তুমি আছো… by সন্দীপ দে

Sandip Dey
Sandip Dey
সন্দীপ দে

শরতের নীলাকাশ আজ কালো মেঘে পুঞ্জিভূত, নীলাকাশের সাদা পেঁজা মেঘেরা বড় উৎকন্ঠায় আজ। তারা যে পারছে না শারদৎসবের আগমনীর বার্তা বইতে। কাশেরাও মুহ্যমান হয়ে রয়েছে তিতলির ছোঁয়ায়।
উৎকন্ঠা, চাপ কেনো কিছুই যেনো রুদ্ধ করতে পারে না মন কে, এ যে আমাদের পরমানন্দের শারদৎসব। মনে পড়ে প্রিয়জনের কথা, ইচ্ছে হয় তার মিষ্টি সাজ আর মিষ্টি হাসি তে একটু মন ভরাতে।
উৎকন্ঠা যেনো হঠাৎই হারিয়ে যায়, যখন তোমায় এক পলক দেখি, মনে হয় আগমনী যে এই ভূবনেই, হয়তো আমরই কোনো প্রিয়জন সে।
সুদূর প্রান্তে হলেও ওই নীলাকাশ টায় যেনো তোমারই ছোঁয়া, এক চিলতে রোদ তোমায় আরও নীলাভ করে তোলে, মনে হয় তুমি আছো…. তুমি আছো এই শরৎ এর শারদৎসবে আমার হৃদয় জুড়ে।

–সন্দীপ দে

বোরোলীনের ইতিহাস – সন্দীপ দে

বোরোলিনে এন্টিসেপ্টিক ক্রিম
Sandip Dey
সন্দীপ দে
বোরোলিনে এন্টিসেপ্টিক ক্রিম
বোরোলিনে এন্টিসেপ্টিক ক্রিম

নিয়তির কাছে এটুকুই প্রার্থনা/সব ক্ষত যেন বোরোলীন দিয়ে সারে’ – লিখেছিলেন শ্রীজাত। এভাবেই বোরোলিন মিশে আছে বাঙালির যাপনে, অন্দরে-বাহিরে। আজ তারই ইতিহাসে খানিক উঁকিঝুঁকি।

সাল ১৯২৯। বাংলায় শুরু হল এক নতুন আন্দোলন। তবে এই আন্দোলনের অস্ত্র কার্তুজ বা বোমার ছিল না। বিদেশীর বাজারে দেশি ব্যবসায়ীর পথ চলা। তখনও স্থানীয় কেউ পুড়ে গেলে বা দেহে কোনও রকমের ক্ষত হলে ভেষজ উপাদান ব্যবহার করত। কারণ বিদেশি ক্রিম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

ঠিক সেই সময় বাজারে এল বাঙালির নিজস্ব অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন। সেই জয়যাত্রা আজও চলছে। এর প্রাণপুরুষ ছিলেন জি ডি ফার্মেসির প্রতিষ্ঠাতা গৌরমোহন দত্ত। ব্রিটিশ সময়কাল থেকে শুরু করে ৮৯ বছর ধরে এখনও সকল বাঙালির অতি প্রিয় ‘সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন’। জওহরলাল নেহরুও নাকি ব্যবহার করতেন বোরোলিন। দেশের ক্রিম বলে কথা!

শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা বাঙালির ঘরে বোরোলিনের উপস্থিতি চিরকালীন। এককথায়, বোরোলিন হল ঋতুপর্ণ ঘোষের কথায় ‘বঙ্গ জীবনের অঙ্গ’। ব্রিটিশ রাজত্বকালে দেশি দ্রব্য তৈরি করা এবং টিকিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন কাজ ছিল। এ এক অন্যধরনের লড়াই। কারণ গৌরমোহন দত্তের জি ডি ফার্মেসির বোরোলিন বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও দেশি দ্রব্য গ্রহণের আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এছাড়া তিনি ছিলেন সেইসময়ের কলকাতার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য। তিনি মনে করতেন, বিপ্লব ছাড়াও দেশ স্বাধীন করার জন্য দেশে স্বাধীন ব্যবসায়ী সংগঠন হওয়া প্রয়োজন। যারা দেশি উপাদান প্রস্তুত করবে এবং বিক্রি করে দেশের আর্থিক উন্নতি ঘটাবে। এই উদ্দেশ্যেই ১৯২৯ সাল থেকে সবুজ রঙের টিউবে হাতিমার্কা ক্রিম বোরোলিন আসে বাজারে। প্রথমে ইংরেজরা অনেক চেষ্টা করে বোরোলিনকে বন্ধ করার জন্য। পারেনি।

আজ জি ডি ফার্মেসির কারখানা আছে কলকাতায় ও গাজিয়াবাদে। বর্তমানে এই কোম্পানির প্রধান কর্ণধার গৌরমোহন দত্তের নাতি দেবাশিস দত্ত। তাঁর কথায়, তাঁদের কোম্পানি শুধুই অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈরি করে না। মানুষ তাঁদের বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন। তাঁরা পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য রিসাইক্যাল করে পুরনো টিউব বা কোট দিয়েই নতুন টিউব তৈরি করেন। তিনি আরও জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীন হয় সেই সময় দেশবাসীকে বিনে পয়সায় বোরোলিন বিতরণ করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। এই ক্রিম দেশের ক্রিম। তাই ১৯২৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৮৯ বছরেও স্বমহিমায় বিরাজিত মানুষের মধ্যে। বোরলিন ছাড়াও এক্ষণ তৈরি করা হচ্ছে সুথল, এলিন, গ্লোসফট, পেনরাব।

–সন্দীপ দে