মাদূর্গা র যন্ত্রনা – শিখা বল দত্ত

Shikha Ball Datta
Shikha Ball Dutta
শিক্ষা বল দত্ত

দূর্গা মায়ের আরেক যন্ত্রনা হয়েছে ভোলা মহেশ্বর কে নিয়ে।তিনি তো মূর্তিতে এলেন না,একটা ফটো পাঠিয়ে দিয়েছেন।তাঁর অনেক কাজ,তিনি শ্বশুর বাড়ি আসতে পারবেন না।কাজের মধ্যে কাজ সিদ্ধি খেয়ে ছাই মেখে ঘুরে বেড়ানো।

কৈলাশ থেকে ভোলা মহেশ্বর মধ্যে মধ্যেই হাঁক দেয় ,দূর্গা দূর্গা।

বেচারি দুর্গা ! বছর পরে এসেছে ছেলে মেয়ে নিয়ে নিজের বাপের বাড়ি,কতো আনন্দ করছে মানুষ তাঁকে নিয়ে,সে আনন্দ টাও সইছে না ভোলানাথের।

স্বামী বলে কথা ,দুর্গা তো কোনোদিন স্বামী ছাড়া থাকেন নি।তাঁর ও তো মনটা আনচান করছে স্বামীর জন্য।তিনি স্বামীকে জানালেন,

এসেছি একা ! ছেলে মেয়ে সহ

হরষিত মন নিয়ে,

তুমি বসে থাকো হোথা কৈলাশ পরে

নন্দী ভিরিঙ্গি কে নিয়ে।

দূর্গা দূর্গা হাঁক ছাড় কেন

কিসের এতো প্রয়োজন,

চার দিনের জন্য এসেছিনু বাপু

হেথা  থাকবো না তো সারাটা জীবন।।

তোমার লাগি  মম মন

করে আনচান,

বিরহ আর সইতে নারি, হারায়াছি মন প্রাণ।।।

কেনো যে বাপু সিদ্ধি খেয়ে

খেয়ালি পানা করো,

এখন শুধু গলা ছেড়ে

হাঁক দিয়ে ,দূর্গা দূর্গা করো।।।।

জয় শিব,জয় দূর্গা।

।।দূর্গা দূর্গা।।

–শিখা বল দত্ত

 

 

 

 

হিরোশিমা – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

# হিরোশিমা #

প্রকৃতির রোষে ঘটে সুনামি
কিংবা কয়েক সেকেন্ড এর কম্পনে
নড়ে ওঠে গুজরাট।
প্রানের সমাধির বেদির উপর,
গড়ে ওঠে আশার সভ্যতা।
তবু ও সৃষ্টিরা থেমে থাকে না।
সৃষ্টিরা থমকে যায় পৈশাচিক উল্লাসের কাছে,
ঠান্ডা ঘরের মধ্যে আলো আঁধারির পরিবেশে
বাতাসে ওড়ে শ্যাম্পনের ফোয়ারা।
খেলা চলে যুদ্ধ যুদ্ধ।
মনুষ্যত্বের ফেরিওয়ালারা
ক্ষমতার জয়গান গেয়ে আলিঙ্গনে লিপ্ত হয়।
আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের লাশ
শুয়ে আছে, বিশ্ব মানবতার হৃদয়ে।
বুকের পাড়ায় হামাগুড়ি দিয়ে
উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ক্ষুদ্র মানবতা।
দানবের রোষে যদি ঘটে কোন
ধ্বংসের খেলা।
সেখানে নতুন করে জেগে ওঠে না
আর কোন প্রানের সভ্যতা।
ইতিহাস তৈরি হয় নির্মমতার।
আর তার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
ওলিয়েন্ডার ফুল।

– পার্থসারথি দত্ত

তোমায় দিলাম – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

পাখি তোমায় আকাশ দিলাম আমি
নরম আলোয় ভিজিয়ে এসো গা,
পাখি, তোমায় মুক্তি দিয়েছি যে
নীল সাগর এ ডুবিয়ে নিও পা।
চাঁদ কে যদি হঠাৎ ছুঁতে চাস
ইচ্ছে হলেই মেলতে পারিস ডানা
শুনেছি তোর বৃষ্টি ভালো লাগে
মেঘের বাড়ি তাই কি আনাগোনা?
আমার আবার পাহাড় ভালো লাগে
বৃষ্টি হয়ে ঝরিস যদি তুই,
তুই তো আবার আকাশ হতে চাস
ইচ্ছে করে একটু তোকে ছুঁই।

–পার্থসারথি দত্ত

আর ও একটা – দেবযানী দত্ত

Devjani Dutta
দেবযানী দত্ত

আকাশ আবার মেঘলা,
আবার একটা কবিতা হবে সৃষ্টি’
আবার একটা পাতায় পড়বে আঁচড়
মনের উপর উঠবে আবার ঝড়,
পড়বে স্মৃতির পাতায় দৃষ্টি ।
একটু পরেই ঝড় থেমে—
পড়বে শুধুই অবিরাম বৃষ্টি॥

–দেবযানী দত্ত

মা হারা – দেবযানী দত্ত

দেবযানী দত্ত

দুগ্গা মা আসছো নাকি তুমি ,
সবাই দেখছি হাসি খুশি ,
আমার মন শুধুই কেনো
করছে পাগলামী !!!

মনে পড়ছে পুজো এলেই
যেতাম মার কাছে ছুটে ,
তাঁর কোলের ‘পরে
পড়তাম আমি লুটে ।

আজ আর কেনো
লাগছে না মা তবে
কোন আনন্দ মনে ,
ঢাকের সুরে বাজছে
যেন বিষাদ সুর
মনের নিভৃত কোণে ।

শান্ত হতাম
মা র ছোঁয়ায় সেদিন
শান্তি পেতাম
গাঁয়ের শীতল ছায়ে ,
বুঝতে পারি
হারিয়েছি আমি
মায়ের সাথে গাঁয়ে ॥

–দেবযানী দত্ত

শৈশব – দেবযানী দত্ত

Devjani Dutta

দেবযানী দত্ত

শৈশব মানে
মায়ের কোল ,
বাবার ধমক ,
ঠাকুমার আঁচার ,
পিসির সাজের জিনিস
লুকিয়ে নিয়ে
ভূতের মতো সাজা।
দুপুর বেলা না ঘুমিয়ে
পাশের বাড়ীর
গোয়াল ঘরে —
পুতুলের বিয়ে ।
আর ও আছে শৈশবে —
একটা ভাঙ্গা ব্লেড দিয়ে
রান্না বাটির আনাজ
কাটতে হবে …
শীতের দিনে
ক্ষেতে গিয়ে
ছোলা গাছে
হামলা দিয়ে
তারপরেতে
আখের ভূঁয়ে
আখ ভেঙ্গে খাওয়া ।
আর ও তো
অনেক কিছু
আছে শৈশবে ,
যখন ই থাকবো একা
রানু ,মিতা , নূপুর —
তোদের জন্য
দু ফোঁটা চোখের জল
ঠিক গড়াবেই ॥

–দেবযানী দত্ত

যদি চলে যায় – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

যদি চলে যায় কোনদিন
পৃথিবীর এই ধুলোমাটি পথ ছেড়ে,
যদি মরন আসে কভু,
তোর কাছ থেকে আমাকেই নিতে কেড়ে।

পারবি সেদিন আগলে রাখতে মোরে?
পারবি, সেদিন বাঁধতে সে ফুলডোরে?
যে ফুল দিয়ে মালা গেঁথেছিনু ওরে
আজ সেই মালা ধুলায় লুটাই যেরে।

সে মালায় ছিল হাজার তারার আলো
রামধনু রং ভিড় করেছিল তাতে।
আর ছিল তাতে অনেক স্বপ্ন আঁকা
যে স্বপ্ন মোরা দেখেছিনু একই সাথে।

আজ তা মলিন, সবই হোল শেষ যে রে,
পারবি কি আর বাঁধতে সে ফুলডোরে?

– পার্থসারথি দত্ত

ছল করিসনে – দেবযানী দত্ত

woman

দেবযানী দত্ত

ও পুরুষ ! ! তুই মরদ হবি মোর ! ! !
সঙ্গে মোরে রাখতে চাস তোর ? ? ?
কি বলছিস্? ? ঘর বান্ধবি ! !
নদীর ধারের ভুই এ .—
বেশ তাহলে সন্ধ্যা বেলা
থাকবো মোরা ডিঙ্গা র ‘পরে শুয়ে ।
ও পুরুষ তুই আনবি গেঁন্দাফুল ,
গলায় শুধু নয় রে পুরুষ —
ওই মালায় তুই বেঁধে দিস
আমার এলো চুল ।
কি বলছিস ??
আমায় তুই ভালোবাসি স !!!!
যখন তখন তুই
তাই কি কাছে আসিস,
হাতের ‘পরে হাতটি রেখে
তাই কি পাশে বসিস্ ? ?
ভালোবাসার ছল তুই
করিসনে মোর সনে —-
তোর চোখের ওই আয়নায়
দেখে লিবো মুই
কি আছে তুর মনে ॥

–দেবযানী দত্ত

শুধু একবার বলো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো ভালোবাসি
শুধু একবার বলো কাছে চাও
শুধু একবার বলো প্রিয়তম
কাছে এসে দু হাত বাড়াও।
আমারে জড়িয়ে ধরে বল
হৃদয়ের সব কথা আজ,
আমি শুধু চোখে চোখ রেখে
দেখে নেব মুখে রাঙা লাজ।
বাতাস কে বলি থেমে যাও
এসেছে আমার কাছে প্রিয়া
চাঁদ কে বলবো ডুবে যাও
জুড়াক এ ব্যাকুল হিয়া।
আজকে মোদের গোপন অভিসার
সেকথা জানব শুধু তুমি আর আমি,
আজকে খুশির বাঁধ ভেঙে যেতে দাও
বেরিয়ে আসুক আমাদের পাগলামি।
আজকে শুধুই কথা হবে দুজনার
চোখে চোখ রেখে হারাতে চাইছে মন
যত ঢেউই আজ উঠুক সাগর জলে
তীরেতে সাজানো প্রেমের বৃন্দাবন।
ডুবে যেতে দাও আকাশের যত তারা
উঠুক জ্বলে তোমার নয়ন দুটি
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অধিকার বুঝে নেব
আজকে কিন্তু চাইলে পাবে না ছুটি।
প্রেম যদি আজ ঢেউ তুলে নদী বুকে
ডুবে যেতে দাও আমাদের ছোট তরী
তার চেয়ে চলো আমরা দুজন মিলে
পৃথিবীর কোনে আজ খেলা ঘর গড়ি।

–পার্থসারথি দত্ত

বৃষ্টি ভেজা – দেবযানী দত্ত

Rainy Morning

দেবযানী দত্ত

@@@@@@
একটা বৃষ্টি ভেজা
মেঘলা সকাল ,
গাছগুলো সব
ভিজেই চলেছে অবিরাম —–
মনে হচ্ছে ,–
গাঝাড়া দিয়ে এখুনি বলবে তারা ,
‘ভিজে কাজ নেই আর ,
আমরা চললাম ।
বিরহিণী বধূ
বসে আছে জানালায় ,
আনমনা সে
হাত দিয়ে তার গালে ।
বৃষ্টি হয়তো
তারও টানছে মন—
স্বামী র সাথে
ভিজবে সে কোন কালে …..!!!
শুধু আমাকে
ভিজতে পারছেনা
তোমার আবেগ ভরা
কোনো আমন্ত্রণ ।
মনের মধ্যে দিয়েছো যে ব্যথা—
অশ্রুজলে সিক্ত সেথা হতে
উঠে আসছে গন্ধ সোঁদা সোঁদা ॥

–দেবযানী দত্ত