Kuldevi and Temples

মা-গন্ধেশ্বরী পেজ

————————-

গ্রুপে বিভিন্ন সময়ে গন্ধবণিকদের পদবি নিয়ে আলোচনা ও উৎসাহ দেখা যায়। গন্ধবণিকদের ইতিহাস এ আমরা যে সকল পদবি'র বৈচিত্র পেয়েছি এই গ্রুপ থেকে তারচেয়ে অনেক বেশি পদবি'র সদস্যদের কাছে পৌঁছতে পেরেছে বা তাদের যুক্ত করতে পেরেছে। এই গ্রুপের সেই সকল সদস্যদের পদবি আপলোড করছি।যদি ভুল হয় কমেন্টস করবেন।
১.দত্ত
২.দে
৩.সেন
৪.বিদ
৫.নাগ
৬.হালদার
৭.দাস
৮.সিং/সিংহ/সিনহা
৯.সাঁই
১০.পাল
১১.নাদ
১২.বনিক
১৩.চন্দ্র
১৪.চঁদ
১৫.ঘর
১৬.ধর
১৭.দাঁ
১৮.সাধু
১৯.মল্লিক
২০.মুদি
২১.ঘাঁটি
২২.বিষ্টু
২৩.নায়ক/নায়েক
২৪.লায়েক
২৫.খাঁ
২৬.প্রামানিক
২৭.মন্ডল
২৮.রুদ্র
২৯.বিষ্ণু
৩০.কর
৩১.রাজ
৩২.পাত্র
৩৩.বিশ্বাস
৩৪.সাধুখাঁ
৩৫.গান্ধী
৩৬.গুপ্ত
৩৭.ভোল
৩৮.বল
৩৯.রম
৪০.চৌধুরী
৪১.ওম
৪২.কুন্ডু
৪৩.হাটি
৪৪.পাসারী
৪৫.নন্দন
৪৬.সাউ
৪৭.অধিকারী
৪৮.লাহা
৪৯.গুঁইতা
৫০.ধন
৫১.ঘাটুয়ারী
৫২.নন্দী
৫৩.শীল
৫৪.ভদ্র
৫৫. রায়
৫৬.সাহা
৫৭.জুঁই
৫৮. সওদাগর
৫৯.মাহিন্দার
৬০. মাহাতা
৬১.পাইন
৬২.এইন/Ain/Ein
৬৩.ধনী
৬৪. সরকার
৬৫. পঞ্জিয়ারা
৬৬. পোদ্দার

Pujopics Sarbojonin Puja And More

মা গন্ধেশ্বরী

Photos from মা গন্ধেশ্বরী''s post

# Sanjib Chandra. Uluberia, Howrah

's cover photo

মা গন্ধেশ্বরী' updated their cover photo.

১৫-ই বৈশাখ ১৪২৫ বাং,
২৯-শেএপ্রিল ২০১৮ ইং ,
শ্রীশ্রী গন্ধেশ্বরী পূজা।

বাঙ্গালীর বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম গন্ধেশ্বরী পূজা। গন্ধেশ্বরী হলেন সুগন্ধ (perfume) বহনকারী দেবী আর তাঁকে শক্তিরই এক রূপ মনে করা হয়। বৈশাখ পূর্ণিমার দিন মূলতঃ গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এই পূজা করে থাকেন।

গন্ধবণিক সম্প্রদায় এই দিন দেবীর সামনে তাঁদের ব্যবসায়িক সামগ্রী,হিসাবের খাতা, ওজন যন্ত্র রেখে তাঁদের ব্যবসায়ের সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন।

চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে যখন এসেছিলেন তখন অখন্ডবাংলায় একটি সমাজের কথা জানতে পারেন যাঁদের নাম তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন ---সেই সমাজের নাম হল ' গন্ধ বণিক ' সমাজ।

গন্ধ বণিক সমাজ মূলত সেই সময় সুগন্ধি মশলা --ধূপ-ধূনা --ইত্যাদির বাণিজ্য করত। এই গন্ধ বণিক সমাজ প্রাচীন কালে ছিল ' শৈব্য ' পরে এই সমাজ হয় ' শাক্ত '---এবং তারও পরবর্তী কালে হন 'বৈষ্ণব' ---- হিন্দু সনাতন ধর্মের এক একটি শাখা /অংশ হল --এই ' শৈব্য ' -- ' শাক্ত ' --ও ' বৈষ্ণব ' ভাবাদর্শ / মতবাদ ।

গন্ধবণিক হল বাঙালি হিন্দু বণিক সম্প্রদায় যারা মূলতঃ গন্ধ দ্রব্যের ব্যবসা করে থাকেন। গন্ধ দ্রব্য যেমন বিভিন্ন সুগন্ধি প্রসাধনী, সুগন্ধি ধূপ, সুগন্ধি দেশ বিদেশের মশলা ইত্যাদি।চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন গন্ধবণিক সম্প্রদায় কে হিন্দু বণিক সম্প্রদায় বলে উল্লেখ করেন।এই গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের কূলদেবী হলেন মা গন্ধেশ্বরী।

গন্ধেশ্বরী দেবী মাতৃ শক্তির প্রতীক। গন্ধবণিকরা শুরুতে শৈবধর্মের উপাসক অর্থাৎ শিবের উপাসক হলেও পরবর্তী কালে শাক্ত উপাসক হয়ে ওঠে।
গন্ধেশ্বরী দেবীর প্রকৃতির সাথে দেবী দুর্গার অনেক সাদৃশ্য আছে। উভয়েই সিংহ বাহিনী এবং অসুরমর্দিনী।

শক্তির আরেক রূপ হলেন মা দুর্গা আবার মা দুর্গার আরেক রূপ হলেন মাতা গন্ধেশ্বরী।গন্ধেশ্বরী নাম কারণের দুটো দিক আছে।

১) সুগন্ধি পণ্যের বাণিজ্য করতেন যে সকল বণিকেরা তাঁদের পণ্যের নাম অনুসারে গন্ধের দেবী গন্ধেশ্বরী।

২) গন্ধকে বলা হয় পঞ্চভূতের ক্ষিতি তত্ত্বের সমষ্টিগত রূপ বা পৃথিবী।

গন্ধেশ্বরী মাতা হলেন শ্রীশ্রীদুর্গারই চতুর্ভুজা রূপ।
গন্ধমাতা ও পৃথিবী মাতা একই।গন্ধের যিনি ঈশ্বরী তিনিই 'গন্ধেশ্বরী'গন্ধ হল পৃথিবীর একটি গুণ।

১)ব্যোম তত্ত্বে হল শুধু শব্দ।
২) মরুৎ তত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ।
৩) তেজঃতত্ত্বে হল শব্দ+ স্পর্শ +রূপ।
৪) অপঃতত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ +রূপ+রস।
৫) ক্ষিতিতত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ +রূপ+রস+গন্ধ।
অর্থাৎ পঞ্চভূতের পূজা করাই হল গন্ধেশ্বরীর পূজা।

পৃথিবীতে বণিক সমাজ এই পঞ্চভূতের পণ্যরূপ নিয়েই বাণিজ্য করেন।এই বাণিজ্য করার সময় ভুল বশত যদি কোন পাপ কর্ম করে ফেলা হয় তবে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা হয়ে যায় এই পূজা করার ফলে।গন্ধবণিক সমাজে অনেক সেবামূলক কর্ম যজ্ঞ আছে।

শ্রী শ্রী চণ্ডী তে আদি শক্তি পরমেশ্বরী দেবীগনে পরিবৃত হয়ে যখন শুম্ভাসুরের সাথে যুদ্ধ করছিলেন,তখন শুম্ভ দেবীকে ক্রুদ্ধ হয়ে বলে,
"রে অহঙ্কারী ! তুমি অন্য দেবীদের সাহায্য নিয়ে যুদ্ধ করে চলেছ। অতি মানিনী হোয় না। "

তা শুনে মহাশক্তি বললেন,

" একৈ বাহং জগত অত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা।" ---
আমি ছাড়া এ জগতে দ্বিতীয় কে আছে ? দেখ, এই সব-ই আমার বিভুতি।তাই এরা সবাই আমার মধ্যে লীন হচ্ছে।এরপর সকল দেবী মূল আদি শক্তির মধ্যে বিলীন হলেন।

শাক্তমতে , এর তাৎপর্য হল এই যে , ভিন্ন রূপে প্রতীয় মান হলেও ,তত্ত্বতঃ সব কিছুই মহাশক্তির বহিঃ প্রকাশ।আরও একটি তথ্য পাই যে সকল দেবী ,একটি মহা শক্তি হতে নির্গত হয়েছেন।

মনসা, চণ্ডী, ষষ্ঠী, শীতলা , বন দুর্গা , বহুচেরা, ভেরুন্ডা, মহগ্রতারা, প্রজ্ঞা পারমিতা ,বেন তেন সহ ভারত ও অভারতীয় পূজিত বা অধুনা বিস্মৃত দেবীকুল এক আদি শক্তি থেকে জাত হয়েছেন।

গন্ধেশ্বরী-ও তার ব্যতিক্রম নন।সিংহ বাহিনী , ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজা , শঙ্খ ,চক্র , ধনুক, বাণ ধারিণী - এই দেবী বণিক কুলের কুল দেবী।

হিন্দু- বৌদ্ধ নির্বিশেষে তাঁর পূজা ,এক কালে বঙ্গীয় বণিক দের নানা শাখায় অনুষ্ঠিত হত বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন। বাংলাদেশের পাহাড় পুর বৌদ্ধ বিহারে ,
অন্যান্য হিন্দু দেব দেবীর সাথে গন্ধেশ্বরীর -ও একটি মূর্তি আছে। তবে সেটি ওই বৌদ্ধ বিহারের মত খুব প্রাচীন নয়।

মা গন্ধেশ্বরীর ধ্যানঃ-

ওঁ সিংহস্থা শশিশেখরা মরকতপ্রেক্ষা চতুর্ভির্ভুজৈঃ ।
শঙ্খং চক্র- ধনুঃশরাংশ্চ দধতী নেত্রৈস্ত্রিভিঃ শোভিতা ।।
আমুক্তাঙ্গদহার- কঙ্কণরণৎ- কাঞ্চীক্কণন্নূপুরা ।
দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রত্নোল্লসৎকুন্ডলা ।।

দেবী গন্ধেশ্বরী সিংহারুঢ়া , ললাটে চন্দ্রকলা যুক্তা , মরকত মনির ন্যায় প্রভাময়ী , চার ভুজে শঙ্খ , চক্র , ধনুক বান থাকে । এঁনার ত্রিনয়ন । কেয়ূর হার , বলয় , শব্দায়মান চন্দ্রহার থাকে । ইনি নূপুর পড়েন । রত্নের মতো উজ্জ্বল কুন্ডল পড়েন । দেবী দুর্গা আমাদের দুর্গতি নাশ করুন ।

মন্ত্রঃ- ওঁ হ্রীং দূং দুর্গায়ৈ নমঃ ।

মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা মহামায়া , গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন । ধন যিনি দেন , ধনের রক্ষা তিনিই করেন । দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য অর্থাৎ বণিক দের পূজিতা । কারন বণিকরা ব্যবসা বানিজ্য করেন ।

পৌরাণিকী :-

" প্রতিবৎসর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হইয়া থাকে।

এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী মূৰ্ত্তিতে ইনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হইয়া গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে ইঁহার নাম গন্ধেশ্বরী হয়।

সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে গন্ধাসুর মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হইয়া জন্মগ্রহণ করে। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়া বৈশ্যগণ কর্তৃক অপমানিত তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ লইবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করিতে প্রবৃত্ত হয়। তাহার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করিলে, তাহার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করিবার নিমিত্ত অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হইয়া তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করিয়া গতানু হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হইয়া তাঁহাকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করিতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার গন্ধবতী নাম রাখিলেন ।

“ যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত হইলেন ।”

গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা জানিয়া গন্ধবতীকে লাভ করিবার নিমিত্ত সসৈন্যে তাহার আশ্রমে উপনীত হইল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হইল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন হইতে বিচলিত করিতে পারিল না ।

“ গন্ধবতী বিচলিত হইলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হইল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি হইতে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হইয়া সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করিল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হইয়া সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করিয়া বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়া দণ্ডায়মান হইল :

অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হইলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হইলে দেখিলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা এক নারীমূৰ্ত্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রহিয়াছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করিয়া আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করিতেছেন।”

অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করিলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করিলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হইল ।

অনন্তর ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবগণের সহিত মিলিত হইয়া দেবীর যথাবিধি পূজা করিলেন। গন্ধাসুর-নাশিনী গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হইলেন। বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে ভগবতী গন্ধেশ্বরী -মূৰ্ত্তিতে প্রকাশিত হইয়া গন্ধাসুরকে বিনাশ করিয়াছিলেন। সেই হেতু গন্ধবণিকগণ অদ্যপি বৈশাগী পূর্ণিমার দিনে গন্ধেশ্বরীর পূজা করিয়া থাকেন। –“ মহানন্দীশ্বর পুরাণ "।

গন্ধেশ্বরী দেবীর আর-একটি উপাখ্যান আছে, তাহা ভবপুরাণে দেখিতে পাওয়া যায়। তাঁহাতে গন্ধবতীর কোনও উল্লেখ নাই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্যরূপ বর্ণিত আছে। সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপ :-
“ গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা শ্রবণ করিয়া মোহিত হয় এবং উহাকে পত্নীরূপে লাভের আশা দুরশা ভাবিয়া আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হইয়া কঠোর তপস্যা করে। ভগবান প্রসন্ন হইলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করিলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মুৰ্ত্তি পরিগ্রহ করিল। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রহিল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করিল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখিয়া মনে মনে হাস্য করিয়া যুদ্ধে তাহার প্রাণ বিনাশ করিলেন । দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্ব্বতরূপে পরিণত হইল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ হইতে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হইয়াছিল। অনন্তর দেবগণ কর্তৃক দেবী পূজিত হইয়া গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হইলেন।”

তারকাসুরের বধের নিমিত্ত হরগৌরীর বিবাহের প্রয়োজন হইলে, তারকাসুর মায়াবলে সমস্ত গন্ধ-দ্রব্য অপহরণ করে । ভগবান শিব—দেশদাস, শঙ্খভূতি ও বিষটগুপ্ত এই গন্ধবণিক্‌ সহোদর ভ্রাতাদিগকে গন্ধদ্রব্য-সংগ্রহের জন্য আদেশ করেন। সত্ৰীশ আশ্রমের আদিপুরুষ বিষটগুপ্ত পরম শিবভক্ত ছিলেন । নারদের উপদেশে তিনি ভগবতী গন্ধেশ্বরীর পূজা করিলে, দেবী তাহার প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন পূর্বক তাহাকে দর্শন দেন ও অপহৃত গন্ধদ্রব্যগুলি দেখাইয়া দেন । বিষটগুপ্ত দেবী গন্ধেশ্বরীর দর্শন লাভ করিয়া তাহার স্তোত্র করেন। " ( গন্ধবণিক, বৈশাখ,সংখ্যা তৃতীয়, কষ্টিপাথর । )

বর্তমানে এই গন্ধেশ্বরী মাতার পূজা হয় ভক্তের মনে শক্তি জোগানোর এষণায় যাতে বাণিজ্য বুদ্ধি বাড়ে --ক্রয় বিক্রয় বাড়ে --আমদানি রপ্তানি বাড়ে --চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য ঠিক থাকে - সঞ্চয়--ব্যয় এ কর্তব্য বুদ্ধি থাকে --ব্যবসায়ীক শুভবুদ্ধি যেন থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি ----।

তবে মনে রাখা দরকার যে এই পৃথিবীর সকল রূপই হল প্রাকৃতিক --আর প্রকৃতির রূপ কল্পনা করা হয়েছে নারীমূর্তির মাধ্যমে --বস্তুত ---
স্ত্রী পুরুষ সকলেই ---প্রাকৃতিক রূপ সেই অর্থে পুরুষও হল ' মাতৃমূর্তি ' শুধু নারীদের নয় পুরুষদেরও মায়ের মতো মমতাময়ী --স্নেহময়ী--দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে হবে ----মৃন্ময়ী মূর্তির পূজা ---সে তো চৈতন্য জাগরণের একটি ক্রিয়ামাত্র -----প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্ত আমরা চিন্ময়ী মায়েদের সাথেই কর্মযজ্ঞ করে চলেছি --- এখানে আচরণে --ব্যবহারে ও কর্তব্য পালনে কোন রকম ত্রুটি রাখা চলবে না ---রাখলে মৃন্ময়ী মা কিন্তু সময়ে ছেড়ে কথা বলবেন না।