্ত পেট আর নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর গুরু দায়িত্ব । তাই একদিন কাজ না পেলে তার ভিতর যে দাবানল জ্বলে, তার সামনে ভেষে ওঠে ছেলেমেয়ে আর বৃদ্ধা মায়ের ক্ষুদার্ত মুখ ।

জিজ্ঞেস করলাম, ” কাকু আজ কাজ পেলে না কেন ?”

– সে অনেক কথা ।

– বলো অনেকটা রাস্তা যাবো একসাথে ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

–শুভ্রজিত মুদি

রহশ্যময়ী অযোধ্যা – ১ম পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

Subhrajit Mudi
Story by -শুভ্রজিত মুদি

হাড়কাপানো হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন অলস সকালে ঘুম থেকে উঠে বসে আছি গরম চায়ের প্রেমময় ছোয়া ঠোঁটে আর হাতে লাগাবো বলে । এতো গাঢ় কুয়াশা শেষ কখন দেখেছি মনে নেই । অযোধ্যার এই মায়াবি জঙ্গলে পাহাড়ের উপরে রাত কাটানোর যে অনুভব তা হয়তো লিখে বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই । বাকিরা বিছানায় । আমি একটু তাড়াতাড়ি উঠে গেছি । রাত্রে ঘুমের দারুন পরিবেশ থাকলেও আমার ঘুম হয়নি । সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর সবার অজান্তেই আমি ক্যামেরা আর একটা লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়ি রাত্রের পাহাড় জঙ্গলের রোমাঞ্চ স্পর্শ করতে । সারা রাত ঘোরাঘুরি করার পর  সকাল পাঁচটায় ফিরেছি । তখনও সবাই শীতের সকালের শেষ ঘুমটুকু তারিয়ে উপভোগ করছে । রাত্রে যে আমি বাইরে গেছি এটা ওরা জানে না ।  কি দেখলাম বলার জন্য অস্থির হচ্ছি । কিন্তু একটু অপেক্ষা করতেই হবে সবাইকে । রাত্রের সব ঘটনাটা ভাবছি, এমন সময় মঙ্গল মাঝি চা নিয়ে এলো । সে অবশ্য আমাকে ভোরে ফিরতে দেখেছে । নিজেই বলে গেল, “বাবু টুকু বইস তুই । আমি চা দিয়ে যাছি।” অযোধ্যার চায়ের বাগানের শুকনো চায়ের পাতা দিয়ে তৈরি লিকার চায়ের কাপ হাতে নিয়ে তাতে চুমুক দিতে যাবো তখনই পিছন থেকে একটা আওয়াজ শুনে ঘাড় ঘোরাতে অভি বলল কত দুর গিয়েছিলি ? আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও বলল, তুই রাত্রে বাইরে গেছিলি তা আমি দেখেছি । যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু এত ঠান্ডায় আর বেরোতে ইচ্ছে হল না তাই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম । বলতে বলতে একটা চেয়ার নিয়ে আমার সামনে এসে বসল, আসে পাশে তাকিয়ে কানের কাছে মুখ এনে চাপা গলায় বলল,  “কি দেখলি ?”

আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়ে ধীরে বললাম, কিছুই না তো । ও আরো চেপে ধরলো, তাহলে  ফিরতে এত দেরি করলি কেন ? পথ হারিয়ে গেছিলাম । কই ক্যামেরাটা দেখি বলেই ও বেডরুমের দিকে ছুটল । আমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পা দোলাতে লাগলাম । ক্যামেরা হাতে ছবি দেখতে দেখতে কাছে এসে অভি বলল কই, কিছুই নেই তো ! তুই পুরো রাত কি করলি বলতো ! তুই বলবি নাকি সবাইকে ডাকবো ? বলেই বেডরুমের দিকে যাবে তখনি মঙ্গল মাঝির কাঁপা গলায় ডাক এলো, “বাবু তুর চা ট লে” । অভি চা নিয়ে অশান্ত চিত্তে আমার কাছে বসল । হটাৎ মঙ্গল মাঝি বলে উঠল, “উ পাহাড়টর দিকে যাস না বাবু; লোকে অনেকে কথা বলে । মু যখন ছোট ছিলম, তখন বাপ বইলত, হাঁ পাহাড়ে বাঘ আছে । মুদের কুলির রামদাস মাঝির ছট ছিলাট হাঁ পাহাড়ে ছাগল লিয়ে গেছিল, আর ফিরে লাই । তার পর লে বহু বছর কাইটল, আর কউ হা দিকে যায় নাই । এখন উ দিকে রাইতে ফারাকে ফারাকে আগুন জ্বলতে দেখা যায় । তুদের মতন পাঁচটা কইলকাতা বাবু আসেছিল মুদের ঘরটতে । বাকি চার বাবু ঘর ঘুরে গেল । কেও ওই বাবুটর পাতা লিল নাই । মুরা কিছুদিন খুজাখুঁজি করলম । পাই লাই রে । ওই বাবুটও তুর মতন ইকাই হা দিকে রাইতে গেছিল আর ফিরল লাই । কেউ খোঁজও লিল নাই আর । ছোট মুহে বড় কুথা বুললম ।” – এই বলে মঙ্গল মাঝি চলে গেল । অভি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, ওকে থামিয়ে আমি বললাম “হারিয়ে যাওয়া ছেলেটা কে জানিস ?” আরও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল আমার মুখের দিকে । কি হচ্ছে তার কিছুই তার বোধগম্য হচ্ছে না । আমি বললাম “যা তাড়াতাড়ি স্নান করে নে, একটা জায়গা ঘুরতে নিয়ে যাবো ।” ও কোনো কথা না বলে এক নিঃশ্বাসে কাপের চা খেয়ে ছুটে গেল । ভোরেই মঙ্গল মাঝি পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে স্নানের জল এনে দিয়েছে । বাকিরা তখনও কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে । ওদের ডিস্টার্ব না করে আমার ব্যাগ থেকে কিছু দরকারি জিনিস বের করছি, পিছন থেকে অভি ভেজা মাথা মুছতে মুছতে বলল আমি রেডি । মঙ্গল মাঝি দুটো থালায় খাবার নিয়ে এল সাথে আমার কথা মতো একটা টিফিনে কিছু খাবার এনে দিল । আমরা খেয়ে বেরোবার সময় মঙ্গল মাঝিকে বলে গেলাম ফিরতে দেরি হবে, ওরা উঠলে ওদের বলে দিতে । ও আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবছিল । বুঝলাম কিছু বলতে চাইছে । আমরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলাম ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

– শুভ্রজিত মুদি

লেবার ট্রেন – ১ম পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

Subhrajit Mudi
Subhrajit Mudi
Subhrajit Mudi

লেবার ট্রেন

—শুভ্রজিত মুদি

 ১ম পর্ব, সকাল ৭:০০ ; রামকানালী স্টেশন ভিড়ে ঠাসা । দুই প্ল্যাটফর্মের রামকানালীকে এখন ছোট শেয়ালদহ স্টেশন বলা যেতেই পারে । একে একে মহিলা, পুরুষ, পড়ুয়া, অফিস যাত্রীর ভীড়ে স্টেশন চত্তর আর দেখা যায় না । বার্নপুর, আসানসোল যাবে সবাই । কিছুজন কলেজ পড়ুয়া ছাড়া বেশির ভাগটাই কাজের সন্ধানে সকাল হতেই বেরিয়ে পড়েছে । তাতে পুরুষের ভাগটা বেশি হলেও মহিলারা পিছিয়ে নেই । কিছু কিছু যায়গায় জটলা বেঁধেছে । গোল করে ঘিরে বসে আছে সবাই । কেউ কেউ উচ্চশ্বরে হিসাবের পয়সাটা বুঝে নিচ্ছে । কেউ বা লোক ঠিক করছে সাথে নিয়ে যেতে । এদেরও মোটামুটি অলিখিত দলাদলি চলে । কেউ কেউ বাড়ির চাষ করা শাক-সবজি নিয়ে যাচ্ছে বিক্রি করতে । কেউ পুকুর, বন, পাহাড় থেকে রকমারি ফুল, বেলপাতা, কেঁদু পাতা, কালমেঘের চারা, অনন্তমূল, পদ্মফুল নিয়ে যাচ্ছে শহরের চাহিদা মিটিয়ে নিজের অভাবের সংসারের প্রয়োজন টুকু মেটাতে । কিছু মহিলা পুকুরের ধরা চুনো মাছ, শামুক, শালুক ডাটা নিয়ে যাচ্ছে । কিছু মানুষ কারখানায় কাজ করে । এই কর্মব্যস্ত সকালে ভীড়ের নব্বই শতাংশ মানুষ যাচ্ছে দিন মজুর আর রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে । দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সবার পেশা মোটামুটি স্থির । কিছু অদক্ষ, অনভিজ্ঞ যুবক, পৌঢ় শহর তলির বাবুদের দৈনিক প্রয়োজন মতো কাজ করে । কোনো দিন কেউ ডাকে বাগান পরিষ্কার করতে, কেউ বা ডাকে ঘর পরিষ্কার করতে, কেউ বা ডাকে পাড়ার নালি পরিষ্কার করতে । সবাই যে কাজ পায় এমনটাও নয়, অনেকে ফিরে আসে কাজ না পেয়ে । অনেকে শহরের বড়ো বড়ো ঠিকাদারদের শ্রমিক যোগান দেওয়ার কাজ করে । তাই তাদেরকে ঘিরে ষ্টেশন চত্তরে সবাই অস্থির ভাবে আজকের দিনের কাজ পাকাপাকি করতে ব্যস্ত । অনেক দুর থেকেও মানুষ আসে কাজ করতে, তবে ট্রেনটা ভর্তী থাকে মুলত জয়চন্ডীপাহাড়, বেরো আর রামকানালী ষ্টেশনের কাছাকাছি গ্রামগুলির শ্রমিক দিয়ে । অনেকে এই ট্রেনটিকে ‘লেবার’ ট্রেন বলে । ষ্টেশনের কোলাহলের মাঝেই হঠাৎ সশব্দে বেজে উঠল “বাঁকুড়া থেকে আসানসোল যাওয়ার ট্রেন ২ নং প্ল্যাটফর্মে আসছে ।” এবার দেখলাম সবাই চলাফেরা করতে শুরু করে দিল নিজনিজ অলিখিত দলে যোগ দিতে । ভিড় দেখে বোঝাই যায় না সারাদিন এই স্টেশনটি নিসঙ্গতায় ঝিমিয়ে পড়ে । একাকিত্বতা নিয়ে অপেক্ষা করে পরের সকালের, সেই ‘লেবার’ ট্রেনের । আমি বসে বসে সবটা দেখছি বেশ কিছুদিন ধরে । কারণ আমিও এখন নিত্ত যাত্রী হয়েছি । ট্রেন ঢুকতেই সবাই হুড়হুড় করে উঠে গেল অসহায় ট্রেনে । বেচারা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রোজ এই অত্যাচার সহ্য করে । ট্রেনে উঠার পর ঘাড় ঘোরানোর জায়গা থাকে না । ট্রেনটি অনেক কষ্টে সিটি বাজিয়ে এগিয়ে চলল শহরতলির দিকে । শহরতলির গলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়বে এই ভিড় । আমার সখ্যতা হয়েছে কিছু যাত্রীর সাথে । তারা সবাই রাজমিস্ত্রী, বয়সে আমার দ্বিগুন কেউ বা তিনগুন হবে । চারজনের সিটে অনায়াসে তারা নয় জন বসতে পারে । আমি উঠে ভিড় ঠেলে তাদের কাছে গিয়ে দাড়াতেই একটু পা চেপে আমাকেও বসার জায়গা করে দিল । পিঠের ব্যাগটা রেখে আমিও সানন্দে বসে পড়লাম । জানালায় তাদের টিফিন বোঝাই থলি ঝোলানো । বাড়ীতে পেটভরে খেয়ে এসেছে, সাথে খাবার নিয়েও যাচ্ছে । বাইরে পেটভরে খেতে অনেক টাকা লাগে । সারাদিনের মজুরির এক টাকাও তারা বাজে ভাবে খরচ করবে না । সিটের নিচে তাদের গাইতি, কোদাল, হাতুড়ি, রাজমিস্ত্রীদের বিভিন্ন কাজের যন্ত্রপাতি রাখা । আমার খুব ভালোলাগে এদের সাথে যেতে । প্রথম দিন চুপচাপ এদের সামনে দাড়িয়ে থেকেছি । তাদের নিঃস্বার্থ সরলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে । তাই দ্বিতীয় দিন তাড়াতাড়ি করে তাদের কাছেই গিয়ে উঠেছি । ওদের ট্রেনে জায়গা নির্দিষ্ট । সেখানে গেলেই তাদের পুরো দলটিকে পাওয়া যায় । আমি উঠেই দেখি সমহিমায় তাদের তাসের আসর জমে উঠেছে প্রতিদিনের মতোই । কয়েকজন ‘কামার’ কাকুর সাথে রোজের অভ্যাস মতো লেগে পড়েছে । সে জানালার ধারে চুপচাপ বসে ঘুমোনোর চেষ্টা করলেই মাথায় গাট্টা পড়ে । তারও ভালোই লাগে । তাই হয়তো সে সবার মনোরঞ্জনের জন্য বারবার ঢুলে পড়ে । কয়েকজন আগের দিনের কাজের কথা আলোচনা করছে । তারা শহরের বাবুদের খুব ভালোভাবে চেনে, তাদের বাড়িতে তাদের তদারকিতে কাজের মাঝে তাদের চিনে নিতে শিখে গেছে । তারা মুখ দেখেই বুঝে যায় কতো মজুরি দেবে, কেমন ব্যবহার করবে । সেই সব আলোচনা চলছে । ট্রেনে প্রচন্ড কোলাহল । হঠাৎ পাশে বসে থাকা কামার কাকুর মাথায় গাট্টা পড়তেই সবাই হাহা করে সজোরে হেসে উঠল । কামার কাকুও রোজের মতো চোখ খুলে অবাক হওয়ার মতো করে সবার মুখ গুলোর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কার কাজ । কিন্তু তা বোঝার উপায় নেই । চারজনের সিটে নয়জন বসে, সামনে আরও জনা সাত দাড়িয়ে । কিছুক্ষন সবার মুখের দিকে তাকিয়ে, শুধু ফোগলা দাঁতের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল, “সব শালারা সাট আছে” । ওটা বলতেই আবার সবাই হোহো করে হেসে উঠল, সাথে আমিও । সবাই বোধহয় এটা শোনার জন্যই অপেক্ষা করে থাকে । এদের কাছে এই ঘটনাটা রোজের হলেও ওরা এমন ভাবে উপোভোগ করে যেন আজ প্রথম । এভাবেই চলে তাদের রোজের ট্রেন যাত্রা । যেদিন কোনো একজন আসে না তারা প্রত্যেকে খবর নেয়, কেন আসে নি । কারো বাইরে যাওয়ার থাকলে আগেই জানিয়ে দেয় সে কথা । এটা ওদের ভালোবাসার প্রতিফলন তা বুঝতে আমার অসুবিধা হল না । তারা প্রত্যেকে একে অপরের পরিবারের লোকজনের কথা জানে, একে অপরের প্রয়োজনে পাশে থাকে । খবর রাখে প্রত্যেকের । কিছুদিন পর জানলাম ওরা প্রতিবছর পিকনিক করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সবাই একসাথে । এবারের পিকনিকে আমিও নেমন্তন্ন পেলাম । তবে আমার কাছে ওরা চাঁদা নেবে না, ছাত্র জীবনের ছাড় বোধহয় । আমি না গেলে আমারও ফোন করে খোজ নিয়েছে বেশ কয়েকবার । তাদের প্রতিদিনের সংঘর্ষের জীবনে এতো দায়িত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করেছিল । বার্ণপুর আসতেই অনেকে নেমে গেলে । বেচারা ট্রেনটি প্রানে বেঁচে গেল । অনেক #সভ্য যাত্রী এই #অসভ্য যাত্রীদের চেঁচামিচি, রসিকতা, ঘামে ভেজা গায়ের গন্ধ, টিফিনে ঝোলানো রসহ্যময় খাবার দেখে অনেক অস্বস্তিবোধ করছিল । ট্রেনটা খালি হতেই তারাও হাপ ছেড়ে বাঁচল । তাদের অতৃপ্ত হৃদয়ে কিছুটা শান্তির ছোয়া । লেবার ট্রেনের প্রতিটা সিট, প্রতিটা কোনা এই ‘অসভ্য’ লেবার গুলোকে খুব কাছের থেকে চেনে । প্রান বেরিয়ে যায় যায়, তবুও রোজ তাদের প্রেমে ফিরি ফিরে আসে । আসানসোল আসতেই পুরো ট্রেন ফাকা । যে যার লক্ষে দিনের শেষে কিছু হাসি সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছড়িয়ে গেল । একটা মুল স্রোত থেকে যেন অনেক শাখা প্রশাখা বেরিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে আসানসোলের অলিতে গলিতে । আমিও নেমে হাটতে শুরু করলাম । ফেরার সময় আর দেখা হবে না এদের সাথে । আমাকে আগের ট্রেনেই ফিরতে হবে । আবার অপেক্ষা পরের দিনের । আর সবার মতো আমিও যেন অপেক্ষা করে থাকি আগামী সুর্যের । একটা অকৃত্তিম ভালোবাসা তৈরী হয়েছে এই ভিড়টার জন্য, এই অসভ্য লোকগুলোর জন্য ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

—শুভ্রজিত মুদি