পি এন পি সি – দেবযানী দত্ত

পি এন পি সি
দেবযানী দত্ত
পি এন পি সি
পি এন পি সি

[পদী পিসির বাইরের দরজা সামনে বিকাল হলেই বসেন পাড়ার বয়স্কা মহিলার . তাদেরই কথা বার্তা ]
বাড়ুজ্যে গিন্নি — হা গো হারু র মা শুনেছিস কথা !!! ছি ছি অধিকারী দের বউটা কি দজ্জাল লো,!!!

হারুর মা : —-কেনো কি হলো খুরি ??

বারুজ্যে গিন্নি :— ওলো পুলিশ এসেছিলো এক্ষুনি .. বলি ওদের বউটা বাপের বাড়ী যাওয়ার নাম করে থানায় নালিশ করে দিয়েছে..!!!

হারু র মা : —তা ওদের বাড়ীতে দিনরাত ঝামেলা কাক -চিল বসতে পায়না বাছা—–

দাস গিন্নি : তবু বাড়ির বউ থানায় যাবে গা !!!!

বা ড়ুজ্যে গিন্নি : —শুনছি নাকি কাল একটু মারধোর বেশি করেছিলো … তা বাপু আমরা ও তো মার খেয়েছি এককালে ,তা থানায় আবার কবে গেলুম !!!!! বলো তোমরা !! কে গেছো থানায় ???

হারুর মা : একদিনে কি সুখ আসে গা !!!
!
বারুজ্যে গিন্নি :
আমার নাত বউ কে তো দিন রাত মদ খেয়ে পেটায় নাতি টা .. একটা মুখ ফুটে রা বের করুক দেখি !!!!

দাস গিন্নি : আমার বউ মা কে আমার ছেলে টাইট করে রেখেছে, একটু বেচাল দেখলেই বউ র বুড়ো দাদু কে ডেকে কড়কে দেয়, সে ছাড়া তো বউ র কেও নায় ..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : তা তোমার বউ লক্ষ্মী মেয়ে, সারাদিন কতো কাজ করে, মুখে টু -শব্দটি নেয় ..

দাস গিন্নি : হ্যাঁ. মুখে হাসি ও নায় , মর গা আমি অত হেদায় না . ছেলে ও আমার অত বউ নেওটা নয়, তাতেই একটু রেগে গেলেই বউ কে পেটায়, ..


হারুর মা : তা ও দাস দি ,–তোমার মেয়েটা কেমন আছে গো ???

দাস গিন্নি : —(এক গাল হেসে ) তা বাপু আমার মেয়ের ভাগ্য বলতে হবে, জামাই মেয়ে কে নিয়ে গিয়ে বাসায় রেখেছে…

বাড়ুজ্যে গিন্নি : বলো কি গো !! (গালে হাত ) বুড়ো মা টা একা থাকে ভিটে আগলে !!!

দাস গিন্নি : –কেনো তোমার মেয়ে ও তো তার শাশুড়ি কে দেখেনি গো !!! শুনেছি সে বুড়ি তার মেয়ের ঘরে গিয়ে মরেছে !!!

বাড়ুজ্যে গিন্নি : —নে নে তোর মেয়ের কথা বল্, আমার মেয়ের কেচ্ছা তোকে আর গায়তে হবেনা ..

দাস গিন্নি : হ্যাঁ. শুধু কি তায় !!! মেয়ে কে আমার কুটো টি ভেঙ্গে দুটো করতে হয়না .. ।কাজের মেয়ে আছে, জামাই রাতে বাসায় ফিরে হয় নিজে রান্না করে.না হয় হোটেলে র খাবার আনায়, চুড়িদার পরে, যখন তখন ঘুরতে যায় !! জামাই আমার খুউব ভালো,.. (মুখে এক মুখ হাসি )

টুকু (কাজের মেয়ে পদী পিসির ঘর থেকে বেরুবার পথে ): —-
চলো গো সব গিন্নি মা রা .ছোঁয়া পরে যাবে ..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : টুকু পদী নায় নাকি রে !!

টুকু : না গো, পিসি মেয়ের বাড়ী গেছে , নাতিকে দেখতে..

বাড়ুজ্যে গিন্নি : তা তুই তো অধিকারী বাড়িতে ও কাজ করিস !!! কি হয়েছিলো রে ?

টুকু : —দেকো বাপু,তোমাদের সব কূট কাচালিতে আমি নাই, গরীব মানুষ খেটে খায় আমরা .. আমাদের ঘরে বৌ -মেয়ে -ছেলে – পুলে দুবেলা গায়ে গতরে খেটে সংসার চালায়, অত ঘরের বৌ র পিছনে লাগিনা। তোমাদের সব নিজের মেয়ে ভালো থাকলে খুশি আর পরের মেয়ে ঘরে এনে নির্যাতন, .. আমার কাজ আছে গো … যাই …(প্রস্থান )..

বাড়ুজ্যে গিন্নি :–মাগী র মুখ দেখ !!বলি খাস তো পরের বাড়ীর ঝি গিরি করে !! একটা কথা শুধালাম ,তো আমাদেরই নিন্দে করে গেলো গা !

দাস গিন্নি : তাও আবার মুখের সামনে, বলি আমাদের মেয়ের মরমো তোরা কি বুঝবি !!!কতো খরচ করে আর আদরে তাদের মানুষ করেছি !

বাড়ুজ্যে গিন্নি : –না গো চলো। সন্ধ্যে নেমে এলো, প্রদীপ দেখায় গে । নাত বউ , সে মহারানী তো আবার এখন পুকুর ঘাটে গেলেন গা ধুতে, ধান সিদ্ধ করে উদ্ধার করেছেন আমায় ..॥

–দেবযানী দত্ত

অনাহারে রাজধানীর বুকে শিশু মৃত্যু – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

খোদ রাজধানীর বুকে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু অবাক করে দেয়। মনে করিয়ে দেয় আমলাসোলের ঘটনা। ভাবতে খুব অবাক লাগে স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা পারিনি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে। আজও অপুষ্টির শিকার বহু মানুষ। পথশিশুদের খাবার খেতে হয় কুকুরের সাথে লড়াই করে। ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টে ভাগ বসাতে হয় তাদের। মুষ্টিমেয় শিল্পপতিদের ঘরে জমছে কালো টাকার পাহাড়। যে দেশে রাজনীতিবিদদের দেশ চালাতে হয় না। দেশ চলে শিল্পপতিদের অঙ্গুলিহেলনে সেই দেশে এর চেয়ে বেশি আর কিই বা আশা করা যায়? তাতে করে কয়েক টা নর্দমার কীট মারা গেলে কার কি যায় আসে?
মনুষ্যত্ব বিক্রি করেছি,
বিবেক গিয়েছি ভুলে
পিঠের চামড়া খুলে দিতে রাজি,
জুতো বানানোর হলে।
কিবা যায় আসে, পথশিশু ম’লে?
ওরা তো আবর্জনা,
হাজার মরলে সরকারি মতে
হবে সেটা হাতে গোনা।
দেশ ডিজিটাল করতেই হবে,
আটা নয় দাও ডেটা।
হাসি মুখে এসে গিন্নী কে বলি ,
ভালো কাজ করে বেটা।
খাদ্যে যা টুকু ভুর্তকি দেয়,
অর্ধেক যায় চুরি।
গরীবের ভাগে কানাকড়ি জোটে,
রাজাদের বাড়ে ভূঁড়ি।
আমি তো আবার বিদ্রোহ করি
ফেসবুকে করি চিৎকার,
লাইক, কমেন্ট, হাততালি দিয়ে
কেউ বলে ধিক্ ধিক্কার।
কাজের কাজ তো কিছুই করি না
দু কলম লেখা ছাড়া।
কি করে করব? দুর্বল মোরা
নুয়ে গেছে শিরদাঁড়া।
ছাপোষা মানুষ বিদ্রোহ করে
শুধু শুধু জেল ঘোরা
ভীরু কাপুরুষ তকমা লাগুক
তবু সুখী আছি মোরা।

– পার্থসারথি দত্ত

মা হারা – দেবযানী দত্ত

দেবযানী দত্ত

দুগ্গা মা আসছো নাকি তুমি ,
সবাই দেখছি হাসি খুশি ,
আমার মন শুধুই কেনো
করছে পাগলামী !!!

মনে পড়ছে পুজো এলেই
যেতাম মার কাছে ছুটে ,
তাঁর কোলের ‘পরে
পড়তাম আমি লুটে ।

আজ আর কেনো
লাগছে না মা তবে
কোন আনন্দ মনে ,
ঢাকের সুরে বাজছে
যেন বিষাদ সুর
মনের নিভৃত কোণে ।

শান্ত হতাম
মা র ছোঁয়ায় সেদিন
শান্তি পেতাম
গাঁয়ের শীতল ছায়ে ,
বুঝতে পারি
হারিয়েছি আমি
মায়ের সাথে গাঁয়ে ॥

–দেবযানী দত্ত

রহস্যময়ী অযোধ্যা – ২য় পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
Subhrajit Mudi
শুভ্রজিত মুদি

➡ ➡ …”রহস্যময়ী অযোধ্যা – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
রহশ্যময়ী অযোধ্যা

রাস্তায় না হেটে আমি আর অভি পাহাড়ি ঢালু পথে শর্টকার্ট নিয়ে চললাম । অভি খুব ভয়ে ভয়ে পিছুপিছু হাঁটছে । শাল গাছের ঘন জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ি হাটা পথ, মাঝে মাঝে কাঁটা গাছ, কেদু পাতার গাছ, কত নাম না জানা লতা । এসবের মাঝে আমি আর অভি এগিয়ে যাচ্ছি । ওর পিঠে একটা ব্যাগে টিফিন আর জল। আমার ব্যাগে কিছু দরকারি জিনিস যেমন আতস কাচ, দুরবিন, ছুরি, দড়ি, ব্ল্যাক টেপ, টর্চ, গ্যাস লাইটার ইত্যাদি । কিছুটা পথ চলার পর অভির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও এখনও চিন্তামগ্ন । ওকে হালকা করার জন্য আমি ‘লালপাহাড়ির দেশে যা’ গানটা গুনগুন করে গাইতে লাগলাম, যদিও বলে রাখা ভালো আমি খুব খারাপ গান করি । আমার বেসুরো গলা শুনে অভির গলার ভেসে এলো ‘লাল পাহাড়ির দেশ’ । আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলাম । সকালে শাল বনের গাছের ফাঁকে রোদ ঠিকরে পড়ছে । শিশির ভেজা পাতাগুলো সোনালি রোদের আভায় আরও চকচক করছে । মাঝে মাঝে একটা দুটো বন মোরোগ দেখতে পাচ্ছি । আমরা হেটে চলেছি উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ দিয়ে ।

এবার অভি একটা দ্বীর্ঘশ্বাস নিয়ে  একটু স্পষ্টভাবে বলল ‘কোথায় যাচ্ছি আমরা ?’

আমি হেসে বললাম ভয় পাচ্ছে ? ভয় না, বাকিদের নিয়ে এলে ভালো হতো না ? এভাবে একা একা ! কিছু যদি হয়ে যায় ?

আমি কিছু জবাব না দিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম ।

কি এমন করতে যাচ্ছিস বলতো ! সবাই মিলে এলেই তো পারতিস ।

এসব কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছি সেই নিষিদ্ধ, দুর্গম পাহাড়ের দিকে । জঙ্গল ক্রমেই ঘন, আরও ঘন হয়ে যাচ্ছে । মঙ্গল মাঝি তো বলেইছিল এদিকে লোকজন আসে না । না আসারই কথা । জঙ্গল এতই ঘন যে দিনের আলোতেও গা ছমছম করছে । শীতের সকালেও  ঘাম দিচ্ছে । এবার দ্রুত হাটা যাচ্ছে না । লতাপাতা কেটে একটু একটু করে এগোচ্ছি । যে করেই হোক পৌঁছাতেই হবে কালকের সেই জায়গায় । কাল দুর থেকে যা  দেখেছিলাম সেগুলো কি জানতে হবেই আমাকে । এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলেছি হঠাৎ দুরের ঝোপটা নড়ে উঠলো । ভয়ে আমি আর অভি দুজনেই একটা শাল গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে পড়েছি । কিছুক্ষন সব স্থির । ভয়ে বুক দুরুদুরু করছে । আমি ধীরে ব্যাগ থেকে ছুরিটা বের করে শক্ত হাতে ধরলাম । অভি আরও ভয় পেয়ে গেছে আমাকে ছুরি বের করতে দেখে ।

কাপাকাপা গলায় বলল কি আছে ঝোপে ? তুই কি করতে এসেছিস ? কেই বা হারিয়ে গিয়েছিল এই জঙ্গলে ?

আমি ধীরে চাপা গলায় বললাম সব উত্তর পাবি কিন্তু এটা কি প্রশ্ন করার সময় ! আমি কি করে জানব ঝোপে কি আছে ! কিছুক্ষন সব চুপচাপ ।

অভি বলল একটা পাথর ছুড়ে দেখ না ।

আমি ধীরে ধীরে পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছি ঝোপের দিকে । অভি হাতের লাঠিটা শক্ত করে ধরে আমার পিছুপিছু আসছে ।

কই কিছুই নেই তো ! তাহলে ঝোপটা এত জোরে নড়ে উঠলো কেন ? কে ছিল এখানে ? কোথায় বা গেল ? অদৃশ্য হয়ে গেল নাকি ! আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভয়ে ভয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি । ঠিক তখনই অভি অস্থির ভাবে বলল, ‘আমার সব প্রশ্নের উত্তর চাই, নাহলে আমি আর এক পা এগোব না ।’ আমি কিছু না বলে ছুরিটা ব্যাগে ভরে এগোতে লাগলাম । অভি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আমার উত্তরের অপেক্ষা করল । আমি কোন উত্তর না দিয়ে হেটে চলেছি সেই উত্তরের ঘন জঙ্গলটার দিকে । হাটতে হাটতে বললাম, ‘তোর পেছনে কে দাঁড়িয়ে দেখ ।’ অভি কোনো কিছু না দেখে “ও মাগো” বলে ছুটতে লাগলো আমার দিকে । হাপাতে হাপাতে বলল, ‘আজ যদি জ্যান্ত ফিরে যাই দুজনেই, তাহলে তোর কপালে দুঃখ আছে ।’

কিন্তু এখন কেমন গা ছমছম করছে । মনে হচ্ছে কেউ যেন লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের দেখছে, কেউ যেন আমাদের সাথেই হাটছে ।

আমি বললাম, ‘ অভি এর পর সাথে সাথেই হাটবি, পিছিয়ে পড়বি না ।’

কোনো এক অজানা ভয় আমাকে কুড়ে খাচ্ছে । ভয়ে ভয়ে একটু একটু করে এগোচ্ছি । এভাবে মিনিট চল্লিশ হাঁটার পর সামনে কিছু দেখে  থমকে দাঁড়িয়ে দুজনেই হা করে তাকিয়ে আছি । এত ঘন জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গা ! মাঠের মতো পুরো সমতল বিশাল ফাঁকা জায়গা, অবাক করার মতো । বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই । কেও যেন রোজ পরিষ্কার করে । মাঠের মাঝের ঘাসটা যেন প্রচন্ড তাপে ঝলসে গেছে । আমি দৌড়ে গেলাম মাঠের মাঝখানে । সাথে অভিও ।

অভি বলল, মঙ্গল মাঝি তো বলেছিল এখানে কেউ আসেনা, তবে কি !

অভি আমাদের ছুটি বাড়িয়ে দিতে হবে । বেশ কয়েক দিন থাকতে হবে অযোধ্যায় । রহস্যময়ী অযোধ্যার অজানা রহস্য আমাকে জানতেই হবে । এখানে এমন কিছু চলছে যা সবার অজনা, সাধারণ মানুষের অলক্ষে । তুই সাথে থাকবি তো ?

বোতলের জল খেতে অভি বলল হুম ।

কিন্তু ভয় হচ্ছে, যাদের স্বাধীন প্রাঙ্গনে আমরা অনধিকার প্রবেশ করেছি তারা কি আমাদের ছেড়ে দেবে ? এতদিন তারা এই জঙ্গলকে দুর্ভেদ্য করে রেখেছিল । আজ হঠাৎ আমরা তাদের মুক্তাঙ্গনে । বিপদের সম্ভাবনা প্রবল । বেঁচে ফেরার আশা প্রায় নেই । অভি এসবের তোয়াক্কা না করে মাঠের ঘাসে শুয়ে হাত পা ছড়িয়ে আরাম করছে । ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখিন হতে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছি আমি । অপেক্ষা করছি তাদের ।

— শুভ্রজিত মুদি

শৈশব – দেবযানী দত্ত

Devjani Dutta

দেবযানী দত্ত

শৈশব মানে
মায়ের কোল ,
বাবার ধমক ,
ঠাকুমার আঁচার ,
পিসির সাজের জিনিস
লুকিয়ে নিয়ে
ভূতের মতো সাজা।
দুপুর বেলা না ঘুমিয়ে
পাশের বাড়ীর
গোয়াল ঘরে —
পুতুলের বিয়ে ।
আর ও আছে শৈশবে —
একটা ভাঙ্গা ব্লেড দিয়ে
রান্না বাটির আনাজ
কাটতে হবে …
শীতের দিনে
ক্ষেতে গিয়ে
ছোলা গাছে
হামলা দিয়ে
তারপরেতে
আখের ভূঁয়ে
আখ ভেঙ্গে খাওয়া ।
আর ও তো
অনেক কিছু
আছে শৈশবে ,
যখন ই থাকবো একা
রানু ,মিতা , নূপুর —
তোদের জন্য
দু ফোঁটা চোখের জল
ঠিক গড়াবেই ॥

–দেবযানী দত্ত

যদি চলে যায় – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

যদি চলে যায় কোনদিন
পৃথিবীর এই ধুলোমাটি পথ ছেড়ে,
যদি মরন আসে কভু,
তোর কাছ থেকে আমাকেই নিতে কেড়ে।

পারবি সেদিন আগলে রাখতে মোরে?
পারবি, সেদিন বাঁধতে সে ফুলডোরে?
যে ফুল দিয়ে মালা গেঁথেছিনু ওরে
আজ সেই মালা ধুলায় লুটাই যেরে।

সে মালায় ছিল হাজার তারার আলো
রামধনু রং ভিড় করেছিল তাতে।
আর ছিল তাতে অনেক স্বপ্ন আঁকা
যে স্বপ্ন মোরা দেখেছিনু একই সাথে।

আজ তা মলিন, সবই হোল শেষ যে রে,
পারবি কি আর বাঁধতে সে ফুলডোরে?

– পার্থসারথি দত্ত

GBS’এর ৩ বন্ধু… on the top of the hill – শুভ্রজিত মুদি

Amit, Subhrajit, Partha
Subhrajit Mudi
শুভ্রজিত মুদি
Amit, Subhrajit, Partha
Amit, Subhrajit, Partha

GBS শুধু একটা গ্রুপের নাম নয় আমার রোজের জীবনে আর পাঁচটি গুরুত্বপুর্ণ কাজের মতোই সমান গুরুত্বের অঙ্গ হয়ে গেছে । স্বজাতী প্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটা সহজ পাঠ পেয়েছি এই গ্রুপের হাত ধরেই । অনেক বন্ধু পেয়েছি, অনেক অভিভাবক পেয়েছি যারা তাদের মহানুভবতায় আমাকে আকৃষ্ট করেছে । এমনি ভাবেই হঠাৎ পরিচিত হয়েছি পার্থদার সাথেও । বহু আখাঙ্খিত সাক্ষাৎ ঘটল আজ তার সাথে । রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্বেও কেমন যেন আপন মনে হল । তার ছবি দেখেছি, আর সেই দেখার উপর বিশ্বাস করেই চলন্ত টোটো থেকে ভীড় বাজারে দাড়িয়ে থাকা কর্মব্যাস্ত পার্থদাকে চিনে নিতে অসুবিধে হয় নি । তার বাড়ি যাই, আতীথেয়তা আর সৌজন্য বোধের প্রতিমুর্তী সে এবং তার পরিবার । জ্যাঠিমা ছিলেন বাড়িতে । খুব ভালো মানুষ তিনি । তারপর পার্থদা তার কর্মচারিদের একা ছেড়ে সব ব্যস্ততা দুরে সরিয়ে আমাদের পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা ঝালদা (23.3283° N, 86.2336° E) শহরের সাথে পরিচয় করায় । খুব সুন্দর, গোছানো শহর । ধন্যবাদ পার্থদা । ধন্যবাদ GBS

–শুভ্রজিত মুদি