

Live Magazine



ও পুরুষ ! ! তুই মরদ হবি মোর ! ! !
সঙ্গে মোরে রাখতে চাস তোর ? ? ?
কি বলছিস্? ? ঘর বান্ধবি ! !
নদীর ধারের ভুই এ .—
বেশ তাহলে সন্ধ্যা বেলা
থাকবো মোরা ডিঙ্গা র ‘পরে শুয়ে ।
ও পুরুষ তুই আনবি গেঁন্দাফুল ,
গলায় শুধু নয় রে পুরুষ —
ওই মালায় তুই বেঁধে দিস
আমার এলো চুল ।
কি বলছিস ??
আমায় তুই ভালোবাসি স !!!!
যখন তখন তুই
তাই কি কাছে আসিস,
হাতের ‘পরে হাতটি রেখে
তাই কি পাশে বসিস্ ? ?
ভালোবাসার ছল তুই
করিসনে মোর সনে —-
তোর চোখের ওই আয়নায়
দেখে লিবো মুই
কি আছে তুর মনে ॥
–দেবযানী দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )
➡ ➡ (…“অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )
বড় গেট পেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দুপাশে সুন্দর করে সাজানো বাগান। ফুল গাছ গুলি সুন্দর সুন্দর ফুলে ভরে আছে। আমারা যখন বাড়িতে ঢুকি কাকাবাবু তখন গাছগুলি তে জল দিচ্ছিলেন। গাছেদের পরিচর্যা ছেড়ে উনি চলে এলেন আমার কাছে। যেন কতদিনের চেনা। কত আপন সবাই। আমাদের উপরের ঘরে বসতে বলে আবার বাগানের দিকে গেলেন। আমি আর রাজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। একটা সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসছে।রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য আছে। যতবারই শুনি ততবার সেই মানুষটার প্রেমে পড়ে যায়। “সে চলে গেল, বলে গেল না। সে কোথায় গেল, ফিরে এলো না।” বাহ্, বেশ সুন্দর গান টা। কে চালিয়েছে রে? হঠাৎ একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম রাজার চোখে মুখে। এতক্ষণের প্রাণবন্ত উচ্ছল মানুষ টা হঠাৎ করে শামুকের মতো গুটিয়ে গেল কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম কি রে ঠিক আছিস তো? শরীর খারাপ লাগছে? না বলে প্রত্যুত্তর দিয়ে উপরে উঠতে লাগল। অগত্যা আমি ও আর কথা না বাড়িয়ে ওর পিছনে পিছনে উঠতে শুরু করলাম। উপরে উঠে রাজা একজন কে দেখিয়ে বললো এ আমার বোন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ওর রুমের ভেতর থেকেই আসছে গানের আওয়াজ টা। দেখে মনে হল বদ্ধ উন্মাদ। উসকো খুসকো চুল। শরীরে আলুথালু বেশ। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাড়ির সিলিং এর দিকে। যেন এক চাতকির দৃষ্টি। আকাশের বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সিলিং এ একটা ছোট্ট মাকড়সা তার জালের মধ্যে আপন মনে খেলা শুরু করেছে। হয়তো সেটাই দেখছে সে। চোখের কোনে কালি পড়েছে।মুখ দেখে সত্যিই খুব মায়া লাগছে।বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। রাজা আমার কাঁধে হাত রাখল। আমি চমকে উঠলাম। পরক্ষণেই পিছন ফিরে দেখি রাজার চোখ দুটো জলে ভিজে গেছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছি না। অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছি।ভাষা পাচ্ছি না। ঠিক বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করবো। কিই বা জিজ্ঞেস করব। ও ইশারাই ডেকে ফাঁকা ছাদের উপর গিয়ে দাঁড়ালো। আমি ও এলাম। সূর্যের শেষ আলো আস্তে আস্তে গিলে ফেলছে অন্ধকার। পশ্চিমাকাশ তখন ও আবীরে রাঙা। বিষন্নতায় ভরা সাঁঝের বাতাস। এখনও দুএকটা ঘুড়ি পতপত করে উড়ছে আকাশে। আমি নির্বাক চলচ্চিত্রের মতো দাঁড়িয়ে আছি।
কিছু বলবো ভাবছি। কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে ওই শুরু করলো। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের কথা। তখন ও মাধ্যমিক পাশ করে ইলেভেন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনাই খুব ভালো ছিল পৃথা। আর সাথে গানের গলা ছিল অসাধারণ। এখানকার হাই স্কুলেই পড়াশোনা করত।সরস্বতী পুজোর দিন ও আর জয়ন্ত একই সঙ্গে “কোলাজ” নাটকে অভিনয় করে। ওর মুখ থেকে শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে ছায়াছবির মতো ভেসে উঠল দিন গুলি।
মাসি- “আচ্ছা আদিত্য তোর সিরাজের অভিনয় টা মনে আছে?
আদিত্য – হ্যাঁ মাসি, মনে আছে। আচ্ছা মাসি তোমার স্টার থিয়েটারের অভিনয় টা মনে পড়ে? কি যেন, কি যেন রোলটা ছিল?
মাসি – সুভাষ বোস।
আদিত্য – হ্যাঁ। হ্যাঁ মাসি আমি সেই সুভাষ বলছি,” তোমারা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো ”
সুপ্রিয়া – আদিত্য দা?
আদিত্য – কে? গলাটা চেনা চেনা লাগছে।
সুপ্রিয়া – আমি সুপ্রিয়া
আদিত্য – এসো এসো সুপ্রিয়া
সুপ্রিয়া – এখন আমি পথের ভিখারিনী, খেতে পাইনি।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, শিল্পীর কদর এ বাংলা দিতে পারলো কৈ।
সুপ্রিয়া – অভিনয় করে সারা জীবন কাটালাম। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায় এসে, একটু শান্তি পেলাম না। উঃ বড় কষ্ট হয়।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, ঐ দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর। ”
” ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু। পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়ে পড়ি কভু। ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।”
✍️✍️ চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️
–পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো ভালোবাসি
শুধু একবার বলো কাছে চাও
শুধু একবার বলো প্রিয়তম
কাছে এসে দু হাত বাড়াও।
আমারে জড়িয়ে ধরে বল
হৃদয়ের সব কথা আজ,
আমি শুধু চোখে চোখ রেখে
দেখে নেব মুখে রাঙা লাজ।
বাতাস কে বলি থেমে যাও
এসেছে আমার কাছে প্রিয়া
চাঁদ কে বলবো ডুবে যাও
জুড়াক এ ব্যাকুল হিয়া।
আজকে মোদের গোপন অভিসার
সেকথা জানব শুধু তুমি আর আমি,
আজকে খুশির বাঁধ ভেঙে যেতে দাও
বেরিয়ে আসুক আমাদের পাগলামি।
আজকে শুধুই কথা হবে দুজনার
চোখে চোখ রেখে হারাতে চাইছে মন
যত ঢেউই আজ উঠুক সাগর জলে
তীরেতে সাজানো প্রেমের বৃন্দাবন।
ডুবে যেতে দাও আকাশের যত তারা
উঠুক জ্বলে তোমার নয়ন দুটি
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অধিকার বুঝে নেব
আজকে কিন্তু চাইলে পাবে না ছুটি।
প্রেম যদি আজ ঢেউ তুলে নদী বুকে
ডুবে যেতে দাও আমাদের ছোট তরী
তার চেয়ে চলো আমরা দুজন মিলে
পৃথিবীর কোনে আজ খেলা ঘর গড়ি।
–পার্থসারথি দত্ত


নিয়তির কাছে এটুকুই প্রার্থনা/সব ক্ষত যেন বোরোলীন দিয়ে সারে’ – লিখেছিলেন শ্রীজাত। এভাবেই বোরোলিন মিশে আছে বাঙালির যাপনে, অন্দরে-বাহিরে। আজ তারই ইতিহাসে খানিক উঁকিঝুঁকি।
সাল ১৯২৯। বাংলায় শুরু হল এক নতুন আন্দোলন। তবে এই আন্দোলনের অস্ত্র কার্তুজ বা বোমার ছিল না। বিদেশীর বাজারে দেশি ব্যবসায়ীর পথ চলা। তখনও স্থানীয় কেউ পুড়ে গেলে বা দেহে কোনও রকমের ক্ষত হলে ভেষজ উপাদান ব্যবহার করত। কারণ বিদেশি ক্রিম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
ঠিক সেই সময় বাজারে এল বাঙালির নিজস্ব অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন। সেই জয়যাত্রা আজও চলছে। এর প্রাণপুরুষ ছিলেন জি ডি ফার্মেসির প্রতিষ্ঠাতা গৌরমোহন দত্ত। ব্রিটিশ সময়কাল থেকে শুরু করে ৮৯ বছর ধরে এখনও সকল বাঙালির অতি প্রিয় ‘সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন’। জওহরলাল নেহরুও নাকি ব্যবহার করতেন বোরোলিন। দেশের ক্রিম বলে কথা!
শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা বাঙালির ঘরে বোরোলিনের উপস্থিতি চিরকালীন। এককথায়, বোরোলিন হল ঋতুপর্ণ ঘোষের কথায় ‘বঙ্গ জীবনের অঙ্গ’। ব্রিটিশ রাজত্বকালে দেশি দ্রব্য তৈরি করা এবং টিকিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন কাজ ছিল। এ এক অন্যধরনের লড়াই। কারণ গৌরমোহন দত্তের জি ডি ফার্মেসির বোরোলিন বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও দেশি দ্রব্য গ্রহণের আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এছাড়া তিনি ছিলেন সেইসময়ের কলকাতার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য। তিনি মনে করতেন, বিপ্লব ছাড়াও দেশ স্বাধীন করার জন্য দেশে স্বাধীন ব্যবসায়ী সংগঠন হওয়া প্রয়োজন। যারা দেশি উপাদান প্রস্তুত করবে এবং বিক্রি করে দেশের আর্থিক উন্নতি ঘটাবে। এই উদ্দেশ্যেই ১৯২৯ সাল থেকে সবুজ রঙের টিউবে হাতিমার্কা ক্রিম বোরোলিন আসে বাজারে। প্রথমে ইংরেজরা অনেক চেষ্টা করে বোরোলিনকে বন্ধ করার জন্য। পারেনি।
আজ জি ডি ফার্মেসির কারখানা আছে কলকাতায় ও গাজিয়াবাদে। বর্তমানে এই কোম্পানির প্রধান কর্ণধার গৌরমোহন দত্তের নাতি দেবাশিস দত্ত। তাঁর কথায়, তাঁদের কোম্পানি শুধুই অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈরি করে না। মানুষ তাঁদের বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন। তাঁরা পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য রিসাইক্যাল করে পুরনো টিউব বা কোট দিয়েই নতুন টিউব তৈরি করেন। তিনি আরও জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীন হয় সেই সময় দেশবাসীকে বিনে পয়সায় বোরোলিন বিতরণ করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। এই ক্রিম দেশের ক্রিম। তাই ১৯২৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৮৯ বছরেও স্বমহিমায় বিরাজিত মানুষের মধ্যে। বোরলিন ছাড়াও এক্ষণ তৈরি করা হচ্ছে সুথল, এলিন, গ্লোসফট, পেনরাব।
–সন্দীপ দে

@@@@@@
একটা বৃষ্টি ভেজা
মেঘলা সকাল ,
গাছগুলো সব
ভিজেই চলেছে অবিরাম —–
মনে হচ্ছে ,–
গাঝাড়া দিয়ে এখুনি বলবে তারা ,
‘ভিজে কাজ নেই আর ,
আমরা চললাম ।
বিরহিণী বধূ
বসে আছে জানালায় ,
আনমনা সে
হাত দিয়ে তার গালে ।
বৃষ্টি হয়তো
তারও টানছে মন—
স্বামী র সাথে
ভিজবে সে কোন কালে …..!!!
শুধু আমাকে
ভিজতে পারছেনা
তোমার আবেগ ভরা
কোনো আমন্ত্রণ ।
মনের মধ্যে দিয়েছো যে ব্যথা—
অশ্রুজলে সিক্ত সেথা হতে
উঠে আসছে গন্ধ সোঁদা সোঁদা ॥
–দেবযানী দত্ত



➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )
দ্বিতীয় পর্ব:
রাজা অনেক বার আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি সময় করে উঠতে পারিনি। বারবার না বলতে কোথাও যেন নিজের বিবেকে বাধে। তাই আজ ঠিক করেই রেখেছি ওদের বাড়ি যাব। ওদের বাড়ি সিরকাবাদ গ্রামে। অযোধ্যা পাহাড়ের ঠিক উল্টো দিকে। পাহাড় ডিঙিয়ে পৌঁছতে হয় ওদের গ্রামে।
বর্ষা শেষ হয়ে শরতের আকাশ মেঘমুক্ত। স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ আলোয় ধৌত প্রকৃতি।পথের দু’ধারে কাশফুল গুলি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতের উপর লুটিয়ে পড়ছে হাওয়া। একটা পাখির মিষ্টি ডাক শুনে হঠাৎ গাড়ি থেকে নামলাম। রাজা কে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা পিউকাহা পাখির ডাক। নাম না জানা আরও কিছু পাখির আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে বিকেলের পরিবেশে । হলুদ সবুজ প্রজাপতির ইচ্ছে হাওয়ায় গা ভাসানো। গ্রামের মহিলারা মাথায় ভারি ভারি কাঠের বোঝা নিয়ে নামছে পাহাড়ের গা বেয়ে। ছাগলের পাল নিয়ে পাহাড়ের পথ ধরে নামছে মাঝ বয়সি একজন মানুষ ও মহিলা। মানুষটি বেঁটে হাইট, কালো ছিপছিপে গড়ন, শরীরে লুঙ্গি ও বড় হাতওয়ালা গেঞ্জি। ছোট বড় ছিদ্র দিয়ে ভেতরের বুকের কিছু অংশ চোখে পড়ছে । কাঁধের উপর মস্ত কাঠের ছাতা আর মাথার উপর গামছা জড়ানো। রাজা কে দেখে একগাল হেসে বললেন, “খুঁড়া ঘর চললে ন কি ব?” মুখে কাঁচা পাকা দাঁড়ি, হলদে হয়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকে শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদের হাসির রেখা। রাজা উত্তর দিল হ্যাঁ বলে। “আর তোর সাথে ইটা কে বঠে”? রাজা পরিচয় করিয়ে দেয় আমার সাথে বলে এটা আমাদের হাসপাতালের নতুন ডাক্তার বাবু। কোলকাতা থেকে এসেছে। ভদ্রলোক হাত দুটো জড়ো করে পননাম ডাকতার বাবু বলে উঠলেন । আমি প্রতি নমস্কার জানালাম। কিন্তু নিজের ই খারাপ লাগছিল।আসলে প্রণাম শব্দ টা খুব অপরাধী করে তোলে আমাকে। আমি ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলাম।
পাক খেতে খেতে আমাদের গাড়ি উঠছে অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে। অযোধ্যা পাহাড়ের গায়ে দুটো ড্যাম। একটা পাহাড়ের মাঝ বরাবর যেটা লোয়ার ড্যাম আর একটা সবার উপরে যেটা আপার ড্যাম। যেদিকে তাকাই এক অদ্ভুত মোহময়তা আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। নাম না জানা ফুল গুলো সুন্দরী অযোধ্যার শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই আপার ড্যাম পেরিয়ে পাহাড়ের উপর গ্রাম গুলো দেখতে দেখতে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। পাহাড়ের থেকে নীচে নামতে নামতে দেখছি ভুট্টা আর আঁখের ক্ষেত। সবুজের হিল্লোলে চোখ জুড়িয়ে ওদের বাড়িতে পৌঁছলাম।
✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️
–পার্থসারথি দত্ত

আকাশ তুমি কইলে কি
আমার মনের কথা ????
মনে ও কি মোর মেঘ জমেছে!!!
জমে আছে কি ব্যথা ??
তুমি হয়তো ঝড়ে যাবে
বৃষ্টি হয়ে মাটির ‘পরে —
আমার ব্যথা অশ্রু হয়ে
হৃদয় মাঝেই ঝড়ে পড়ে ॥
–দেবযানী দত্ত

(…“উপহার – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন)
একটু রাত করেই বাড়ি ফিরলো অমর। কলোনি’র লোকেরা এই সময় ঘুমিয়ে পরে। তবু কিছু বাড়িতে লাইট জ্বলছে। গিন্নি একটু চা খাওয়াবে? এত রাতে আর চা খেতে হবে না। হাত-মুখ ধুয়ে এসো। একেবারে খাবার খেয়ে নাও। আজ এত রাত হলো যে, ওভারটাইম করলে নাকি? একটু চা দাও না গিন্নি। আজ খেতে ইচ্ছে করছে না। খেতে ইচ্ছে করছে না মানে? কদিন ধরেই লক্ষ্য করছি তুমি ঠিকঠাক করে খাবার খাচ্ছো না। শরীর টা খারাপ নাকি? কি হয়েছে তোমার।মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ল নাকি গো? রাত কটা হয়েছে দেখলে? এত রাতে ঘুমোবে না কি তোমার জন্য জেগে বসে থাকবে। সকাল হতেই তো টিউশনি করতে এই বাড়ি ওই বাড়ি ছুটতে হবে। কত ঝক্কি পোয়াতে হয় দেখেছো ওকে। সাতসকালে টিউশনি করে দুমুঠো খেয়েই কলেজে দৌড় দেয় গো। কলেজ থেকে ফিরে আবার টিউশনি। রাত ৮ টায় বাড়িতে ঢুকে নিজের পড়া নিয়ে ব্যস্ত। দু-দন্ড বিশ্রাম পায় না গো মেয়েটা। নিজের চেষ্টাতেই কলেজে পড়ছে। ওকে কতটাই বা সাহায্য করতে পারছি। তোমার এই রোজগারে মেয়েটার কলেজে পড়া নিয়ে কলোনি তে একটু রাত করেই বাড়ি ফিরলো অমর। কলোনি’র লোকেরা এই সময় ঘুমিয়ে পরে। তবু কিছু বাড়িতে লাইট জ্বলছে। গিন্নি একটু চা খাওয়াবে? এত রাতে আর চা খেতে হবে না। হাত-মুখ ধুয়ে এসো। একেবারে খাবার খেয়ে নাও। আজ এত রাত হলো যে, ওভারটাইম করলে নাকি? একটু চা দাও না গিন্নি। আজ খেতে ইচ্ছে করছে না। খেতে ইচ্ছে করছে না মানে? কদিন ধরেই লক্ষ্য করছি তুমি ঠিকঠাক করে খাবার খাচ্ছো না। শরীর টা খারাপ নাকি? কি হয়েছে তোমার।মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ল নাকি গো? রাত কটা হয়েছে দেখলে? এত রাতে ঘুমোবে না কি তোমার জন্য জেগে বসে থাকবে। সকাল হতেই তো টিউশনি করতে এই বাড়ি ওই বাড়ি ছুটতে হবে। কত ঝক্কি পোয়াতে হয় দেখেছো ওকে। সাতসকালে টিউশনি করে দুমুঠো খেয়েই কলেজে দৌড় দেয় গো। কলেজ থেকে ফিরে আবার টিউশনি। রাত ৮ টায় বাড়িতে ঢুকে নিজের পড়া নিয়ে ব্যস্ত। দু-দন্ড বিশ্রাম পায় না গো মেয়েটা। নিজের চেষ্টাতেই কলেজে পড়ছে। ওকে কতটাই বা সাহায্য করতে পারছি। তোমার এই রোজগারে মেয়েটার কলেজে পড়া নিয়ে কলোনি তে কম গুজগুজ শুনতে হয় না আমাকে।
…ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…
–সন্দীপ দে