রহস্যময়ী অযোধ্যা – ২য় পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
Subhrajit Mudi
শুভ্রজিত মুদি

➡ ➡ …”রহস্যময়ী অযোধ্যা – ১ম পর্ব” এখানে পড়ুন

রহশ্যময়ী অযোধ্যা
রহশ্যময়ী অযোধ্যা

রাস্তায় না হেটে আমি আর অভি পাহাড়ি ঢালু পথে শর্টকার্ট নিয়ে চললাম । অভি খুব ভয়ে ভয়ে পিছুপিছু হাঁটছে । শাল গাছের ঘন জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ি হাটা পথ, মাঝে মাঝে কাঁটা গাছ, কেদু পাতার গাছ, কত নাম না জানা লতা । এসবের মাঝে আমি আর অভি এগিয়ে যাচ্ছি । ওর পিঠে একটা ব্যাগে টিফিন আর জল। আমার ব্যাগে কিছু দরকারি জিনিস যেমন আতস কাচ, দুরবিন, ছুরি, দড়ি, ব্ল্যাক টেপ, টর্চ, গ্যাস লাইটার ইত্যাদি । কিছুটা পথ চলার পর অভির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও এখনও চিন্তামগ্ন । ওকে হালকা করার জন্য আমি ‘লালপাহাড়ির দেশে যা’ গানটা গুনগুন করে গাইতে লাগলাম, যদিও বলে রাখা ভালো আমি খুব খারাপ গান করি । আমার বেসুরো গলা শুনে অভির গলার ভেসে এলো ‘লাল পাহাড়ির দেশ’ । আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলাম । সকালে শাল বনের গাছের ফাঁকে রোদ ঠিকরে পড়ছে । শিশির ভেজা পাতাগুলো সোনালি রোদের আভায় আরও চকচক করছে । মাঝে মাঝে একটা দুটো বন মোরোগ দেখতে পাচ্ছি । আমরা হেটে চলেছি উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ দিয়ে ।

এবার অভি একটা দ্বীর্ঘশ্বাস নিয়ে  একটু স্পষ্টভাবে বলল ‘কোথায় যাচ্ছি আমরা ?’

আমি হেসে বললাম ভয় পাচ্ছে ? ভয় না, বাকিদের নিয়ে এলে ভালো হতো না ? এভাবে একা একা ! কিছু যদি হয়ে যায় ?

আমি কিছু জবাব না দিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম ।

কি এমন করতে যাচ্ছিস বলতো ! সবাই মিলে এলেই তো পারতিস ।

এসব কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছি সেই নিষিদ্ধ, দুর্গম পাহাড়ের দিকে । জঙ্গল ক্রমেই ঘন, আরও ঘন হয়ে যাচ্ছে । মঙ্গল মাঝি তো বলেইছিল এদিকে লোকজন আসে না । না আসারই কথা । জঙ্গল এতই ঘন যে দিনের আলোতেও গা ছমছম করছে । শীতের সকালেও  ঘাম দিচ্ছে । এবার দ্রুত হাটা যাচ্ছে না । লতাপাতা কেটে একটু একটু করে এগোচ্ছি । যে করেই হোক পৌঁছাতেই হবে কালকের সেই জায়গায় । কাল দুর থেকে যা  দেখেছিলাম সেগুলো কি জানতে হবেই আমাকে । এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলেছি হঠাৎ দুরের ঝোপটা নড়ে উঠলো । ভয়ে আমি আর অভি দুজনেই একটা শাল গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে পড়েছি । কিছুক্ষন সব স্থির । ভয়ে বুক দুরুদুরু করছে । আমি ধীরে ব্যাগ থেকে ছুরিটা বের করে শক্ত হাতে ধরলাম । অভি আরও ভয় পেয়ে গেছে আমাকে ছুরি বের করতে দেখে ।

কাপাকাপা গলায় বলল কি আছে ঝোপে ? তুই কি করতে এসেছিস ? কেই বা হারিয়ে গিয়েছিল এই জঙ্গলে ?

আমি ধীরে চাপা গলায় বললাম সব উত্তর পাবি কিন্তু এটা কি প্রশ্ন করার সময় ! আমি কি করে জানব ঝোপে কি আছে ! কিছুক্ষন সব চুপচাপ ।

অভি বলল একটা পাথর ছুড়ে দেখ না ।

আমি ধীরে ধীরে পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছি ঝোপের দিকে । অভি হাতের লাঠিটা শক্ত করে ধরে আমার পিছুপিছু আসছে ।

কই কিছুই নেই তো ! তাহলে ঝোপটা এত জোরে নড়ে উঠলো কেন ? কে ছিল এখানে ? কোথায় বা গেল ? অদৃশ্য হয়ে গেল নাকি ! আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভয়ে ভয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি । ঠিক তখনই অভি অস্থির ভাবে বলল, ‘আমার সব প্রশ্নের উত্তর চাই, নাহলে আমি আর এক পা এগোব না ।’ আমি কিছু না বলে ছুরিটা ব্যাগে ভরে এগোতে লাগলাম । অভি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আমার উত্তরের অপেক্ষা করল । আমি কোন উত্তর না দিয়ে হেটে চলেছি সেই উত্তরের ঘন জঙ্গলটার দিকে । হাটতে হাটতে বললাম, ‘তোর পেছনে কে দাঁড়িয়ে দেখ ।’ অভি কোনো কিছু না দেখে “ও মাগো” বলে ছুটতে লাগলো আমার দিকে । হাপাতে হাপাতে বলল, ‘আজ যদি জ্যান্ত ফিরে যাই দুজনেই, তাহলে তোর কপালে দুঃখ আছে ।’

কিন্তু এখন কেমন গা ছমছম করছে । মনে হচ্ছে কেউ যেন লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের দেখছে, কেউ যেন আমাদের সাথেই হাটছে ।

আমি বললাম, ‘ অভি এর পর সাথে সাথেই হাটবি, পিছিয়ে পড়বি না ।’

কোনো এক অজানা ভয় আমাকে কুড়ে খাচ্ছে । ভয়ে ভয়ে একটু একটু করে এগোচ্ছি । এভাবে মিনিট চল্লিশ হাঁটার পর সামনে কিছু দেখে  থমকে দাঁড়িয়ে দুজনেই হা করে তাকিয়ে আছি । এত ঘন জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গা ! মাঠের মতো পুরো সমতল বিশাল ফাঁকা জায়গা, অবাক করার মতো । বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই । কেও যেন রোজ পরিষ্কার করে । মাঠের মাঝের ঘাসটা যেন প্রচন্ড তাপে ঝলসে গেছে । আমি দৌড়ে গেলাম মাঠের মাঝখানে । সাথে অভিও ।

অভি বলল, মঙ্গল মাঝি তো বলেছিল এখানে কেউ আসেনা, তবে কি !

অভি আমাদের ছুটি বাড়িয়ে দিতে হবে । বেশ কয়েক দিন থাকতে হবে অযোধ্যায় । রহস্যময়ী অযোধ্যার অজানা রহস্য আমাকে জানতেই হবে । এখানে এমন কিছু চলছে যা সবার অজনা, সাধারণ মানুষের অলক্ষে । তুই সাথে থাকবি তো ?

বোতলের জল খেতে অভি বলল হুম ।

কিন্তু ভয় হচ্ছে, যাদের স্বাধীন প্রাঙ্গনে আমরা অনধিকার প্রবেশ করেছি তারা কি আমাদের ছেড়ে দেবে ? এতদিন তারা এই জঙ্গলকে দুর্ভেদ্য করে রেখেছিল । আজ হঠাৎ আমরা তাদের মুক্তাঙ্গনে । বিপদের সম্ভাবনা প্রবল । বেঁচে ফেরার আশা প্রায় নেই । অভি এসবের তোয়াক্কা না করে মাঠের ঘাসে শুয়ে হাত পা ছড়িয়ে আরাম করছে । ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখিন হতে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছি আমি । অপেক্ষা করছি তাদের ।

— শুভ্রজিত মুদি

অন্তহীন – তৃতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

➡ ➡ (…“অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

বড় গেট পেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দুপাশে সুন্দর করে সাজানো বাগান। ফুল গাছ গুলি সুন্দর সুন্দর ফুলে ভরে আছে। আমারা যখন বাড়িতে ঢুকি কাকাবাবু তখন গাছগুলি তে জল দিচ্ছিলেন। গাছেদের পরিচর্যা ছেড়ে উনি চলে এলেন আমার কাছে। যেন কতদিনের চেনা। কত আপন সবাই। আমাদের উপরের ঘরে বসতে বলে আবার বাগানের দিকে গেলেন। আমি আর রাজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। একটা সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসছে।রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য আছে। যতবারই শুনি ততবার সেই মানুষটার প্রেমে পড়ে যায়। “সে চলে গেল, বলে গেল না। সে কোথায় গেল, ফিরে এলো না।” বাহ্, বেশ সুন্দর গান টা। কে চালিয়েছে রে? হঠাৎ একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম রাজার চোখে মুখে। এতক্ষণের প্রাণবন্ত উচ্ছল মানুষ টা হঠাৎ করে শামুকের মতো গুটিয়ে গেল কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম কি রে ঠিক আছিস তো? শরীর খারাপ লাগছে? না বলে প্রত্যুত্তর দিয়ে উপরে উঠতে লাগল। অগত্যা আমি ও আর কথা না বাড়িয়ে ওর পিছনে পিছনে উঠতে শুরু করলাম। উপরে উঠে রাজা একজন কে দেখিয়ে বললো এ আমার বোন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ওর রুমের ভেতর থেকেই আসছে গানের আওয়াজ টা। দেখে মনে হল বদ্ধ উন্মাদ। উসকো খুসকো চুল। শরীরে আলুথালু বেশ। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাড়ির সিলিং এর দিকে। যেন এক চাতকির দৃষ্টি। আকাশের বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সিলিং এ একটা ছোট্ট মাকড়সা তার জালের মধ্যে আপন মনে খেলা শুরু করেছে। হয়তো সেটাই দেখছে সে। চোখের কোনে কালি পড়েছে।মুখ দেখে সত্যিই খুব মায়া লাগছে।বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। রাজা আমার কাঁধে হাত রাখল। আমি চমকে উঠলাম। পরক্ষণেই পিছন ফিরে দেখি রাজার চোখ দুটো জলে ভিজে গেছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছি না। অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছি।ভাষা পাচ্ছি না। ঠিক বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করবো। কিই বা জিজ্ঞেস করব। ও ইশারাই ডেকে ফাঁকা ছাদের উপর গিয়ে দাঁড়ালো। আমি ও এলাম। সূর্যের শেষ আলো আস্তে আস্তে গিলে ফেলছে অন্ধকার। পশ্চিমাকাশ তখন ও আবীরে রাঙা। বিষন্নতায় ভরা সাঁঝের বাতাস। এখনও দুএকটা ঘুড়ি পতপত করে উড়ছে আকাশে। আমি নির্বাক চলচ্চিত্রের মতো দাঁড়িয়ে আছি।
কিছু বলবো ভাবছি। কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে ওই শুরু করলো। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের কথা। তখন ও মাধ্যমিক পাশ করে ইলেভেন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনাই খুব ভালো ছিল পৃথা। আর সাথে গানের গলা ছিল অসাধারণ। এখানকার হাই স্কুলেই পড়াশোনা করত।সরস্বতী পুজোর দিন ও আর জয়ন্ত একই সঙ্গে “কোলাজ” নাটকে অভিনয় করে। ওর মুখ থেকে শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে ছায়াছবির মতো ভেসে উঠল দিন গুলি।
মাসি- “আচ্ছা আদিত্য তোর সিরাজের অভিনয় টা মনে আছে?
আদিত্য – হ্যাঁ মাসি, মনে আছে। আচ্ছা মাসি তোমার স্টার থিয়েটারের অভিনয় টা মনে পড়ে? কি যেন, কি যেন রোলটা ছিল?
মাসি – সুভাষ বোস।
আদিত্য – হ্যাঁ। হ্যাঁ মাসি আমি সেই সুভাষ বলছি,” তোমারা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো ”
সুপ্রিয়া – আদিত্য দা?
আদিত্য – কে? গলাটা চেনা চেনা লাগছে।
সুপ্রিয়া – আমি সুপ্রিয়া
আদিত্য – এসো এসো সুপ্রিয়া
সুপ্রিয়া – এখন আমি পথের ভিখারিনী, খেতে পাইনি।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, শিল্পীর কদর এ বাংলা দিতে পারলো কৈ।
সুপ্রিয়া – অভিনয় করে সারা জীবন কাটালাম। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায় এসে, একটু শান্তি পেলাম না। উঃ বড় কষ্ট হয়।
আদিত্য – শোন সুপ্রিয়া, ঐ দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর। ”
” ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু। পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়ে পড়ি কভু। ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।”

✍️✍️ চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – দ্বিতীয় পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
পার্থসারথি দত্ত

➡ ➡ (…“অন্তহীন – ১ম পর্ব” পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন )

দ্বিতীয় পর্ব:
রাজা অনেক বার আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি সময় করে উঠতে পারিনি। বারবার না বলতে কোথাও যেন নিজের বিবেকে বাধে। তাই আজ ঠিক করেই রেখেছি ওদের বাড়ি যাব। ওদের বাড়ি সিরকাবাদ গ্রামে। অযোধ্যা পাহাড়ের ঠিক উল্টো দিকে। পাহাড় ডিঙিয়ে পৌঁছতে হয় ওদের গ্রামে।
বর্ষা শেষ হয়ে শরতের আকাশ মেঘমুক্ত। স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ আলোয় ধৌত প্রকৃতি।পথের দু’ধারে কাশফুল গুলি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতের উপর লুটিয়ে পড়ছে হাওয়া। একটা পাখির মিষ্টি ডাক শুনে হঠাৎ গাড়ি থেকে নামলাম। রাজা কে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা পিউকাহা পাখির ডাক। নাম না জানা আরও কিছু পাখির আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে বিকেলের পরিবেশে । হলুদ সবুজ প্রজাপতির ইচ্ছে হাওয়ায় গা ভাসানো। গ্রামের মহিলারা মাথায় ভারি ভারি কাঠের বোঝা নিয়ে নামছে পাহাড়ের গা বেয়ে। ছাগলের পাল নিয়ে পাহাড়ের পথ ধরে নামছে মাঝ বয়সি একজন মানুষ ও মহিলা। মানুষটি বেঁটে হাইট, কালো ছিপছিপে গড়ন, শরীরে লুঙ্গি ও বড় হাতওয়ালা গেঞ্জি। ছোট বড় ছিদ্র দিয়ে ভেতরের বুকের কিছু অংশ চোখে পড়ছে । কাঁধের উপর মস্ত কাঠের ছাতা আর মাথার উপর গামছা জড়ানো। রাজা কে দেখে একগাল হেসে বললেন, “খুঁড়া ঘর চললে ন কি ব?” মুখে কাঁচা পাকা দাঁড়ি, হলদে হয়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকে শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদের হাসির রেখা। রাজা উত্তর দিল হ্যাঁ বলে। “আর তোর সাথে ইটা কে বঠে”? রাজা পরিচয় করিয়ে দেয় আমার সাথে বলে এটা আমাদের হাসপাতালের নতুন ডাক্তার বাবু। কোলকাতা থেকে এসেছে। ভদ্রলোক হাত দুটো জড়ো করে পননাম ডাকতার বাবু বলে উঠলেন । আমি প্রতি নমস্কার জানালাম। কিন্তু নিজের ই খারাপ লাগছিল।আসলে প্রণাম শব্দ টা খুব অপরাধী করে তোলে আমাকে। আমি ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলাম।
পাক খেতে খেতে আমাদের গাড়ি উঠছে অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে। অযোধ্যা পাহাড়ের গায়ে দুটো ড্যাম। একটা পাহাড়ের মাঝ বরাবর যেটা লোয়ার ড্যাম আর একটা সবার উপরে যেটা আপার ড্যাম। যেদিকে তাকাই এক অদ্ভুত মোহময়তা আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। নাম না জানা ফুল গুলো সুন্দরী অযোধ্যার শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই আপার ড্যাম পেরিয়ে পাহাড়ের উপর গ্রাম গুলো দেখতে দেখতে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। পাহাড়ের থেকে নীচে নামতে নামতে দেখছি ভুট্টা আর আঁখের ক্ষেত। সবুজের হিল্লোলে চোখ জুড়িয়ে ওদের বাড়িতে পৌঁছলাম।

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

অন্তহীন – ১ম পর্ব – পার্থসারথি দত্ত

Parthasarathi Dutta
Story by পার্থসারথি দত্ত

প্রেম হোল ঐশ্বরিক সম্পদ। বাংলা বর্ণমালায় এমন কোন শব্দ নেই যা দিয়ে এর যথাযথ মানে বের করা সম্ভব। তাই তা বর্ণনা করার দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা আমি করিনি। শুধু চেষ্টা করেছি এক অব্যক্ত, অন্তহীন প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী মনের প্রেমটাকে আপনাদের চোখের সামনে তুলে ধরার।
রাজা আমার বন্ধু। সহপাঠী নয়। একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করার সুবাদে। আমি কোলকাতার ছেলে। মেদিনীপুর থেকে ডাক্তারী পাশ করে, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে এসেছি পোস্টিং নিয়ে। অবশ্যই ইচ্ছে করে।রড় হয়ে ডাক্তার হবো ও গ্রামের মানুষ দের সেবা করব এটাই ছিল স্বপ্ন। বাড়িতে যখন শুনেছিল আমার পোস্টিং পুরুলিয়া, রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল মা। বাবা যদিও খুব বেশি আপত্তি তোলেন নি। মা’র ধারনা, পুরুলিয়া মানেই মাওবাদীদের মুক্তাঙ্গন। আর আমার যে কোন মুহূর্তে কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই বারবার আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমি যেদিন প্রথম পুরুলিয়ায় আসি মা’ই ছাড়তে এসেছিল।বাড়ির জিনিস পত্র তখন কিছুই আনিনি।
এর আগে একবার আমি এসেছিলাম পুরুলিয়া C. M. O. H অফিসে জয়েনিং লেটার নিয়ে, সেখান থেকে বাঘমুন্ডির পাথরডি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পোস্টিং এ পাঠানো হয়েছে। হাওড়া থেকে আমি আর মা ট্রেনে করে বরাভূম স্টেশনে নামি। এবং সেখান থেকে বাই বাস বাঘমুন্ডি। দুপাশে দুর্ভেদ্য জঙ্গল, আর তার মাঝে ছুটে চলেছে আমাদের বাস।শাল, পিয়াল, পলাশ-মহুয়ায় সাজানো বনানী। রাস্তার পাশে অযোধ্যা পাহাড়ের রেঞ্জ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এতো সুন্দর, এতো সবুজের সমারোহ আমি আগে কখনোই দেখিনি। এখানকার মানুষের ভাষা আদিবাসীদের মতো। আমরা যখন বাঘমুন্ডিতে গিয়ে নামলাম তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পথে। আকাশের বুকে বাদামী রঙের আলো। পাখিদের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা, আর তাদের কাকলিতে মুখরিত প্রকৃতি। জন জীবনে এখানে ব্যস্ততা বা ছুটে চলার প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে।
নেমেই একটা রিক্সো ডাকলাম। কোথায় যাবেন বাবু? বলেই রিক্সাওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন মায়া লাগলো দেখে। অস্তমিত সূর্যের মতোই তার চোখ যেন ডুবতে বসেছে মুখমণ্ডলের অতল গ্বহরে। আমি যখন বললাম, আমি এই গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছি, বুঝতে পারেন নি। ডাক্তার কথাটা শোনার পর বললেন ও, ঐ হাঁসপাতালটার ডক্টর। আমি বললাম হ্যাঁ। খুব খুশি হয়ে বললেন আরে আসুন আসুন। রিক্সোর শিটের ধূলো হাত দিয়ে ঝেড়ে বসতে বললেন। জিজ্ঞেস করলেন আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমি বললাম কোলকাতা। উনি এমন ভাবে তাকালেন যেন অবাক হওয়ার মতো। কইলকাতার ডক্টর হামদের গাঁয়ে? হামদের কি সৌভাগ্য ডক্টর বাবু। কেন? সৌভাগ্য কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম। ডাক্তার জিনিস টা যেন একখানা দেখার জিনিস। উনি সকলকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলেন, আমি কোলকাতার ডাক্তার, ওনাদের এখানের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে এসেছি ।এই অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হোল, আতিথেয়তায় অকৃপণ এখানের মানুষ জন। সরলতা এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মুখের অকৃত্রিম হাসি যেন পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত মা’র মনে যে ভয়, যে সংশয় বাসা বেঁধে ছিল সব যেন একটা পলকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। শুধু আমার মনে একটা প্রশ্ন গেঁথে গেছে। এতো রুক্ষ মাটিতে এত কোমল, হৃদয়বান মানুষের জন্ম হয় কি করে?

✍️✍️চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…✍️✍️

–পার্থসারথি দত্ত

উপহার – ১ম পর্ব – সন্দীপ দে

Sandip Dey
Sandip Dey
[Story by – সন্দীপ দে]
ডাক্তার বাবু আমি আর কতদিন বাঁচতে পারি?
আপনাকে বলেছিলাম যে বাড়ির লোক নিয়ে আসতে। কিছু কথা আছে যেটা আপনাকে বলা যাবে না।
তবুও বলুন না ডাক্তার বাবু।
আপনার বাড়িতে কে কে আছে?
মেয়ে বড় কলেজে পড়ছে। ভেবেছিলাম কলেজ পাস করলেই দেশের ভিটেবাড়িটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়ে দেবো।
আপনি করেন কি?
সামান্য কারখানায় কাজ। খরচ বাঁচিয়ে কিছুই সঞ্চয় নেই। এ রোগের পথ্য কেমন করে জোগাড় করবো সেটাই চিন্তার।
চিন্তা করবেন না। আপনি অনেকদিন বাঁচবেন! হাসপাতালের ঔষধ গুলো নিয়মিত খান। আর রুটিন মাফিক চেকআপ টা করিয়ে যাবেন।
নমস্কার ডাক্তার বাবু আজ চলি আমার আয়ু যেন আপনার আয়ুরেখা তে যোগ হয়।
গল্পের মোড় পরের অধ্যায়ে পাওয়া যাবে…ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

লেবার ট্রেন – ১ম পর্ব – শুভ্রজিত মুদি

Subhrajit Mudi
Subhrajit Mudi
Subhrajit Mudi

লেবার ট্রেন

—শুভ্রজিত মুদি

 ১ম পর্ব, সকাল ৭:০০ ; রামকানালী স্টেশন ভিড়ে ঠাসা । দুই প্ল্যাটফর্মের রামকানালীকে এখন ছোট শেয়ালদহ স্টেশন বলা যেতেই পারে । একে একে মহিলা, পুরুষ, পড়ুয়া, অফিস যাত্রীর ভীড়ে স্টেশন চত্তর আর দেখা যায় না । বার্নপুর, আসানসোল যাবে সবাই । কিছুজন কলেজ পড়ুয়া ছাড়া বেশির ভাগটাই কাজের সন্ধানে সকাল হতেই বেরিয়ে পড়েছে । তাতে পুরুষের ভাগটা বেশি হলেও মহিলারা পিছিয়ে নেই । কিছু কিছু যায়গায় জটলা বেঁধেছে । গোল করে ঘিরে বসে আছে সবাই । কেউ কেউ উচ্চশ্বরে হিসাবের পয়সাটা বুঝে নিচ্ছে । কেউ বা লোক ঠিক করছে সাথে নিয়ে যেতে । এদেরও মোটামুটি অলিখিত দলাদলি চলে । কেউ কেউ বাড়ির চাষ করা শাক-সবজি নিয়ে যাচ্ছে বিক্রি করতে । কেউ পুকুর, বন, পাহাড় থেকে রকমারি ফুল, বেলপাতা, কেঁদু পাতা, কালমেঘের চারা, অনন্তমূল, পদ্মফুল নিয়ে যাচ্ছে শহরের চাহিদা মিটিয়ে নিজের অভাবের সংসারের প্রয়োজন টুকু মেটাতে । কিছু মহিলা পুকুরের ধরা চুনো মাছ, শামুক, শালুক ডাটা নিয়ে যাচ্ছে । কিছু মানুষ কারখানায় কাজ করে । এই কর্মব্যস্ত সকালে ভীড়ের নব্বই শতাংশ মানুষ যাচ্ছে দিন মজুর আর রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে । দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সবার পেশা মোটামুটি স্থির । কিছু অদক্ষ, অনভিজ্ঞ যুবক, পৌঢ় শহর তলির বাবুদের দৈনিক প্রয়োজন মতো কাজ করে । কোনো দিন কেউ ডাকে বাগান পরিষ্কার করতে, কেউ বা ডাকে ঘর পরিষ্কার করতে, কেউ বা ডাকে পাড়ার নালি পরিষ্কার করতে । সবাই যে কাজ পায় এমনটাও নয়, অনেকে ফিরে আসে কাজ না পেয়ে । অনেকে শহরের বড়ো বড়ো ঠিকাদারদের শ্রমিক যোগান দেওয়ার কাজ করে । তাই তাদেরকে ঘিরে ষ্টেশন চত্তরে সবাই অস্থির ভাবে আজকের দিনের কাজ পাকাপাকি করতে ব্যস্ত । অনেক দুর থেকেও মানুষ আসে কাজ করতে, তবে ট্রেনটা ভর্তী থাকে মুলত জয়চন্ডীপাহাড়, বেরো আর রামকানালী ষ্টেশনের কাছাকাছি গ্রামগুলির শ্রমিক দিয়ে । অনেকে এই ট্রেনটিকে ‘লেবার’ ট্রেন বলে । ষ্টেশনের কোলাহলের মাঝেই হঠাৎ সশব্দে বেজে উঠল “বাঁকুড়া থেকে আসানসোল যাওয়ার ট্রেন ২ নং প্ল্যাটফর্মে আসছে ।” এবার দেখলাম সবাই চলাফেরা করতে শুরু করে দিল নিজনিজ অলিখিত দলে যোগ দিতে । ভিড় দেখে বোঝাই যায় না সারাদিন এই স্টেশনটি নিসঙ্গতায় ঝিমিয়ে পড়ে । একাকিত্বতা নিয়ে অপেক্ষা করে পরের সকালের, সেই ‘লেবার’ ট্রেনের । আমি বসে বসে সবটা দেখছি বেশ কিছুদিন ধরে । কারণ আমিও এখন নিত্ত যাত্রী হয়েছি । ট্রেন ঢুকতেই সবাই হুড়হুড় করে উঠে গেল অসহায় ট্রেনে । বেচারা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রোজ এই অত্যাচার সহ্য করে । ট্রেনে উঠার পর ঘাড় ঘোরানোর জায়গা থাকে না । ট্রেনটি অনেক কষ্টে সিটি বাজিয়ে এগিয়ে চলল শহরতলির দিকে । শহরতলির গলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়বে এই ভিড় । আমার সখ্যতা হয়েছে কিছু যাত্রীর সাথে । তারা সবাই রাজমিস্ত্রী, বয়সে আমার দ্বিগুন কেউ বা তিনগুন হবে । চারজনের সিটে অনায়াসে তারা নয় জন বসতে পারে । আমি উঠে ভিড় ঠেলে তাদের কাছে গিয়ে দাড়াতেই একটু পা চেপে আমাকেও বসার জায়গা করে দিল । পিঠের ব্যাগটা রেখে আমিও সানন্দে বসে পড়লাম । জানালায় তাদের টিফিন বোঝাই থলি ঝোলানো । বাড়ীতে পেটভরে খেয়ে এসেছে, সাথে খাবার নিয়েও যাচ্ছে । বাইরে পেটভরে খেতে অনেক টাকা লাগে । সারাদিনের মজুরির এক টাকাও তারা বাজে ভাবে খরচ করবে না । সিটের নিচে তাদের গাইতি, কোদাল, হাতুড়ি, রাজমিস্ত্রীদের বিভিন্ন কাজের যন্ত্রপাতি রাখা । আমার খুব ভালোলাগে এদের সাথে যেতে । প্রথম দিন চুপচাপ এদের সামনে দাড়িয়ে থেকেছি । তাদের নিঃস্বার্থ সরলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে । তাই দ্বিতীয় দিন তাড়াতাড়ি করে তাদের কাছেই গিয়ে উঠেছি । ওদের ট্রেনে জায়গা নির্দিষ্ট । সেখানে গেলেই তাদের পুরো দলটিকে পাওয়া যায় । আমি উঠেই দেখি সমহিমায় তাদের তাসের আসর জমে উঠেছে প্রতিদিনের মতোই । কয়েকজন ‘কামার’ কাকুর সাথে রোজের অভ্যাস মতো লেগে পড়েছে । সে জানালার ধারে চুপচাপ বসে ঘুমোনোর চেষ্টা করলেই মাথায় গাট্টা পড়ে । তারও ভালোই লাগে । তাই হয়তো সে সবার মনোরঞ্জনের জন্য বারবার ঢুলে পড়ে । কয়েকজন আগের দিনের কাজের কথা আলোচনা করছে । তারা শহরের বাবুদের খুব ভালোভাবে চেনে, তাদের বাড়িতে তাদের তদারকিতে কাজের মাঝে তাদের চিনে নিতে শিখে গেছে । তারা মুখ দেখেই বুঝে যায় কতো মজুরি দেবে, কেমন ব্যবহার করবে । সেই সব আলোচনা চলছে । ট্রেনে প্রচন্ড কোলাহল । হঠাৎ পাশে বসে থাকা কামার কাকুর মাথায় গাট্টা পড়তেই সবাই হাহা করে সজোরে হেসে উঠল । কামার কাকুও রোজের মতো চোখ খুলে অবাক হওয়ার মতো করে সবার মুখ গুলোর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কার কাজ । কিন্তু তা বোঝার উপায় নেই । চারজনের সিটে নয়জন বসে, সামনে আরও জনা সাত দাড়িয়ে । কিছুক্ষন সবার মুখের দিকে তাকিয়ে, শুধু ফোগলা দাঁতের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল, “সব শালারা সাট আছে” । ওটা বলতেই আবার সবাই হোহো করে হেসে উঠল, সাথে আমিও । সবাই বোধহয় এটা শোনার জন্যই অপেক্ষা করে থাকে । এদের কাছে এই ঘটনাটা রোজের হলেও ওরা এমন ভাবে উপোভোগ করে যেন আজ প্রথম । এভাবেই চলে তাদের রোজের ট্রেন যাত্রা । যেদিন কোনো একজন আসে না তারা প্রত্যেকে খবর নেয়, কেন আসে নি । কারো বাইরে যাওয়ার থাকলে আগেই জানিয়ে দেয় সে কথা । এটা ওদের ভালোবাসার প্রতিফলন তা বুঝতে আমার অসুবিধা হল না । তারা প্রত্যেকে একে অপরের পরিবারের লোকজনের কথা জানে, একে অপরের প্রয়োজনে পাশে থাকে । খবর রাখে প্রত্যেকের । কিছুদিন পর জানলাম ওরা প্রতিবছর পিকনিক করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সবাই একসাথে । এবারের পিকনিকে আমিও নেমন্তন্ন পেলাম । তবে আমার কাছে ওরা চাঁদা নেবে না, ছাত্র জীবনের ছাড় বোধহয় । আমি না গেলে আমারও ফোন করে খোজ নিয়েছে বেশ কয়েকবার । তাদের প্রতিদিনের সংঘর্ষের জীবনে এতো দায়িত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করেছিল । বার্ণপুর আসতেই অনেকে নেমে গেলে । বেচারা ট্রেনটি প্রানে বেঁচে গেল । অনেক #সভ্য যাত্রী এই #অসভ্য যাত্রীদের চেঁচামিচি, রসিকতা, ঘামে ভেজা গায়ের গন্ধ, টিফিনে ঝোলানো রসহ্যময় খাবার দেখে অনেক অস্বস্তিবোধ করছিল । ট্রেনটা খালি হতেই তারাও হাপ ছেড়ে বাঁচল । তাদের অতৃপ্ত হৃদয়ে কিছুটা শান্তির ছোয়া । লেবার ট্রেনের প্রতিটা সিট, প্রতিটা কোনা এই ‘অসভ্য’ লেবার গুলোকে খুব কাছের থেকে চেনে । প্রান বেরিয়ে যায় যায়, তবুও রোজ তাদের প্রেমে ফিরি ফিরে আসে । আসানসোল আসতেই পুরো ট্রেন ফাকা । যে যার লক্ষে দিনের শেষে কিছু হাসি সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছড়িয়ে গেল । একটা মুল স্রোত থেকে যেন অনেক শাখা প্রশাখা বেরিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে আসানসোলের অলিতে গলিতে । আমিও নেমে হাটতে শুরু করলাম । ফেরার সময় আর দেখা হবে না এদের সাথে । আমাকে আগের ট্রেনেই ফিরতে হবে । আবার অপেক্ষা পরের দিনের । আর সবার মতো আমিও যেন অপেক্ষা করে থাকি আগামী সুর্যের । একটা অকৃত্তিম ভালোবাসা তৈরী হয়েছে এই ভিড়টার জন্য, এই অসভ্য লোকগুলোর জন্য ।

চলবে…. ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান…

—শুভ্রজিত মুদি