তোমায় দিলাম – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

পাখি তোমায় আকাশ দিলাম আমি
নরম আলোয় ভিজিয়ে এসো গা,
পাখি, তোমায় মুক্তি দিয়েছি যে
নীল সাগর এ ডুবিয়ে নিও পা।
চাঁদ কে যদি হঠাৎ ছুঁতে চাস
ইচ্ছে হলেই মেলতে পারিস ডানা
শুনেছি তোর বৃষ্টি ভালো লাগে
মেঘের বাড়ি তাই কি আনাগোনা?
আমার আবার পাহাড় ভালো লাগে
বৃষ্টি হয়ে ঝরিস যদি তুই,
তুই তো আবার আকাশ হতে চাস
ইচ্ছে করে একটু তোকে ছুঁই।

–পার্থসারথি দত্ত

অনাহারে রাজধানীর বুকে শিশু মৃত্যু – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

খোদ রাজধানীর বুকে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু অবাক করে দেয়। মনে করিয়ে দেয় আমলাসোলের ঘটনা। ভাবতে খুব অবাক লাগে স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা পারিনি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে। আজও অপুষ্টির শিকার বহু মানুষ। পথশিশুদের খাবার খেতে হয় কুকুরের সাথে লড়াই করে। ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টে ভাগ বসাতে হয় তাদের। মুষ্টিমেয় শিল্পপতিদের ঘরে জমছে কালো টাকার পাহাড়। যে দেশে রাজনীতিবিদদের দেশ চালাতে হয় না। দেশ চলে শিল্পপতিদের অঙ্গুলিহেলনে সেই দেশে এর চেয়ে বেশি আর কিই বা আশা করা যায়? তাতে করে কয়েক টা নর্দমার কীট মারা গেলে কার কি যায় আসে?
মনুষ্যত্ব বিক্রি করেছি,
বিবেক গিয়েছি ভুলে
পিঠের চামড়া খুলে দিতে রাজি,
জুতো বানানোর হলে।
কিবা যায় আসে, পথশিশু ম’লে?
ওরা তো আবর্জনা,
হাজার মরলে সরকারি মতে
হবে সেটা হাতে গোনা।
দেশ ডিজিটাল করতেই হবে,
আটা নয় দাও ডেটা।
হাসি মুখে এসে গিন্নী কে বলি ,
ভালো কাজ করে বেটা।
খাদ্যে যা টুকু ভুর্তকি দেয়,
অর্ধেক যায় চুরি।
গরীবের ভাগে কানাকড়ি জোটে,
রাজাদের বাড়ে ভূঁড়ি।
আমি তো আবার বিদ্রোহ করি
ফেসবুকে করি চিৎকার,
লাইক, কমেন্ট, হাততালি দিয়ে
কেউ বলে ধিক্ ধিক্কার।
কাজের কাজ তো কিছুই করি না
দু কলম লেখা ছাড়া।
কি করে করব? দুর্বল মোরা
নুয়ে গেছে শিরদাঁড়া।
ছাপোষা মানুষ বিদ্রোহ করে
শুধু শুধু জেল ঘোরা
ভীরু কাপুরুষ তকমা লাগুক
তবু সুখী আছি মোরা।

– পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – তৃতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

➡ ➡ (…“অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

বড় গেট পেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দুপাশে সুন্দর করে সাজানো বাগান। ফুল গাছ গুলি সুন্দর সুন্দর ফুলে ভরে আছে। আমারা যখন বাড়িতে ঢুকি কাকাবাবু তখন গাছগুলি তে জল দিচ্ছিলেন। গাছেদের পরিচর্যা ছেড়ে উনি চলে এলেন আমার কাছে। যেন কতদিনের চেনা। কত আপন সবাই। আমাদের উপরের ঘরে বসতে বলে আবার বাগানের দিকে গেলেন। আমি আর রাজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। একটা সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসছে।রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য আছে। যতবারই শুনি ততবার সেই মানুষটার প্রেমে পড়ে যায়। “সে চলে গেল, বলে গেল না। সে কোথায় গেল, ফিরে এলো না।” বাহ্, বেশ সুন্দর গান টা। কে চালিয়েছে রে? হঠাৎ একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম রাজার চোখে মুখে। এতক্ষণের প্রাণবন্ত উচ্ছল মানুষ টা হঠাৎ করে শামুকের মতো গুটিয়ে গেল কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম কি রে ঠিক আছিস তো? শরীর খারাপ লাগছে? না বলে প্রত্যুত্তর দিয়ে উপরে উঠতে লাগল। অগত্যা আমি ও আর কথা না বাড়িয়ে ওর পিছনে পিছনে উঠতে শুরু করলাম। উপরে উঠে রাজা একজন কে দেখিয়ে বললো এ আমার বোন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ওর রুমের ভেতর থেকেই আসছে গানের আওয়াজ টা। দেখে মনে হল বদ্ধ উন্মাদ। উসকো খুসকো চুল। শরীরে আলুথালু বেশ। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাড়ির সিলিং এর দিকে। যেন এক চাতকির দৃষ্টি। আকাশের বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সিলিং এ একটা ছোট্ট মাকড়সা তার জালের মধ্যে আপন মনে খেলা শুরু করেছে। হয়তো সেটাই দেখছে সে। চোখের কোনে কালি পড়েছে।মুখ দেখে সত্যিই খুব মায়া লাগছে।বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। রাজা আমার কাঁধে হাত রাখল। আমি চমকে উঠলাম। পরক্ষণেই পিছন ফিরে দেখি রাজার চোখ দুটো জলে ভিজে গেছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছি না। অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছি।ভাষা পাচ্ছি না। ঠিক বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করবো। কিই বা জিজ্ঞেস করব। ও ইশারাই ডেকে ফাঁকা ছাদের উপর গিয়ে দাঁড়ালো। আমি ও এলাম। সূর্যের শেষ আলো আস্তে আস্তে গিলে ফেলছে অন্ধকার। পশ্চিমাকাশ তখন ও আবীরে রাঙা। বিষন্নতায় ভরা সাঁঝের বাতাস। এখনও দুএকটা ঘুড়ি পতপত করে উড়ছে আকাশে। আমি নির্বাক চলচ্চিত্রের মতো দাঁড়িয়ে আছি।
কিছু বলবো ভাবছি। কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে ওই শুরু করলো। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের কথা। তখন ও মাধ্যমিক পাশ করে ইলেভেন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনাই খুব ভালো ছিল পৃথা। আর সাথে গানের গলা ছিল অসাধারণ। এখানকার হাই স্কুলেই পড়াশোনা করত।সরস্বতী পুজোর দিন ও আর জয়ন্ত একই সঙ্গে “কোলাজ” নাটকে অভিনয় করে। ওর মুখ থেকে শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে ছায়াছবির মতো ভেসে উঠল দিন গুলি।
মাসি- “আচ্ছা আদিত্য তোর সিরাজের অভিনয় টা মনে আছে?
আদিত্য – হ্যাঁ মাসি, মনে আছে। আচ্ছা মাসি তোমার স্টার থিয়েটারের অভিনয় টা মনে পড়ে? কি যেন, কি যেন রোলটা ছিল?
মাসি – সুভাষ বোস।
আদিত্য – হ্যাঁ। হ্যাঁ মাসি আমি সেই সুভাষ বলছি,” তোমারা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো ”
সুপ্রিয়া – আদিত্য দা?
আদিত্য – কে? গলাটা চেনা চেনা লাগছে।
সুপ্রিয়া – আমি সুপ্রিয়া
আদিত্য – এসো এসো সুপ্রিয়া
সুপ্রিয়া – এখন আমি পথের ভিখারিনী, খেতে পাইনি।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, শিল্পীর কদর এ বাংলা দিতে পারলো কৈ।
সুপ্রিয়া – অভিনয় করে সারা জীবন কাটালাম। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায় এসে, একটু শান্তি পেলাম না। উঃ বড় কষ্ট হয়।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, ঐ দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর। ”
” ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু। পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়ে পড়ি কভু। ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।”

✍️✍️ চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

শুধু একবার বলো ভালোবাসি
শুধু একবার বলো কাছে চাও
শুধু একবার বলো প্রিয়তম
কাছে এসে দু হাত বাড়াও।
আমারে জড়িয়ে ধরে বল
হৃদয়ের সব কথা আজ,
আমি শুধু চোখে চোখ রেখে
দেখে নেব মুখে রাঙা লাজ।
বাতাস কে বলি থেমে যাও
এসেছে আমার কাছে প্রিয়া
চাঁদ কে বলবো ডুবে যাও
জুড়াক এ ব্যাকুল হিয়া।
আজকে মোদের গোপন অভিসার
সেকথা জানব শুধু তুমি আর আমি,
আজকে খুশির বাঁধ ভেঙে যেতে দাও
বেরিয়ে আসুক আমাদের পাগলামি।
আজকে শুধুই কথা হবে দুজনার
চোখে চোখ রেখে হারাতে চাইছে মন
যত ঢেউই আজ উঠুক সাগর জলে
তীরেতে সাজানো প্রেমের বৃন্দাবন।
ডুবে যেতে দাও আকাশের যত তারা
উঠুক জ্বলে তোমার নয়ন দুটি
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অধিকার বুঝে নেব
আজকে কিন্তু চাইলে পাবে না ছুটি।
প্রেম যদি আজ ঢেউ তুলে নদী বুকে
ডুবে যেতে দাও আমাদের ছোট তরী
তার চেয়ে চলো আমরা দুজন মিলে
পৃথিবীর কোনে আজ খেলা ঘর গড়ি।

–পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

দ্বিতীয় পর্ব:
রাজা অনেক বার আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি সময় করে উঠতে পারিনি। বারবার না বলতে কোথাও যেন নিজের বিবেকে বাধে। তাই আজ ঠিক করেই রেখেছি ওদের বাড়ি যাব। ওদের বাড়ি সিরকাবাদ গ্রামে। অযোধ্যা পাহাড়ের ঠিক উল্টো দিকে। পাহাড় ডিঙিয়ে পৌঁছতে হয় ওদের গ্রামে।
বর্ষা শেষ হয়ে শরতের আকাশ মেঘমুক্ত। স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ আলোয় ধৌত প্রকৃতি।পথের দু’ধারে কাশফুল গুলি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতের উপর লুটিয়ে পড়ছে হাওয়া। একটা পাখির মিষ্টি ডাক শুনে হঠাৎ গাড়ি থেকে নামলাম। রাজা কে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা পিউকাহা পাখির ডাক। নাম না জানা আরও কিছু পাখির আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে বিকেলের পরিবেশে । হলুদ সবুজ প্রজাপতির ইচ্ছে হাওয়ায় গা ভাসানো। গ্রামের মহিলারা মাথায় ভারি ভারি কাঠের বোঝা নিয়ে নামছে পাহাড়ের গা বেয়ে। ছাগলের পাল নিয়ে পাহাড়ের পথ ধরে নামছে মাঝ বয়সি একজন মানুষ ও মহিলা। মানুষটি বেঁটে হাইট, কালো ছিপছিপে গড়ন, শরীরে লুঙ্গি ও বড় হাতওয়ালা গেঞ্জি। ছোট বড় ছিদ্র দিয়ে ভেতরের বুকের কিছু অংশ চোখে পড়ছে । কাঁধের উপর মস্ত কাঠের ছাতা আর মাথার উপর গামছা জড়ানো। রাজা কে দেখে একগাল হেসে বললেন, “খুঁড়া ঘর চললে ন কি ব?” মুখে কাঁচা পাকা দাঁড়ি, হলদে হয়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকে শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদের হাসির রেখা। রাজা উত্তর দিল হ্যাঁ বলে। “আর তোর সাথে ইটা কে বঠে”? রাজা পরিচয় করিয়ে দেয় আমার সাথে বলে এটা আমাদের হাসপাতালের নতুন ডাক্তার বাবু। কোলকাতা থেকে এসেছে। ভদ্রলোক হাত দুটো জড়ো করে পননাম ডাকতার বাবু বলে উঠলেন । আমি প্রতি নমস্কার জানালাম। কিন্তু নিজের ই খারাপ লাগছিল।আসলে প্রণাম শব্দ টা খুব অপরাধী করে তোলে আমাকে। আমি ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলাম।
পাক খেতে খেতে আমাদের গাড়ি উঠছে অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে। অযোধ্যা পাহাড়ের গায়ে দুটো ড্যাম। একটা পাহাড়ের মাঝ বরাবর যেটা লোয়ার ড্যাম আর একটা সবার উপরে যেটা আপার ড্যাম। যেদিকে তাকাই এক অদ্ভুত মোহময়তা আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। নাম না জানা ফুল গুলো সুন্দরী অযোধ্যার শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই আপার ড্যাম পেরিয়ে পাহাড়ের উপর গ্রাম গুলো দেখতে দেখতে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। পাহাড়ের থেকে নীচে নামতে নামতে দেখছি ভুট্টা আর আঁখের ক্ষেত। সবুজের হিল্লোলে চোখ জুড়িয়ে ওদের বাড়িতে পৌঁছলাম।

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

খুঁজে দেখো – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta

পার্থসারথি দত্ত

খুঁজে দেখো
জানি তুমি চলে গেছো দূরে
স্মৃতিটুকু ফেলেছো কি মুছে?
তোমার ও ভাঙাচোরা মনে
হয়তো বা দাগ রয়েগেছে
খুঁজে দেখ।
এখনও কি বৃষ্টিরা এলে
ছুটে গিয়ে উঠোনে তে ভেজ?
এখনও কি চাঁদের কপালে
আমার এ মুখ খানি খোঁজ?
বৃষ্টির জল হয়ে লেগে থাকি
জানালার কাঁচে,
এখনও তো মন পুড়ে
তোমার ঐ সোহাগের আঁচে।
অভিমানে ঝরে গেছি পলাশের ই মত।
খুঁজে দেখ।

‌– পার্থসারথি দত্ত