খুঁজে দেখো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

খুঁজে দেখো
জানি তুমি চলে গেছো দূরে
স্মৃতিটুকু ফেলেছো কি মুছে?
তোমার ও ভাঙাচোরা মনে
হয়তো বা দাগ রয়েগেছে
খুঁজে দেখ।
এখনও কি বৃষ্টিরা এলে
ছুটে গিয়ে উঠোনে তে ভেজ?
এখনও কি চাঁদের কপালে
আমার এ মুখ খানি খোঁজ?
বৃষ্টির জল হয়ে লেগে থাকি
জানালার কাঁচে,
এখনও তো মন পুড়ে
তোমার ঐ সোহাগের আঁচে।
অভিমানে ঝরে গেছি পলাশের ই মত।
খুঁজে দেখ।

‌– পার্থসারথি দত্ত

মায়ের বাড়ী

মা
Poem by Devjani Dutta
মা
মা

আমার জনম দায়ী মাকে আমি
পাবো কি মা !!তোমার বাড়ী গেলে ??
তা যদি মা পাই ,তবে ঠাঁই দিও মা
তোমার ওই রাঙ্গা চরণ তলে ॥

–দেবযানী দত্ত

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি
Story by শুভ্রজিত মুদি

২য় পর্ব, (…”লেবার_ট্রেন – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন)

লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি
লেবার_ট্রেন – ২য় পর্ – শুভ্রজিত মুদি

সবার সাথে হাটতে হাটতে আমিও শহরের জনস্রোতে মিশে গেলাম । শহরটা যেন প্রান ফিরে পায় লেবার ট্রেনের লোকগুলোর জন্য । শহরের অলি গলি এদের চেনে । ছোট, বড়ো সব বাড়ির প্রতিটি ইটে এদের স্পর্শ লুকিয়ে আছে । একটা না বলা অধিকারবোধ মালিকের অজান্তে এই গরিব খেটে খাওয়া লোক গুলোকে ছুঁতে চায় । কিন্তু বাবুদের মানবিকতা তাদের চৌকাঠ ঘেসতেও দেবে না । এসব কথা ভাবতে ভাবতে আমি আমার গন্তব্যে পৌচে গেলাম । সামনেই একটা নির্মেয়মান বহুতল । অনেক উচুতে নেট লাগিয়ে কাজে ব্যস্ত কিছু শ্রমিক । রাস্তায় নামামো ইট মাথায় করে তুলছে আমার বীরাঙ্গনারা । কাজের তাড়া অনেক । ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এসে বলে গেলেন আর বেশি সময় নেই । তাড়াতাড়ি কমপ্লিট দিতে হবে কাজ । সব ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি হয়ে গেছে, ক্লাইন্ডদের দেওয়া সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে কাজ । আজ ওভার চাইম করতে হবে কিন্তু তার জন্য কোনো বেশি টাকা তারা পাবে না কারণ তাদের কুড়েমির জন্যই কাজ পিছিয়ে আছে । বলেই গটগট করে চলে গেলেন ইঞ্জিনিয়ার । সকলেই একে অপরের মুখের দিকে চেয়ে দাড়িয়ে রইল অসহায়ের মতো । তারপর আবার শুরু হল কাজ, চলতে থাকল নিজের ছন্দে । সারা দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ফাঁকিবাজের তকমাটা পেয়ে তারা যে মর্মাহত এটা তাদের আলোচনা শুনে বোঝা যাচ্ছে । একজন বলে উঠল “বাড়তি টাকা না দিলে আমি এক মিনিটও বেশি কাজ করব না, রোজ রোজ মজা পেয়েছে নাকি ?” বাকিরা সবাই চুপ করে রইল । মৌনতা সমর্থনের লক্ষন আজ তা ভালো মতে টের পেলাম । কিছুক্ষন পর আমার ছুটি হয়ে গেল, আমি আবার বেরিয়ে পড়লাম শহরের গলিতে । রাস্তায় কোথাও না কোথাও এই অসভ্য, নোংরা লোকগুলো বাবুদের আঙুলের ঈশারায় ঘাম ঝরাচ্ছে ।

হাটতে হাটতে হঠাৎ পিছন থেকে ডাক শুনে দাড়িয়ে তাকালাম, দেখি পিছনে দাড়িয়ে আমার সফর সঙ্গী লেবার ট্রেনের এক অসভ্য যাত্রী । হাতে ময়লা একটা থলি, নোংরা জামা-প্যান্ট পরা শীর্ন শরীর, কর্মঠো এক লেবার হেটে এল আমার কাছে । একবুক কষ্ট নিয়ে হাসি মুখেই বলল, “আজ কাজ পাইনি ভাইপো ।” আমি কি বলল বুঝে ওঠার আগেই ও বলল “চল একটু বাজারটা ঘুরে নিই, এখন ট্রেনের সময় আছে” । আমি কিছু না বলে পিছু পিছু হাটতে লাগলাম । শাক সবজি নিয়ে যেতে হবে ঘরের জন্য, বাড়িতে দুই ছেলে, এক মেয়ে,বউ, বুড়ো মা আছে । পুরো বাজার মোটামুটি সব দোকানেই দাম জিজ্ঞেস করে একটা কোনের দোকানে গিয়ে একটু দাগ লাগা পটল গুলোর থেকে ভালো ভালো বাছতে লাগল, বুঝলাম দাম কম । ফলের দোকানগুলো ঘুরে ফিরে কমদামি, দাগ লাগা কলা আর লেবু নিল ছোট ছেলেটার জন্য । ছোটটা যেতে যেতে পায়ে পায়ে ঘুরবে । কিছু না নিয়ে গেলে ওর মুখটার দিকে তাকানো যায় না- বলে একটা দীর্ঘশ্বাস নিল অসভ্য লেবারটা । তারপর পকেটের থেকে একটা ছোট্ট পলিথিন ব্যাগের ভাঁজ খুলে তার থেকে টাকা বের করে দিল । তার অভাবের সংসারে ছেলে মেয়ে গুলোকে মানুষ করা, দু বেলা মুখে খাবার তুলে দেওয়া, বৃদ্ধা অসুস্থ মায়ের ঔষুধ এসব কিছু করার পর স্বামী স্ত্রীর ভাগ্যে আলাদা করে কিছু জুটে না । ওদের খুসি গুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে ওরাও বেশ সুখেই আছে । তাছাড়া ছেলেমেয়ে গুলোর  টিউশনের টাকা, বই খাতা চালানোর জন্য অনেক সমস্যার মুখোমুখি রোজই হতে হয় । তাদের দাম্পত্ব জীবনের ছোটবড়ো সব সুখ বিসর্জন দিয়েও তাদের সব চাহিদা মেটানো যায় না । কাল বাড়ি ফেরার পর মেয়ে জড়িয়ে ধরে বলেছে বাবা মিনতি দিদির বিয়েতে যাওয়ার আগে একটা নতুন সালোয়ার কিনে দেবে ? সেই দুর্গাপুজায় একটা নতুন জামা দিয়েছো । ওটা সব জায়গায় পরে যেতে আর ভালো লাগে না । এসব বলতে বলতে নিজের অজান্তের সেই দায়দায়িত্বহীন অসভ্য লেবারটার চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে এল । কেউ টের পাওয়ার আগেই নিমেষে চোখ মুছে নিল । আমি বাকরুদ্ধ হয়ে সব শুনছি । কোনো কথা বেরোচ্ছে না । কথা বলার ভাষা হারিয়েছি । গল্পের ফাঁকে স্টেশনে পৌছে গেলাম । বসে আছি ট্রেনের অপেক্ষায় । মনে মনে ভাবছিলাম অসভ্য লেবাররটির রোজের অভাবের জীবনের সংঘর্সের কথা । সবার চাহিদা মিটিয়ে কি বা থাকে তার নিজের জন্য । রোজ সকালের লেবার ট্রেন, কয়েক বছর ধরে পরে আশা সেই নোংরা, ময়লা জামাকাপড়, ছিড়ে যাওয়া চটি জোড়া এই তার পাওয়া । তার অসুখ করে না, তার ছুটি নেই, তার বিশ্রাম নেই । আছে শুধু ক্ষুধার্ত পেট আর নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর গুরু দায়িত্ব । তাই একদিন কাজ না পেলে তার ভিতর যে দাবানল জ্বলে, তার সামনে ভেষে ওঠে ছেলেমেয়ে আর বৃদ্ধা মায়ের ক্ষুদার্ত মুখ ।

জিজ্ঞেস করলাম, ” কাকু আজ কাজ পেলে না কেন ?”

– সে অনেক কথা ।

– বলো অনেকটা রাস্তা যাবো একসাথে ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

–শুভ্রজিত মুদি

অন্তহীন – ১ম পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
Story by পার্থসারথি দত্ত

প্রেম হোল ঐশ্বরিক সম্পদ। বাংলা বর্ণমালায় এমন কোন শব্দ নেই যা দিয়ে এর যথাযথ মানে বের করা সম্ভব। তাই তা বর্ণনা করার দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা আমি করিনি। শুধু চেষ্টা করেছি এক অব্যক্ত, অন্তহীন প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী মনের প্রেমটাকে আপনাদের চোখের সামনে তুলে ধরার।
রাজা আমার বন্ধু। সহপাঠী নয়। একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করার সুবাদে। আমি কোলকাতার ছেলে। মেদিনীপুর থেকে ডাক্তারী পাশ করে, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে এসেছি পোস্টিং নিয়ে। অবশ্যই ইচ্ছে করে।রড় হয়ে ডাক্তার হবো ও গ্রামের মানুষ দের সেবা করব এটাই ছিল স্বপ্ন। বাড়িতে যখন শুনেছিল আমার পোস্টিং পুরুলিয়া, রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল মা। বাবা যদিও খুব বেশি আপত্তি তোলেন নি। মা’র ধারনা, পুরুলিয়া মানেই মাওবাদীদের মুক্তাঙ্গন। আর আমার যে কোন মুহূর্তে কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই বারবার আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমি যেদিন প্রথম পুরুলিয়ায় আসি মা’ই ছাড়তে এসেছিল।বাড়ির জিনিস পত্র তখন কিছুই আনিনি।
এর আগে একবার আমি এসেছিলাম পুরুলিয়া C. M. O. H অফিসে জয়েনিং লেটার নিয়ে, সেখান থেকে বাঘমুন্ডির পাথরডি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পোস্টিং এ পাঠানো হয়েছে। হাওড়া থেকে আমি আর মা ট্রেনে করে বরাভূম স্টেশনে নামি। এবং সেখান থেকে বাই বাস বাঘমুন্ডি। দুপাশে দুর্ভেদ্য জঙ্গল, আর তার মাঝে ছুটে চলেছে আমাদের বাস।শাল, পিয়াল, পলাশ-মহুয়ায় সাজানো বনানী। রাস্তার পাশে অযোধ্যা পাহাড়ের রেঞ্জ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এতো সুন্দর, এতো সবুজের সমারোহ আমি আগে কখনোই দেখিনি। এখানকার মানুষের ভাষা আদিবাসীদের মতো। আমরা যখন বাঘমুন্ডিতে গিয়ে নামলাম তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পথে। আকাশের বুকে বাদামী রঙের আলো। পাখিদের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা, আর তাদের কাকলিতে মুখরিত প্রকৃতি। জন জীবনে এখানে ব্যস্ততা বা ছুটে চলার প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে।
নেমেই একটা রিক্সো ডাকলাম। কোথায় যাবেন বাবু? বলেই রিক্সাওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন মায়া লাগলো দেখে। অস্তমিত সূর্যের মতোই তার চোখ যেন ডুবতে বসেছে মুখমণ্ডলের অতল গ্বহরে। আমি যখন বললাম, আমি এই গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছি, বুঝতে পারেন নি। ডাক্তার কথাটা শোনার পর বললেন ও, ঐ হাঁসপাতালটার ডক্টর। আমি বললাম হ্যাঁ। খুব খুশি হয়ে বললেন আরে আসুন আসুন। রিক্সোর শিটের ধূলো হাত দিয়ে ঝেড়ে বসতে বললেন। জিজ্ঞেস করলেন আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমি বললাম কোলকাতা। উনি এমন ভাবে তাকালেন যেন অবাক হওয়ার মতো। কইলকাতার ডক্টর হামদের গাঁয়ে? হামদের কি সৌভাগ্য ডক্টর বাবু। কেন? সৌভাগ্য কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম। ডাক্তার জিনিস টা যেন একখানা দেখার জিনিস। উনি সকলকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলেন, আমি কোলকাতার ডাক্তার, ওনাদের এখানের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে এসেছি ।এই অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হোল, আতিথেয়তায় অকৃপণ এখানের মানুষ জন। সরলতা এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মুখের অকৃত্রিম হাসি যেন পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত মা’র মনে যে ভয়, যে সংশয় বাসা বেঁধে ছিল সব যেন একটা পলকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। শুধু আমার মনে একটা প্রশ্ন গেঁথে গেছে। এতো রুক্ষ মাটিতে এত কোমল, হৃদয়বান মানুষের জন্ম হয় কি করে?

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

উপহার – ১ম পর্ব – সন্দীপ দে

Sandip Dey
[Story by – সন্দীপ দে]
ডাক্তার বাবু আমি আর কতদিন বাঁচতে পারি?
আপনাকে বলেছিলাম যে বাড়ির লোক নিয়ে আসতে। কিছু কথা আছে যেটা আপনাকে বলা যাবে না।
তবুও বলুন না ডাক্তার বাবু।
আপনার বাড়িতে কে কে আছে?
মেয়ে বড় কলেজে পড়ছে। ভেবেছিলাম কলেজ পাস করলেই দেশের ভিটেবাড়িটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়ে দেবো।
আপনি করেন কি?
সামান্য কারখানায় কাজ। খরচ বাঁচিয়ে কিছুই সঞ্চয় নেই। এ রোগের পথ্য কেমন করে জোগাড় করবো সেটাই চিন্তার।
চিন্তা করবেন না। আপনি অনেকদিন বাঁচবেন! হাসপাতালের ঔষধ গুলো নিয়মিত খান। আর রুটিন মাফিক চেকআপ টা করিয়ে যাবেন।
নমস্কার ডাক্তার বাবু আজ চলি আমার আয়ু যেন আপনার আয়ুরেখা তে যোগ হয়।
গল্পের মোড় পরের অধ্যায়ে পাওয়া যাবে…ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

রহশ্যময়ী অযোধ্যা – ১ম পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

Story by -শুভ্রজিত মুদি

হাড়কাপানো হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন অলস সকালে ঘুম থেকে উঠে বসে আছি গরম চায়ের প্রেমময় ছোয়া ঠোঁটে আর হাতে লাগাবো বলে । এতো গাঢ় কুয়াশা শেষ কখন দেখেছি মনে নেই । অযোধ্যার এই মায়াবি জঙ্গলে পাহাড়ের উপরে রাত কাটানোর যে অনুভব তা হয়তো লিখে বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই । বাকিরা বিছানায় । আমি একটু তাড়াতাড়ি উঠে গেছি । রাত্রে ঘুমের দারুন পরিবেশ থাকলেও আমার ঘুম হয়নি । সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর সবার অজান্তেই আমি ক্যামেরা আর একটা লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়ি রাত্রের পাহাড় জঙ্গলের রোমাঞ্চ স্পর্শ করতে । সারা রাত ঘোরাঘুরি করার পর  সকাল পাঁচটায় ফিরেছি । তখনও সবাই শীতের সকালের শেষ ঘুমটুকু তারিয়ে উপভোগ করছে । রাত্রে যে আমি বাইরে গেছি এটা ওরা জানে না ।  কি দেখলাম বলার জন্য অস্থির হচ্ছি । কিন্তু একটু অপেক্ষা করতেই হবে সবাইকে । রাত্রের সব ঘটনাটা ভাবছি, এমন সময় মঙ্গল মাঝি চা নিয়ে এলো । সে অবশ্য আমাকে ভোরে ফিরতে দেখেছে । নিজেই বলে গেল, “বাবু টুকু বইস তুই । আমি চা দিয়ে যাছি।” অযোধ্যার চায়ের বাগানের শুকনো চায়ের পাতা দিয়ে তৈরি লিকার চায়ের কাপ হাতে নিয়ে তাতে চুমুক দিতে যাবো তখনই পিছন থেকে একটা আওয়াজ শুনে ঘাড় ঘোরাতে অভি বলল কত দুর গিয়েছিলি ? আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও বলল, তুই রাত্রে বাইরে গেছিলি তা আমি দেখেছি । যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু এত ঠান্ডায় আর বেরোতে ইচ্ছে হল না তাই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম । বলতে বলতে একটা চেয়ার নিয়ে আমার সামনে এসে বসল, আসে পাশে তাকিয়ে কানের কাছে মুখ এনে চাপা গলায় বলল,  “কি দেখলি ?”

আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়ে ধীরে বললাম, কিছুই না তো । ও আরো চেপে ধরলো, তাহলে  ফিরতে এত দেরি করলি কেন ? পথ হারিয়ে গেছিলাম । কই ক্যামেরাটা দেখি বলেই ও বেডরুমের দিকে ছুটল । আমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পা দোলাতে লাগলাম । ক্যামেরা হাতে ছবি দেখতে দেখতে কাছে এসে অভি বলল কই, কিছুই নেই তো ! তুই পুরো রাত কি করলি বলতো ! তুই বলবি নাকি সবাইকে ডাকবো ? বলেই বেডরুমের দিকে যাবে তখনি মঙ্গল মাঝির কাঁপা গলায় ডাক এলো, “বাবু তুর চা ট লে” । অভি চা নিয়ে অশান্ত চিত্তে আমার কাছে বসল । হটাৎ মঙ্গল মাঝি বলে উঠল, “উ পাহাড়টর দিকে যাস না বাবু; লোকে অনেকে কথা বলে । মু যখন ছোট ছিলম, তখন বাপ বইলত, হাঁ পাহাড়ে বাঘ আছে । মুদের কুলির রামদাস মাঝির ছট ছিলাট হাঁ পাহাড়ে ছাগল লিয়ে গেছিল, আর ফিরে লাই । তার পর লে বহু বছর কাইটল, আর কউ হা দিকে যায় নাই । এখন উ দিকে রাইতে ফারাকে ফারাকে আগুন জ্বলতে দেখা যায় । তুদের মতন পাঁচটা কইলকাতা বাবু আসেছিল মুদের ঘরটতে । বাকি চার বাবু ঘর ঘুরে গেল । কেও ওই বাবুটর পাতা লিল নাই । মুরা কিছুদিন খুজাখুঁজি করলম । পাই লাই রে । ওই বাবুটও তুর মতন ইকাই হা দিকে রাইতে গেছিল আর ফিরল লাই । কেউ খোঁজও লিল নাই আর । ছোট মুহে বড় কুথা বুললম ।” – এই বলে মঙ্গল মাঝি চলে গেল । অভি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, ওকে থামিয়ে আমি বললাম “হারিয়ে যাওয়া ছেলেটা কে জানিস ?” আরও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল আমার মুখের দিকে । কি হচ্ছে তার কিছুই তার বোধগম্য হচ্ছে না । আমি বললাম “যা তাড়াতাড়ি স্নান করে নে, একটা জায়গা ঘুরতে নিয়ে যাবো ।” ও কোনো কথা না বলে এক নিঃশ্বাসে কাপের চা খেয়ে ছুটে গেল । ভোরেই মঙ্গল মাঝি পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে স্নানের জল এনে দিয়েছে । বাকিরা তখনও কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে । ওদের ডিস্টার্ব না করে আমার ব্যাগ থেকে কিছু দরকারি জিনিস বের করছি, পিছন থেকে অভি ভেজা মাথা মুছতে মুছতে বলল আমি রেডি । মঙ্গল মাঝি দুটো থালায় খাবার নিয়ে এল সাথে আমার কথা মতো একটা টিফিনে কিছু খাবার এনে দিল । আমরা খেয়ে বেরোবার সময় মঙ্গল মাঝিকে বলে গেলাম ফিরতে দেরি হবে, ওরা উঠলে ওদের বলে দিতে । ও আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবছিল । বুঝলাম কিছু বলতে চাইছে । আমরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলাম ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

– শুভ্রজিত মুদি

ধুন্ধুমার বা ধূমায়িত চিকেনকারী – দেবাশীষ দত্ত

Debashis Dutta
The Chef Debashis Dutta
ধুন্ধুমার বা ধূমায়িত চিকেনকারী
ধুন্ধুমার বা ধূমায়িত চিকেনকারী

উপকরণ:
চিকেন 1 kg, কারীপাতা 25/30 (পাতা), আদা 25gm, রসুন 30/40gm, পিঁয়াজ 300gm, আলু 300gm, টক দই 4 চামচ, জিরে বাঁটা 10gm, হলুদ 2/3 চামচ, চিনি 1 চামচ, সান ফ্লাওয়ার রিফাইন তেল 75/100gm, টমেটো 1টা, কাঁচা 5/7টা, শুকনো লংকা 4টা, কাঁচা লংকা, নুন (স্বাদ মত)

বিধি :
আদা, পিঁয়াজ, রসুন, কারিপাতা, কাঁচা লংকা সব একসাথে বেঁটে পেস্ট করে নিয়ে চিকেনের সাথে মাখাতে হবে। সঙ্গে টক দই, হলুদ, জিরে বাঁটা পেস্ট মাখিয়ে নিতে হবে।
এবার ওভেনে বা উনুন/স্টোভে করাই চাপিয়ে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে শুকনো লংকা দিন, এবার মসলা মাখানো চিকেন গরম তেলএ দিয়ে কোষতে থাকুন। 15 মিনিট কষার পর আলু(আলু বিহীন রান্নাও করতে পারেন) ও টমেটো দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। 10 মিনিট পর স্বাদ মত লবন/নুন দিয়ে অল্প জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন। 10/15 মিনিটের পর মাংস সেদ্ধ হয় গেলে ওভেন অফ করে নামিয়ে নিন। রান্না কমপ্লিট। এবার খেয়ে দেখুন আর আমায় খাওয়ান 🙂

-দেবাশীষ দত্ত

প্রেমের নৌকাডুবি – শেষাংশ – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

#শেষাংশ#

অনেক খুঁজে যখন তাকে পাওয়া গেল তখন সে ডুবতে শুরু করেছে মদের নেশাই। গ্রাম থেকে বহু দূরে শশ্মানের পোড়ো বাড়িটার মধ্যে। পাশে মরা নদীতে ফুটে আছে কচুরিপানার ফুল। আকাশের বেহায়া চাঁদের নির্লজ্জ হাসিতে তারাও হাসছে। রাত তখন গভীরে ডুবে যাওয়ার প্রতিক্ষায়। বুজে যাওয়া নদীটার ক্ষীণ বহমান জল, পাথরের খাঁজে ঢুকে
মৃদু আওয়াজে নিজের অস্তিত্ব ব্যক্ত করছে। জোনাকির আলোক মালায় গাছেদের বৈভব সাজ। ঝিঁঝিঁ আর ব্যাঙেদের ডাক। এই সব কিছুই একটা অদ্ভুত মোহময়তা রচনা করেছে। মৃনালের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অজিত যখন তার কাঁধে হাত রেখে বসেপড়ল তখন মৃণাল বলে উঠল, হেরে গেলাম। আমি হেরে গেলাম। অজিত, কেন হেরে যাওয়ার আগে আমার মৃত্যু হলো না? জীবনে তো আমি কখনো হারতে শিখিনি। তবে কেন আজ আমাকে এভাবে হারতে হল? জীবন ঘড়ির কাঁটা গুলো বড় ক্লান্ত অজিত। তাই এবার থেকে তারা বড় ধীর গতিতে চলবে। জীবনের সুদীর্ঘ পথ পরাজিত সৈনিকের মত মাথা নিচু করে বাঁচতে হবে। না মৃনাল না। তুই তো হেরে যাওয়ার মানুষ নোস । তোর না আর্মির চাকরি? একটা না পাওয়া জীবনের পরাজয় হতে পারে না রে। জীবনের না পাওয়া গুলো কখনো কখনো অনেক বেশি কিছু পাইয়ে দেয়। এটা বলেই পকেট থেকে একটা চিঠি বার করল অজিত। চিঠিটা অপুর লেখা।
“প্রিয় মৃণাল…
জানি না কেমন আছো? মৃত্যুর ওঁৎ পেতে থাকা রাস্তা আর প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধের হাতছানির মাঝে আশা করি ভালোই আছো। ঘামে ভিজে যাওয়া খাঁকি পোশাকটা, অবসরের হাওয়ায় শুকোতে শুকোতে তোমার যে আমার কথা মনে পড়বে, সে তুমি না বললেও আমি ঠিক বুঝতে পারি। জ্যোৎস্নার আলোয় ভিজে যাওয়া তোমার বরফে ঢাকা কাশ্মীরের পাহাড় থেকে, মুখপুড়ি চাঁদটাকে দেখে আমার কথা নিশ্চয়ই ভাবো তা আমি জানি। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না কত নারী মনের নিঃশব্দ মৃত্যু ঘটে প্রতিনিয়ত। ইচ্ছে অনিচ্ছের দোলায় চড়িয়ে বহুদূরে তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়। রাস্তার বয়ে যাওয়া জলে কাগজের নৌকো যখন আমরা ভাসাতাম, তখন ছিল আমাদের ছেলেবেলা। কিন্তু কেবলমাত্র মেয়ে বলেই কেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাগজের নৌকোর মত ভাসিয়ে দেওয়া হয় আমাদের তা আমি বুঝতে পারি নি। আমার ইচ্ছে কখনো জানতে চাই নি কেউ। মা যখন বাবাকে বলেছিলেন মেয়েটার মতামত নিতে, বাবা তখন ধমক দিয়ে বলেছিলেন মেয়েদের আবার মতামত কি? যেদিন বলব, যার সঙ্গে বলব, তাকেই বিয়ে করতে হবে।ব্যস। সত্যি মৃণাল আজকের দিনেও মেয়েদের মতামতের কোন মূল্য নেই। মূল্য তো শুধু তাঁদের ফাঁকা অহংকারের। মনের ভেতর দিন দিন সযত্নে লালন পালন করা বস্তাপচা পারিবারিক ঐতিহ্যের। ছেলেটা পি এইচ ডি করেছে। অক্সফোর্ড এ কর্মরত। কিন্তু বিশ্বাস কর মৃণাল আমি এসব কিছুই চাই নি।শুধু চেয়েছিলাম তোমার সঙ্গে সুখের ঘর বাঁধতে। সমুদ্রের তীরে একটু একটু করে যে খেলা ঘর আমি বাঁধতে শুরু করেছিলাম, হঠাৎ একটা ঢেউ এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। সবচেয়ে দুঃখ কি জানো মৃণাল? আমি যখন তোমার কথা বললাম, তখন আমার ফোনটাও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। আমার কলেজ বন্ধ করে দিল। কত বিনিদ্র রাত আমি তোমার কথা ভেবে কাটিয়েছি। জানি না কিসের টান যা বারবার আমাকে তোমার কাছে টেনে নিয়ে যায়। বহু পথ ঘুরে হারাতে চাওয়া মন তোমার সীমানায় এসে পথ হারায়। আমার অবাধ্য পালক গুলো বারবার ডানা ঝাপটে তোমার কাছে যেতে চাই, একটু যত্ন পাওয়ার আশায় ।তোমাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা টা, আমার আমি টাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।আমি কোনদিন সুন্দরী ছিলাম কি না জানি না। তবে ছেলের বাড়ি আমার মধ্যে সৌন্দর্য্য টাই দেখেছে। আমার সৌন্দর্যের আড়ালে থাকা মনের খবর নেই নি ওরা। আজ আমার আর দামী আসবাবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ওরা আমাকে বৌ করে নিয়ে যাচ্ছে না মৃণাল। ওরা আমার সৌন্দর্য টা বাড়ি সাজাতে ব্যবহার করবে। ওদের সৌখিন অট্টালিকায় আমি কেবল ঘর সাজানোর ফুলদানি। এখন মনে হয়, সুন্দরী হয়ে না জন্মালেই হয়তো ভালো হতো। তুমি কিছু মনে করো না মৃণাল। ভেবোনা ফাঁকি দিয়েছি তোমায়। হৃদয়ের অন্তরতম অন্তস্থলে চীর সবুজ হয়ে তুমি ছিলে, আছো, থাকবে। তোমায় শব্দ দিয়ে নাই বা সাজালাম। গহীন মনের রাজপ্রাসাদে তুমিই রাজা।রাজ মুকুট শুধু তোমারই জন্য। তোমার সেই কবিতাটা খেয়াল আছে মৃণাল? পূর্ণেন্দু পাত্রীর ” সেই গল্প টা ”
“ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
-ওঠ্ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে।

এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।”
ভালো থেকো মৃণাল। খুব ভালো থেকো। ”
ইতি তোমার
অপরাজিতা।

এমনি করেই কাটছিল মৃনালের দিন। হঠাৎ মিলিটারি বসের ফোন। খুব তাড়াতাড়ি ডিউটি তে যোগ দিতে হবে তাকে। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, কিছু পাক চর (আতঙ্কবাদী) ঢুকে পড়েছে সীমান্তে। কাশ্মীরের জঙ্গলে তারা লুকিয়ে আছে। যে কোন মুহূর্তে শুরু হতে পারে গুলির বিনিময়। আর তাই তাদের তাড়াতাড়ির মধ্যে যোগদিতে হবে।
প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কে কোন পজিশনে থাকবে।
হ্যালিকাপ্টারে করেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে সকলের হাতে। একটা একটা করে গাড়ি বেরিয়ে পড়ছে আর্মি ক্যাম্প এর ভেতর থেকে।
মৃণালের গাড়ির কাছে এসে দেখা করল তার মিলিটারি বস। মৃনাল কে সে একটু বেশি ভালোবাসে। অস্ত্র চালানোর ট্রেনিং এ সেই ছিল সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র। তাদের সুটিং কম্পিডিশনে সেই ছিল প্রথম। আজ মৃনালের পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো, তোমার ওপর আমার অনেক প্রত্যাশা। আমি জানি তুমি বীর যোদ্ধা। তুমি জয়ী হয়েই ফিরবে। তোমার ললাটে জয়ের তিলক এঁকে দিতে আমি অপেক্ষা করবো। মুহূর্তে শক্ত হয়ে ওঠে মৃনালের চোয়াল। গর্বে ফুলে ওঠে তার বুক। চোখে তার জয়ের নেশা। মুখে প্রশস্ত হাসি। কোন পিছু টান নেই। দেশ বাঁচাতে বদ্ধপরিকর এক বীর যোদ্ধা।
হঠাৎ কিছু একটা আওয়াজে চমকে উঠল সবাই। গাড়ি থেকে নেমে যে যার মতো পজিশন নিয়ে নিয়েছে। কেউ পাহাড়ের কোলে, কেউ গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে শুরু হলো দু’পক্ষের গুলির লড়াই। ভারত মাতা কি? জয়। ধ্বনি দিতে দিতে চলছে শত্রু নিধন যগ্ঞ। মাঝে মাঝে দু একটা বোমার আওয়াজে কেঁপে উঠছে কাশ্মীরের মাটি। আকাশে বাতাসে ভেসে যাচ্ছে বারুদ এর গন্ধ। এভাবে অনেক ক্ষন চলতে থাকে। মৃনালের নিপুণ লক্ষ্যে ব্যহত হয় পাক বাহিনীর চক্রান্ত। তার পর এক সময় শান্ত হয় বিপক্ষের প্রতিঘাত। আবারও ভারত মাতা কি? জয়, ধ্বনিতে চলে যুদ্ধ জয়ের উল্লাস। এবার শুধু লাশ গুলো উদ্ধার করার পালা। মৃনাল এগিয়ে আসছে, হঠাৎ ছুটে আসে একটা বুলেট। মৃনালের বুকের মাঝ বরাবর গেঁথে গেছে। মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃনাল। আবার গুলি চালাতে শুরু করে ভারতীয় সেনা। ওরা যে দু এক জন বেঁচে ছিল তারা পিছনে পালিয়ে যাচ্ছে । মৃনাল যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এক মূহুর্ত দেরী না করে সকলেই ছুটে আসে, তার মিলিটারি বস ও ততক্ষণে ছুটে এসেছেন তার কাছে। মৃনাল তোমার কিচ্ছু হয় নি। কিচ্ছু হয় নি তোমার। তোমাকে বাঁচতে হবে। না স্যার। আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে। আপনি শুধু কথা দিন আপনি ওদের শেষ করবেন, ওদের চক্রান্ত বানচাল করে যুদ্ধ জয়ের শেষ হাসি টা আপনিই হাসবেন স্যার। কথাদিন। কথাদিন। আমি তো আর দেখে যেতে পারলাম না স্যার। কিন্তু আপনি ওদের শেষ করে আমার মৃত আত্মার শান্তি কামনা করবেন। আমার মৃতদেহ টা কে গান স্যালুট দিয়ে সন্মান জানানোর আগে, আমার লাশের পাশে ওদের লাশ গুলো শুয়িয়ে রাখবেন। আর তা না হলে আমি মরেও শান্তি পাবনা স্যার। বলুন না স্যার, বলুন না। আর তা যদি না হয়, বলতে বলতে গলার স্বর বুজে এলো তার। চোখের পাতা গুলোও জড়িয়ে যাচ্ছে । হাঁপিয়ে উঠছে সে। বিন্দু বিন্দু ঘামে ভিজে গেছে তার মুখমণ্ডল। সেই একই কথা যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল তার বসের মুখ থেকে, “তা যদি না হয়? ” মৃত্যু পথযাত্রি মানুষ টা হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে উঠল,
“তা যদি না হয় জানবো তুমি তো মানুষ নও,
গোপনে গোপনে দেশদ্রোহীর পতাকা বও।
ভারতবর্ষ মাটি দেয় নি কো? দেয় নি জল?
দেয়নি তোমার মুখেতে অন্ন? বুকেতে বল?
পূর্ব পুরুষ অনুপস্থিত রক্তে তাই,
ভারতবর্ষে আজকে তোমার নেইকো ঠাঁই।”

–পার্থসারথি দত্ত