

গন্ধবণিক সম্প্রদায়ভুক্ত, এই পরিবারের সদস্যেরা হলেন চণ্ডীমঙ্গলের ধনপতি শ্রীমন্ত সদাগরের বংশধর। তাই এই বংশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে শিবপুজো।
ডাকের সাজের এক চালির প্রতিমা
কোথাও দশভুজা, কোথাও অভয়াদুর্গা বা হরগৌরী। এমনই রূপবৈচিত্রে অনন্য বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসব। কলকাতায় যে কয়েকটি পরিবারে শিবদুর্গা পুজোর প্রচলন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বিডন স্ট্রিট ভোলানাথ ধাম।

গন্ধবণিক সম্প্রদায়ভুক্ত, এই পরিবারের সদস্যেরা হলেন চণ্ডীমঙ্গলের ধনপতি শ্রীমন্ত সদাগরের বংশধর। তাই এই বংশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে শিবপুজো।
এই পুজোর সূচনা হয় ১৯০৫-এ বারাণসীতে। পুজো শুরু করেন ভোলানাথ দত্ত। সেখানে আট বছর পুজো হওয়ার পরে কলকাতার শোভাবাজারে গোলক দত্ত লেনের বাড়িতে পুজোটি স্থানান্তরিত হয়। সেখানে ১৯২৪ পর্যন্ত পুজো হয়। এর মধ্যে ১৯২২-’২৩ নাগাদ বিডন স্ট্রিটের বসতবাড়িটি অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের পরিবারের কাছ থেকে কেনা হয়। সংস্কারের পরে সেখানেই পুজোটি স্থানান্তরিত হয় ১৯২৫-এ। সেই থেকে বিডন স্ট্রিটের বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে।
ডাকের সাজের এক চালির প্রতিমা। পরিবারের প্রবীণ সদস্য অজয় দত্ত বলছিলেন, ‘‘এখানে শিবের কোলে দুর্গার অধিষ্ঠান। এই পরিবারে শিবকে জামাই হিসেবে পুজো করা হয়। আর দুর্গা যেন বাড়ির মেয়ে।
এক খিলানের চওড়া প্রশস্ত দালানে পুজো হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে হয় বোধন। সেই থেকে নবমী পর্যন্ত চলে চণ্ডীপাঠ।
ব্যবসায়ী পরিবার বলেই বিজয়া দশমীর দিনে পুজো শেষ হলে তবেই দোকান খোলা হয়। অব্রাহ্মণ পরিবার তাই অন্নভোগের প্রচলন নেই। সকালে চালের নৈবেদ্য ফল, মিষ্টি আর রাতে থাকে ঘিয়ে ভাজা লুচি, ভাজা আর নানা ধরনের মিষ্টি।
এই পরিবারের কুমারী পুজো হয় তবে তার কিছু বিশেষত্ব আছে। পুরোহিত নয়, কুমারীকে পুজো করেন বাড়ির সধবা মহিলারাই। এ ছাড়াও হয় ধুনো পড়ানো।
–শোভন সাধু


Great post!
বেশ ভালো লাগলো